সৌর বিদ্যুতের বাতিতে গ্রামীণ সড়কে শহরের ছোয়া!
- আপলোড তারিখঃ
১০-০৭-২০১৮
ইং
মেহেরাব্বিন সানভী/খাইরুল কবির দিনার: `১০ বৎসর দামুড়হুদা থেইকে সাইকেল ঠেলে বাড়ি যায়। আগে আত (রাতে) যাতাম যকন সমেস্যা হইতো। অন্দকারে যাতি ভয়ও করতো। কিন্তু কি আর করার যাতি তো হবেই। কাজ করে খাতি হয়। তা ইদানিং রাস্তার ধারে ওই নাইটগুনো দিইয়ে বেশ ভালোই হয়িচে। ছিনতাই টিনতাই তেমন আর হয়ও না। আবার বুদ্দি কইরে গোরস্তানের পাশেও দিয়িচে। আগে ডর নাগতো একন আর তেমন নাগে না।` এমনই হাস্যজ্বল অভিব্যাক্তি ছিলো চায়ের দোকানী রহমত আলীর। দামুড়হুদা বাজারে চা বিক্রি করে রহমত। কাজ শেষ করে রাতে বাড়ি ফেরে সে। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সৌর বিদ্যুতে জ্বলা সড়ক বাতিগুলো সম্পর্কে।
হ্যাঁ, এমনই প্রশংসনীয় হাস্য উজ্বল অভিব্যাক্তী জানা গেল দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সেই সকল মানুষের কাছে যারা সন্ধ্যার পর সৌর বিদ্যুতে জ্বলে থাকা সড়ক বাতির সুবিধাপ্রাপ্ত সাধারণ মানুষ। কেনই বা শোনা যাবে না, সৌর বিদ্যুতের আলোয় ঝলমল করছে দামুড়হুদা উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন স্থান সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে সংক্রিয়ভাবে জ্বলে উঠছে এসব সৌরবাতি। এতে করে চাপ কমছে বিদ্যুতের। লোডশেডিং’র ঝামেলা না থাকায় রাতে চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে না সাধারণ মানুষের। সৌর বিদ্যুতের এই লাইটগুলি একটানা আলো দেয় সারারাত।
সরেজমিনে ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর, নতিপোতা, কার্পাসডাঙ্গা, কুড়–লগাছী, পারকৃষ্ণপুর-মদনা, হাউলী, দামুড়হুদা, নাটুদাহসহ ৮টি ইউনিয়নের উজিরপুর, লোকনাথপুর, কার্পাসডাঙ্গা, আটকবর, জগন্নাথপুর, চারুলিয়া, হেমায়েতপুর, হোগলডাঙ্গা, জুড়ানপুর, ছালাহর মাঠ, ভালাইপুর, ছালাহর মাঠ, কার্পাসডাঙ্গা, দামুরহুদা, ভালাইপুর, রামনগর, কলাবাড়ী, গোপালপুর, দলিয়ারপুর, মজলিসপুর, রামনগর, সুলতানপুর, ঝাঝাডাঙ্গা, বড়বলদিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর কর্তৃক গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় ২ কোটি ৮১ লাখ ৮৮ হাজার ৫’শ টাকা ব্যয়ে প্রায় ৫শ’ টি পয়েন্টে সোলার প্যানেলের বাতি বসানো হয়েছে। আরো ৫শ’ টি বসানো হবে। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল হাসানের উদ্যোগী ভুমিকার কারণে গত অর্থ বছর এবং এবারের অর্থ বছরে টিআর, কাবিখা এবং কাবিটা প্রকল্পের মাধ্যমে এ সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এই সৌর বাতি বসানোর ক্ষেত্রে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল হাসান নিয়েছেন সুচিন্তিত পরিকল্পনা। তিনি খোঁজ নিয়েছেন পুলিশ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, দোকানী, শিক্ষার্থী, চাকরীজিবী, জনপ্রতিনিধি তথা সর্বস্তরের মানুষের কাছে। এরই ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান, হাটবাজার, মোড়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সামনে তথা উপযুক্ত স্থানে বসানো হয়েছে এই পরিবেশবান্ধব সৌর সড়কবাতি।
একসময় দামুড়হুদা উপজেলার এসব এলাকার মানুষ সড়ক বাতির সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল, সন্ধ্যা হলেই গ্রামগুলিতে নেমে আসতো ভুতুড়ে অবস্থা। বর্তমানে পাল্টে গেছে গ্রামগুলির রাতের চিত্র। এ আলোর কারনে এলাকায় কমে গেছে চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা। পাল্টে গেছে গ্রামের মানুষের জীবনও। গ্রামীন জীবনেও লেগেছে শহরের হাওয়া। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়নের আওতায় সড়ক বাতি স্থাপনে বিশেষ উদ্যোগী হয়ে সহযোগীতা করছেন জাতীয় সংসদের সদস্য চুয়াডাঙ্গা দুই আসনের সাংসদ হাজী আলী আজগর টগর।
এ ব্যাপারে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল হাসান দৈনিক সময়ের সমীকরণ’র এই প্রতিবেদকে জানান, চুয়াডাঙ্গা দুই আসনের সাংসদ হাজী আলী আজগর টগরসহ স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের সহযোগীতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় সৌর বিদ্যুতের এ সড়ক বাতি বসানো হচ্ছে। পরিবেশ বান্ধব, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ এই সৌর-বিদ্যুত বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করায় মানুষের চলাচল করতে সুবিধা হচ্ছে। আমার পরিকল্পনা আছে দামুড়হুদা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এক হাজার পয়েন্টে এই সৌর সড়ক বাতি বসানোর।
কমেন্ট বক্স