বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জীবননগরে পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে কৃষকরা!

  • আপলোড তারিখঃ ২২-০৫-২০১৮ ইং
জীবননগরে পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে কৃষকরা!
জাহিদ বাবু/ মিঠুন মাহমুদ: পাট বাংলাদেশের সোনালী আঁশ হিসাবে পরিচিত। কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশের চাষীদের জন্য পাট ছিল অধিক লাভজনক একটি চাষ। বৈশাখ এলেই মাঠজুড়ে চাষ হতো সোনালী আঁশখ্যাত পাট। চাষীরা অতি আনন্দের সাথেই প্রতি বছর মেতে উঠতো পাটচাষে। বাংলাদেশে উৎপাদিত পাট দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হতো বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে। কিন্তু কয়েক বছর আগের তুলনায় বর্তমানে পাটচাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে কৃষকরা। কৃষক বলছে পাটের উৎপাদন খরচ বেড়েছে দিগুণ কিন্তু এ তুলনায় বাড়েনি বাজার মুল্য। তাই প্রতি বছর চাষীকে দেখতে হয় ক্ষতির মুখ। জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যনুযায়ী ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে উপজেলার ২২০০ থেকে ২২৫০ হেক্টর জমিতে পাটচাষ হলেও ২০১৮ অর্থবছরে কমে দাড়িয়েছে ৬০০ থেকে ৭০০ হেক্টরে। যা বিগত ১০ বছরের তুলনায় এ বছরে সবচেয়ে কম চাষ হচ্ছে পাট। উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের পাট চাষী জমসেদ আলী, নুর হোসেন, রঘুনন্দনপুরের ওসমান ও কাশিপরের ইয়াছিন হোসেন বলেন, পাট চাষ করতে বর্তমানে একবিঘা জমিতে বীজ, সার, সেচ, কাঁটা বাধাসহ হারভেস্ট করে ঘরে তুলতে খরচ হয় ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা। কিন্তু একবিঘা পাটে ফলন হয় ৮ থেকে ১২ মন। যার বাজার মুল্য প্রায় খরচের সমান। তাই পাট চাষ না করে সবজি চাষের দিকে ঝুকছে চাষীরা। একই অভিযোগ করে সীমান্ত ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের মকবুল, সাগর, হাতেমসহ অনেকে জানান, এখন যে সমস্ত কৃষক পাট চাষ করছে তারা সবাই খড়ির জন্য পাটকাঠির প্রয়োজনে। তাছাড়া পাটে যে পরিমাণে খরচ হয় তা লোকশান ছাড়া আর কিছু নয়। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কমকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, পাট বাংলাদেশের একটি অর্থকারি ফসল। বিদেশে আমাদের দেশের পাটের চাহিদা অনেক বেশি। কিন্তু বর্তমানে পাট চাষ করে খরচের তুলনায় বাজার মুল্য ভালো না হওয়ায় জীবননগর উপজেলার কৃষকরা পাট ছেড়ে আউশ ধান চাষের দিকে ঝুঁকছেন। এ অবস্থায় কৃষকদের পাটচাষে আগ্রহ ফিরিয়ে আনতে হলে পাটের মুল্য বৃদ্ধি করাই একমাত্র সমাধান।


কমেন্ট বক্স
notebook

সীমান্তে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পৃথক অভিযানে ১৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল জব্দ