বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মহেশপুরে ডাক্তার ও নার্স ছাড়াই চলছে ক্লিনিক!

  • আপলোড তারিখঃ ২২-০৪-২০১৮ ইং
মহেশপুরে ডাক্তার ও নার্স ছাড়াই চলছে ক্লিনিক!
আব্দুর রহিম, দত্তনগর: ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বেশির ভাগ ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোতে সর্বক্ষণ অভিজ্ঞ ডাক্তার, নার্সসহ নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থারও ঘাটতি রয়েছে। নেই চিকিৎসা দেওয়ার মত উন্নত কোন পরিবেশ। অপারেশন থিয়েটার দেখলে মনে হবে গৃহস্থ বাড়ির রান্নাঘর। তার পরেও প্রতি বছর ক্লিনিকগুলোর লাইসেন্স নবায়ন করা হচ্ছে। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলায় ১৮ টি ক্লিনিক ও ৫ টি ডায়াগনিষ্ট সেন্টার রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সুমন ক্লিনিক, বুমিং ক্লিনিক, মর্ডান ক্লিনিক, সালেহা ক্লিনিক, সুভাষ ক্লিনিক, কিওর ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, গ্রীন ল্যাব ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলো চলছে সরকারি নিয়ম নীতি না মেনে। সার্বক্ষণিক এমবিবিএস ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও একজন প্যারামেডিক্যাল ডাক্তার দিয়ে চলছে এই ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোতে সার্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা। কিওর ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনো করতে আসা প্রসূতি শেফালী খাতুন জানান, আমার আল্ট্রাসনো রির্পোটে প্রসব এর তারিখ দেওয়া হয়েছে ২৪/০৫/২০১৮ ইং। কিন্তু দুই মাস আগেই আমার বাচ্চা প্রসব হয়েছে। এই ভুল রির্পোটের কারনে গতমাসে একজন শিশু মারা গেছে। গত ০৮/০৪/২০১৮ তারিখে সুভাষ ক্লিনিকে জলিলপুরের আশাদুলের স্ত্রী গর্ভবতী অবস্থায় সিজার করতে ভর্তি হয় পরের দিন তার একটি পুত্র সন্তান হয় এবং দুদিন পরেই ভুল চিকিৎসার কারনে বাচ্চাটি মারা যায়। ২০১০ (এ সি টি ৬১ অব ২০১০) সেকশন ২২ ও ২৯ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে ন্যূনতম এম বি বি এস অথবা বিডি এস ডিগ্রী প্রাপ্ত ব্যতীত অন্য কেহ তাহাদের নামের পূর্বে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করিতে পারিবে না। কিন্তু এসব সেন্টার গুলোতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্যারামেডিকেল নার্স শ্যামলী খাতুন তার প্রেসক্রিপসনে নামের আগে ডাক্তার লিখছেন। সুমন ক্লিনিকের মালিক অষ্টম শ্রেণী পাশ তিনিও রোগীদের প্রেসক্রিপশন লিখছেন। সুমন ক্লিনিকের আরেক মালিক ডাক্তার মুজিদ এবং মডার্ন ক্লিনিকের মালিক রাতের আধারে রোগীদের অপারেশন করছেন। এসব ক্লিনিক মালিকেরা সিন্ডিকেট করে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেরকে ঠকাচ্ছে। প্যারামেডিকেল ডাক্তার শ্যামলীর সাথে কথা হলে তিনি এসব বিষয়ে কথা না বলে এড়িয়ে যান। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন জানান নতুন করে কোন ক্লিনিকের নবায়ন করছি না। এসব বিষয়ে অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। একজন আইনজীবী জানান, ইচ্ছা করলেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করে জেল জরিমানা করতে পারেন। এলাকাবাসী এসব সরকারী বিধিনিষেধ অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

সীমান্তে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পৃথক অভিযানে ১৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল জব্দ