দর্শনা অফিস: দর্শনা শ্যামপুর মোয়াজ্জেম হোসেন হাফিজিয়া মাদ্রাসায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক কর্তৃক নির্মমভাবে ছাত্র নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তে শিক্ষক হাফিজুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় সঠিক বিচার পেতে একটি লিখিত অভিযোগ করেছে ছাত্রের পরিবার। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দর্শনা পৌর এলাকার শ্যামপুর গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেন হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদের দিয়ে গ্রামের বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে পাটখড়ি তুলতে নিয়ে যাচ্ছিল। এসময় একই গ্রামের জোড়াবটতলা পাড়ার রমিজ উদ্দিনের ছেলে সাজিদুল ইসলাম (১১) পাটখড়ি তুলতে যাওয়ায় অপারগতা প্রকাশ করলে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ হাফিজুর রহমান পূর্বের রাগের জের ধরে গামছা দিয়ে ছাত্র সাজিদুলের হাত বেধে বেধড়ক পেটাতে থাকে। পেটাতে পেটাতে তার মাজা থেকে পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত ৪০টি বেত্রাঘাত করে এবং বলে কারণে অকারণে তোর পিতার কাছে ও কমিটির কাছে বিচার দিস আজ তোকে মেরে ফেলবো। এসময় ছাত্র সাজিদুলের আর্তচিৎকারে মাদ্রাসার পাশের বাড়ির কয়েকজন মহিলারা ছুটে গেলে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক জোনায়েদ হোসেন দরজা বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে সাজিদুলকে একটি ঘরে আটকে রাখে। পরে যোহরের নামাজের সময় সাজিদুলের পিতা একই মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় সাজিদুলকে ডাক দিলে সে খোঁড়াতে খোঁড়াতে এসে পিতার সাথে ঘটনার বিবরণ বলে। এসময় বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ফুঁসে ওঠে এলাকার সাধারণ জনতা। পরবর্তীতে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষক হাফিজুলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এসময় সাজিদুলের অবস্থা দেখে তার পিতা দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় চিকিৎসা দিতে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে নিয়ে আসে।

সাজিদুলের পরিবার জানায়, হয়তো উন্নত চিকিৎসা দিতে বাইরে নিয়ে যেতে হবে। এবিষয়ে প্রধান শিক্ষক জানায়, আমি ঘটনা ঘটার কিছু সময় ছিলাম। আসলে একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গেছে। তিনি নিজেই এ ধরনের নির্যাতনের ভুল স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, গ্রাম থেকে পাটখড়ি আনতে যাওয়ার সময় একই মাদ্রাসার হাফেজ পড়–য়া গাফ্ফার সামের একটি ছেলের সাথে সাজিদুলের ঠেলাঠেলি হয়। এসময় শিক্ষক হাফিজুলের কাছে ওই ছাত্র অভিযোগ দিলে তাকে এ ধরনের নির্মম নির্যাতন করে শিক্ষক হাফিজুল। এ বিষয়ে মাদ্রসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাহবুব-উল-হক খোকন বলেন, ঘটনার কথা শুনে ও জনগনের ফুঁসে ওঠা দেখে নতুন করে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে তার বিচার করা হবে। এ বিষয়ে শিক্ষক হাফিজুলের সাথে কথা বললে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস বলেন, এ ধরনের একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।