বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জীবননগরে অপরিপক্ক আম পাঁকাতে ব্যবহার হচ্ছে অধিক কার্যকর বিষ

  • আপলোড তারিখঃ ২৫-০৫-২০১৮ ইং
জীবননগরে অপরিপক্ক আম পাঁকাতে ব্যবহার হচ্ছে অধিক কার্যকর বিষ
জীবননগর অফিস: জীবননগরে কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই অপরিপক্ক আম পাঁকাতে ব্যবহার করা হচ্ছে অধিক কার্যকর ক্ষতিকারক বিষ। গত ১৪ মে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিপক্ক ও বিষমুক্ত আম প্রাপ্তির লক্ষ্যে জাত ভিত্তিক আম সংগ্রহ করার সময় বেঁধে দিয়ে আমবাগান মালিক ও আম ব্যবসায়ীদেরকে এক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে ১৮ মে থেকে গোপালভোগ, আটি ও গুটি আম, ২৮ মে থেকে হিমসাগর, ৫ জুন থেকে ল্যাংড়া, ২০ জুন থেকে ফজলী, ২২ জুন থেকে আ¤্রপালি এবং ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা আম সংগ্রহ করা যাবে। ওই নির্দেশনা আরো বলা হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে অপরিপক্ক আম পাড়া যাবে না এবং কোনো রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে আম পাঁকানো বা সংরক্ষন করা যাবে না। কিন্তু উপজেলার আমবাগান মালিকরা এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ওই নির্দেশনার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শণ করে অপরিপক্ক আম পেড়ে তাতে অধিক কার্যকর বিষ ব্যবহার করে তা পাঁকাচ্ছে। বিষ ব্যবহারের কারণে ওইসব অপরিপক্ক পাঁকা আম উপরে লাল রঙের হলেও ভেতরে একবারে কাঁচা। অধিক কার্যকর বিষ দিয়ে পাঁকানো অপরিপক্ক আম উপজেলার অধিকাংশ বাজারে ১৫ দিন আগে থেকেই পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে জীবননগরে আম পাঁকাতে এখন আর বিষাক্ত কার্বাইড ব্যবহার করা হচ্ছে না। আম পাঁকাতে কার্বাইডের থেকে অধিক কার্যকর ইতোফোন গ্রুপের বিষ রাইপেন, গার্ডেন, রাইজার, ক্রপম্যাক্স ও প্রমোট ব্যবহার করা হচ্ছে। ফুল ও ফল অধিক পরিমাণে ধরতে, ফলের আকার বড় এবং ফলন অধিক পরিমাণে বৃদ্ধি করতে ইতোফোন গ্রুপের বিষ উৎপাদন করা হলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা বর্তমানে অপরিপক্ক আম পাঁকাতে এ বিষ ব্যবহার করছে। এ বিষ ব্যবহারে রাতারাতি কাঁচা ফল পেঁকে তাতে লাল রং চলে আসছে। ভেতরে কাঁচা থাকলেও উপরে লাল রং আসার কারনে অসাধু ব্যবসায়ীদের নিকট এখন কার্বাইডের থেকে ইতোফোন গ্রুপের রাইজার ও ইথেরন গ্রুপের ক্রপম্যাক্স জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ১শ’ টাকা মূল্যের মাত্র ১ বোতল বিষে ৫০ মন আম পাঁকানো সম্ভব। খুচরা আম ব্যবসায়ীরা জানান, অসময়ে গাছ থেকে কাঁচা আম পেড়ে তা দ্রুত পাঁকাতে এবং লাল রং আনতে এ বিষ মেশানো হচ্ছে। রং দেখিয়ে খরির্দ্দার আকৃষ্ট করতে বাগান মালিক এবং আম ব্যবসায়ীরা অনেকটা নির্দ্ধিদায় মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ বিষ আমে মাখিয়ে তা বাজারজাত করছে। উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের নাম প্রকাশে অচ্ছিুক আমবাগান মালিক জানান আম, কলা ও লিচুতে ভাল রং আনতে ইতোফোন জাতীয় বিষ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলের রং ভাল হলে বাজারের চাহিদা এবং দামও বেশি। জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম জানান বিষ মিশ্রিত এসব ফল খেয়ে মানুষের পেট, লিভার, যকৃত ও কিডনির মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সেলিম রেজা বলেন অভিযোগ পেলে অসাধু এসব আমবাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এদিকে অসাধু অর্থলোভী আম ব্যবসায়ীদের এহেন কান্ড দেখে এলাকার সাধারন মানুষ হতবাক।


কমেন্ট বক্স
notebook

সীমান্তে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পৃথক অভিযানে ১৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল জব্দ