শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বৃহত্তর ঐক্যজোট : নতুন মেরুকরণের অপেক্ষা

  • আপলোড তারিখঃ ০২-১০-২০১৮ ইং
বৃহত্তর ঐক্যজোট : নতুন মেরুকরণের অপেক্ষা
ডেস্ক রিপোর্ট: জনসভার পর এবার রাজনীতির নতুন মেরুকরণের অপেক্ষায় আছে বিএনপি। দলটি মনে করছে, এক সপ্তাহের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যপ্রক্রিয়ার কাজ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। বিশেষ করে ড. কামাল হোসেন দেশে ফেরার পর গঠন করা হবে বৃহত্তর ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটি। এরপর সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হবে, হয় একমঞ্চ থেকে নয়তো যুগপৎ কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জনসভায় বিএনপির ঘোষণার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি দেশের জনগণ অপেক্ষায় ছিল। এখন শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।’ তিনি আরো বলেন, ‘আশা করছি, উদারপন্থী দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যের মেরুকরণ এখন সময়ের অপেক্ষা।’ তাঁর মতে, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে বৃহত্তর ঐক্যপ্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়ে আছে। গত রবিবার বিএনপির উত্থাপিত সাত দফা দাবি গত ২২ সেপ্টেম্বর যুক্তফ্রন্টের তিনটি দল ও গণফোরামের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার উত্থাপন করা পাঁচ দফা দাবির অনুরূপ। এর মূল কথা হলো সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন। অন্য দলগুলো বিরোধী দলের সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার চায়। এ ক্ষেত্রে বিএনপি শুধু খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি যোগ করেছে। গত ২৮ আগস্ট ঘোষিত দাবি অনুযায়ী বাম দলগুলোও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ চাইছে। চাইছে সব দল ও মতের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকার গঠন এবং ইভিএম বাতিল। তবে এ দলগুলো এখনো স্বতন্ত্র অবস্থানে আছে এবং বলেছে যে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মতো কোনো দলের সঙ্গে তারা জোট করবে না। ড. কামাল হোসেনের আগামী ৫ অথবা ৬ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা। সম্প্রতি চিকিৎসার জন্য তিনি ব্যাংককে গেছেন। তা ছাড়া গণফোরামের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া এবং বিকল্পধারা, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্ট গত রবিবার পর্যন্ত বিএনপির ঘোষণার অপেক্ষায় ছিল। রবিবার জনসভায় দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সাত দফা দাবির তফসিল ঘোষণার আগেই বাস্তবায়ন চেয়েছে বিএনপি। এ ছাড়া সুশাসনের জন্য ১২ দফা লক্ষ্যও ঘোষণা করেছে দলটি। তবে জনসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে উদারপন্থী দু-একটি দলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আবার বিকল্পধারা বলছে, বিএনপির দেওয়া দফা ও ঘোষণাগুলো তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে। যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপির দফা ও লক্ষ্যগুলো আমরা ভালো করে পর্যবেক্ষণ করছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সংসদে, মন্ত্রিসভায় এবং প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য চাই। বিএনপির ঘোষণায় এগুলো কিভাবে আছে সেটি ঐক্যপ্রক্রিয়া এবং যুক্তফ্রন্টের দেওয়া ঘোষণার সঙ্গে মিলিয়ে দেখব।’ এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সব দলের দাবি ও লক্ষ্যগুলো নিয়ে বসে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’ নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বিএনপির দফাগুলো ঠিকই আছে। অনেকগুলোই যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে কমন।’ তিনি আরো বলেন, ‘মেরুকরণের কথা তো আগেই আমরা বলেছি, কিন্তু এখন তাদের বুঝতে হবে তারা ঐক্য করতে চায়, নাকি একা থাকবে।’ বিএনপির তিন নেতার বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে মান্না বলেন, ‘দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বিএনপি ছাড় দেওয়ার কথা বলেছে। এখন যদি মনে হয় আমাদের ভ্যালু (মূল্য) আছে, তাহলে ছাড় দিয়ে বিএনপি ঐক্য সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যদিও আমি মনে করি, ঐক্যপ্রক্রিয়ার মেরুকরণ দ্রুতই সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’


কমেন্ট বক্স
notebook

জীবননগর সীমান্তে ৫৮ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় সিরাপ ও কীটনাশক জব্দ