চুয়াডাঙ্গায় পরকিয়ার প্রতিবাদ করায় গৃহবধূকে নির্যাতন!
- আপলোড তারিখঃ
২৭-০৯-২০১৮
ইং
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার শান্তিপাড়ার স্বামীর পরকিয়ার প্রতিবাদ করায় গত ২দিন যাবৎ গৃহবধূর উপর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধুর দামুরহুদা ইপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের হরিরামপুর গ্রামের সাজিবারের স্ত্রী ও চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার শান্তিপাড়ার মৃত মান্নান মিস্ত্রীর মেয়ে রেহেনা খাতুন (৩৫)। শ্বশুর বাড়িতে আটকা থাকার পর ২৫ তারিখ পালিয়ে বাপের বাড়িতে চলে আসলে পরিবারের সদস্যরা গতকাল বেলা ১২টার দিকে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, বিশ বছর পূর্বে চুয়াডাঙ্গা সদর ইপজেলার শান্তিপাড়ার মৃত মান্নান মিস্ত্রীর মেয়ে রেহেনা খাতুনের সাথে বিয়ে হয় দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের হরিরামপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে সাজিবারের (৪৫) সাথে। বিয়ের পর থেকেই অশান্তি লাগাসহ নির্যাতন হয়েই আসছে রেহেনা খাতুনের উপর। স্বামীর অন্য মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক আছে বলে সন্দেহও ছিল রেহেনার। কয়েক বছর পর সজিবার গোপনে অনত্র বিয়েও করে। রেহেনার পদক্ষেপেই সেই বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। একে একে চার সন্তানের জন্ম হয়। তবুও সাজিবারের স্বভাবের পরির্বতন হয়নি বলে জানায় রেহানা। গ্রামেই পরকিয়ার সাথে জড়িয়ে পরে সাজিবার। জেনে যায় রেহানা, শুনে ফেলে গোপনে স্বামীর ফোন আলাপ। প্রতিবাদ করায় রেহানার উপর নির্যাতন শুরু হয়। একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি হয় গত ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়। স্বামীর গোপনে ফোন আলাপ শুনে ফেলে রেহানা। প্রতিবাদ করায় বেধরক মারপিট করে রেহেনাকে এমনকি ঘরে আটকে রাখে তাকে। তবে গত ২৫ সেপ্টেম্বর রেহানা কৌশলে পালিয়ে যায় বাপের বাড়িতে। গতকাল সকালে রেহানার পরিবারের সদস্যরা তাকে অসুস্থ অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নির্যাতনের শিকার রেহানা সাংবাদিকদের বলে, দীর্ঘদিন ধরেই তার স্বামী সাজিবার গোপনে প্রেম আলাপ করে এক মেয়ের সাথে। একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি হয় গত ২৪ তারিখ সন্ধ্যায়, আমার স্বামী মোবাইলে কথা বলছিল শুনেই বুঝা যায় সে অন্য মেয়ের সাথে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। আমি তার প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকে গালিগালাজ করে ও চুল ধরে, লাথি মেরে ও বাশঁ দিয়ে আমাকে অমানবিক নির্যাতন করে। এ সময় সাজিবারকে উস্কে দেয় আমার শ্বাশুরী শাহিদা খাতুন ও মামাত ভাশুর আইন উদ্দীনের ছেলে বগা। সেদিন রাতে আমাকে অনেক মারধরের পরেও পরদিন সকালে আমাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনাও করে তারা। প্রাণের ভয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে পালিয়ে চলে আসি আমার বাপের বারিতে। এ খবর লেখা পর্যন্ত রেহানার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করার পরিকল্পনা চলছিল।
কমেন্ট বক্স