বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জীবননগরে মাটি ভরাট না করায় কাজে আসছে না দু’টি সেতু

  • আপলোড তারিখঃ ০৯-০৫-২০১৮ ইং
জীবননগরে মাটি ভরাট না করায় কাজে আসছে না দু’টি সেতু
জাহিদ বাবু/ মিঠুন মাহমুদ: জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের মিনাজপুর গ্রামে রফিক শাহের আস্তানার পিছনে অবস্থিত ৪০ ফুট ব্রিজটি কোন উপকারে আসছেনা জনসাধারণের। ব্রিজের দু’পাশে মাটি না থাকায় শুকনো কিংবা বর্ষা মৌসুমে এই ব্রিজের কোন সুবিধা ভোগ করতে পারছে না এলাকার সাধারণ মানুষ। ফলে দুই গ্রামের জনসাধারণের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে সেতুটি। সরেজমিনে দেখা গেছে, জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের কালা গ্রাম হতে পিয়ারাতলা ভৈরব নদীর উপর এবং বাঁকা ইউনিয়নের মিনাজপুর মাঠপাড়া থেকে কাশিপুর মাঠপাড়া রাস্তার ভৈরব নদীর উপর ৪০ ফুট করে একটি করে ব্রিজ নির্মান করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় সেতুটি। সেতুটিতে ২০১৬ সালের ২৫ জুন সংযোগ সড়ক না করেই সংশ্লিষ্ঠ ঠিকাদার চুড়ান্ত বিলসহ জামানত তুলে নেন বলে স্থানীয়ারা অভিযোগ করেন। স্থানীয় সাবেক মেম্বার রুপ মিয়া ও বাবুল আক্তার বলেন, এ এলাকার যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি। তাছাড়া এই সড়কটি দিয়ে দুই গ্রামের শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজে যাতায়াত করে থাকে। শুকনো মৌসুমে বিকল্প রাস্তায় চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি হয় দ্বিগুন। এলাকাটি কৃষিনির্ভর হওয়ায় এখানে ব্যাপক সবজি উৎপাদন হয়। ব্যবসায়ীদের সবজি মৌসুমে বাজারজাত করতে যেমন অসুবিধা হয় তেমনি কৃষি মালামাল বহনেও পড়তে হয় চরম বিপাকে। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তররের অধিনস্থ যে সকল ব্রিজগুলো নির্মান করা হয়ে সে সময় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ব্রিজের দুই পাশে মাটি ভরাটের জন্য ২০ হাজার টাকা বেশি বরাদ্ধ দেওয়া হয়। অনেক সময় দেখা যায়, ওই টাকায় মাটি ভরাট হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে ৪০ দিনের কর্মসৃজনী প্রকল্পের মাধ্যমে মাটি ভরাট করা হয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের প্রধান বলেন, মিনাজপুর গ্রামে নদীর উপর একটি ব্রিজ একান্তই দরকার ছিল। সেটি নির্মাণ হয়েছে ঠিকই কিন্তু যে ব্রিজটি তৈরি হয়েছে এটি জনগনের জন্য একটি দুর্ভোগ ছাড়া আর কিছু না। এ প্রকল্পটি আমার পূর্ববর্তী চেয়ারম্যানের সময় হয়েছিল। সংযোগ সড়কে মাটি ভরাটের বিষয়ে ইতোমধ্যেই অবগত হয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব ব্রিজের দু’পাশে মাটি ভরাটের ব্যবস্থা করা হবে। জীবননগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ভৈরবের উপর যে সমস্ত ব্রিজ নির্মান করা হয়েছে তার দুই পাশে যে পরিমানে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মাটি দেওয়ার কথা তারা তা দিয়েছে। আর যে টুকু বাকি আছে আমরা তা পূরণ করবো। যেহেতু মাটি পাওয়া এখন খুব সমস্যা তা ছাড়াও স্থানীয় জনগনের মধ্যেও অনেক সমস্যা রয়েছে। যারফলে এ ব্রিজ দু’টির মাটি ভরাট করতে একটু সমস্যা হচ্ছে আশা করি খুব শিঘ্রই ব্রিজ দুইটির দুই পাশে মাটি ভরাট করার ব্যবস্থা করা হবে। তথ্যনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলায় যে কয়টি ব্রিজ নির্মান হয়েছে তার মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের একান্ত প্রচেষ্টায় ভৈরব নদী খননের মাটি দ্বারা কালা গ্রামের একটি ব্রিজের অর্ধেক মাটি দেওয়া হয়েছে আর অর্ধেক এখন বাকি আছে। আর যে সমস্ত ব্রিজগুলো আছে সেগুলো অবহেলা আর অবক্ষয়ে পড়ে আছে। আদৌও কি হবে এ সমস্ত ব্রিজ গুলোর দুই পাশে মাটি ভরাট? না কি এভাবেই পড়ে থাকবে। এমনটিই প্রশ্ন স্থানীয় জনগণের।


কমেন্ট বক্স
notebook

সীমান্তে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পৃথক অভিযানে ১৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল জব্দ