চুয়াডাঙ্গায় ভিন্ন আয়োজনে ধান কাটলো শিক্ষার্থীরা
- আপলোড তারিখঃ
১৮-০৯-২০১৮
ইং
মেহেরাব্বিন সানভী: `মাঠজুড়ে সোনালি ধান। কেউ কাটছেন, কেউ আঁটি বাঁধছেন। কেউ কেউ আঁটি করা ধান নিয়ে যাচ্ছেন বাড়ির উঠোনে। দম ফেলার ফুরসত নেই কারও। মহাব্যস্ততায় দিন কাটছে কৃষকদের। মাঠে মাঠে যেন শুরু হয়েছে ধান কাটা উৎসব। কোনো জমিতে হাওয়ায় দুলছে সোনালি ধানের শীষগুলি। এ এক অপরূপ দৃশ্য।` কথাগুলো এখনকার অনেক ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেই যেন বইয়ের পড়া অথবা শোনামাত্র গল্প। যদিও আধুনিকতার ছোয়া ও নতুন নতুন কৃষি সরঞ্জাম ব্যবহার করার কারণে দিন দিন বাড়ছে বাংলাদেশে ফলনের হার তবুও নতুন প্রজন্মের পুঁথিগত বিদ্যা আর এন্ড্রয়েড ফোনের মধ্যে মাথা দিয়ে থাকার কারণে বাঙালীর এই ঐতিহ্য জানতে পারছে না তারা। এমন পরিস্থিতিতে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ওয়াশীমুল বারী’র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ভিন্নধর্মী ধান কাটা উৎসবের। গতকাল সোমবার সকালে চুয়াডাঙ্গার আলুকদিয়ায় এক আন্দঘন পরিবেশে `হাতের কাজের` অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে ধান কাটা উৎসব করে মাঠ চেনালেন ও ধান কাটালেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ওয়াশীমুল বারী। আনন্দের সাথে এই উৎসবটিকে উপভোগও করেছেন শিক্ষার্থীরা। করবেই বা না কেন বাঙালীর ঐতিহ্য ভুলে গেলে তো চলবে না। এসময় অসাধারণ এই উৎসবে শিক্ষার্থীদের সাথে ধান কাটতে অংশ নেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ওয়াশীমুল বারী নিজে। তার মতে, অত্যাধুনিকতার এই যুগে এন্ড্রয়েড সমাজের শিক্ষার্থীরা খেলার মাঠের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। সেই সাথে কৃষিনির্ভর এই দেশের ঐতিহ্য কৃষকের মাঠকেও তারা ভুলে যাচ্ছে। এই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে তারা শেকড়ের সন্ধান করবে, কৃষি প্রধান দেশে কৃষিকে ভুলে গেলে চলবে না। হাতে কলমে শিক্ষা দেয়াটাও অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন আলুকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইসলাম উদ্দীনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
কমেন্ট বক্স