জাহিদুল ইসলাম মামুন: দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার হয়নি জীবনগরের সন্তোষপুর-আন্দুলবাড়ীয়া প্রধান সড়কের। যার কারণে বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে মারাত্মক ভাঙন। সন্তোষপুর-আন্দুলবাড়ীয়া সড়কের মূল রাস্তায় জলাবদ্ধতার কারণে জনসাধারন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত এই সড়কটি সংস্কার না করায় অব্যাহত ভাঙন ও ছোট বড় অসংখ্য গর্তের জন্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। মাঝে-মাঝে রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে খোয়া বের হয়ে আছে। যার ফলে বর্তমানে বিপদজ্জনক হয়ে পড়েছে। জন গুরত্বপূর্ণ এ সড়কটি জীবননগর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজার-হাজার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। সড়কের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক ভাঙন ও সন্তোষপুর-আন্দুলবাড়ীয়া সড়কের মাঝামাঝি দেহাটি গ্রামের মেসার্স পিয়াস ফিলিং স্টেশনের সন্নিকটে, দেহাটি বাজার জামে মসজিদের সামনে, কনটেক কন্সট্রাকশন মিলের অদুরে গুপ্ত পীরের মাজারের সামনে, সন্তোষপুর কোল্ডস্টোরেজের সামেন, আন্দুলবাড়ীয়া- দেহাটি নিকারীপাড়া আমিনীয়া দারুল উলূম কওমী মাদরাসার সামনে, আন্দুলবাড়ীয়া মিস্ত্রিপাড়া এলজিইডি গোডাউনের সামনে, আন্দুলবাড়ীয়া বহুমূখী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সন্নিকটে প্রধান সড়কে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার ফলে এলাকাবাসীসহ প্রতিনিয়ত চলাচলকারী যাত্রীসাধারন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
সরেজমিনে পরির্দশনকালে দেখা গেছে, বর্তমানে এ সড়কের পৃথক-পৃথক স্থানে বিশেষ করে সন্তোষপুর-আন্দুলবাড়ীয়া সড়কের মাঝামাঝি দেহাটি গ্রামের মেসাস পিয়াস ফিলিং স্টেশনের সন্নিকটে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় হাফ কিলোমিটার পর্যন্ত এক হাঁটু সমান পানি জমে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে । ফলে জনসাধারনের পায়ে হাঁটাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে । সড়কটি তার নিজস্ব অস্তিত্ব হারিয়ে যেতে বসেছে। রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙ্গা সড়ক দিয়ে হাজার-হাজার মোটর সাইকেল, বাইসাইকেল, আলমসাধু, করিমন, নছিমন, পাওয়ারটিলার, ঢাকা পরিবহন বাস, লাটাহাম্বার, ভারী মালবাহী ট্রাক ও মিনি পিকাপসহ যাত্রী ও বিভিন্ন মালামাল বহনকারী যানবাহন চলাচল করছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদরাসাগামী ছাত্র-ছাত্রী ও মসজিদের যাতায়াতকারী ধর্মপ্রাণ মুসল্লীগণ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। বড় ধরনের গর্ত হওয়ায় পানি জমা হয়ে গাড়ি আটকা পড়ে গভীর গর্তের মধ্যে উল্টেপড়ে । যার ফলে দূর্ঘটনায় নিহত, আহত হয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। অনেকেই মারাত্মকভাবে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব ও অভিশপ্ত জীবনযাপন করছেন। এ সড়ক পাঁকাকরণের পর দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় জনসাধারনের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের দাবি জরুরী ভিত্তিতে সড়কটির সংস্কার করা হোক।
একাধিক ব্যক্তির সাথে আলাপকালে এ সড়ক চলাচলকারী সন্তোষপুর মিশুক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও চালক আনারুল ইসলাম, আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামের আলমসাধু চালক উজ্জল হোসেন, মোটরসাইকেল চালক ও আন্দুলবাড়ীয়া কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক আলমগীর কবির, ট্রাক মালিক সমিতির উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি মোস্তফা আমজাদ সাইদুর বলেন, বড় বড় গর্ত আর ভাঙনের কারণে আমাদের এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। পানি এবং বড় বড় গর্ত থাকায় আমদের গাড়ি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

কেডিকে ইউপির সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার খাসিয়ার রহমান মিঠু, দুলুরুদ্দীন দুলাল, আন্দুলবাড়ীয়া বাজার কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিদুল ইসলাম মধু, আন্দুলবাড়ীয়া বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ মিয়া, জামিরুল খান, সাবেক ইউপি মেম্বার আব্দুল ওয়াহেদ, আজিম খান, নুরুল আলম মুক্তি বলেন, এ সড়ক দিয়ে বিভিন্ন কলেজ ও মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, চাকরিজীবি, শ্রমিক সকল শ্রেণী পেশার হাজার-হাজার মানুষ, যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহন যাতায়াত করে। এতে যাত্রী, চালক ও যানবাহনের সীমাহীন সমস্যা হচ্ছে। রাস্তাটির বেহাল অবস্থার কারণে অধিকহারে আমাদের পরিবহন ভাড়া বহন করতে হয়। জরুরীভাবে সড়কটির সংস্কার কাজের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তারা জোর দাবি জানান।
আন্দুলবাড়ীয়া মিশুক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মীর শহিদুল ইসলাম খোকন বলেন, আমরা মিশুক শ্রমিক ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে একাধিকবার উক্ত রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ইট, খোয়া ও ইটের ঘিষ দিয়ে সাময়িকভাবে মেরামত করি।
এ ব্যাপারে কেডিকে ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুল বাশার শিপলু এ প্রতিবেদককে জানান, সম্প্রতি উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভায় রাস্তাটির বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। তিনি আরো বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা ও উপজেলা প্রকোশলী রাস্তাটি দ্রুত মেরামত বা সংস্কারের জন্য অবগতি করেন।
আন্দুলবাড়ীয়া ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তার এ প্রতিবেদককে জানান, এ রাস্তাটি দ্রুত কাজ করার জন্য চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগর টগর প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন। জীবননগর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু মো: আব্দুল লতিফ অমল, ভাইস চেয়ারম্যান হাজী হাফিজুর রহমান হাফিজ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা এ সড়কটি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। তিনি আরো বলেন, আমার পক্ষে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সবকিছু করা হয়েছে। আশা করি এ সড়কর মেরামত কাজ শিগগিরই আরম্ভ করা হবে।