রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দেশ বরেণ্য কবি সাহিত্যিকদের পদচারণায় মুখরিত শিল্পকলা চত্ত্বর

  • আপলোড তারিখঃ ২৫-০২-২০১৮ ইং
দেশ বরেণ্য কবি সাহিত্যিকদের পদচারণায় মুখরিত শিল্পকলা চত্ত্বর
চুয়াডাঙ্গায় দুই দিনব্যাপী এপার বাংলা ওপার বাংলা সাহিত্য সম্মেলনের উদ্বোধন এসএম শাফায়েত: চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের ৪০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘এসো শিল্পের আগুনে পুড়ে হই, দ্বিধা আর জড়তা ভেঙ্গে মুক্ত হই’ প্রতিপাদ্যে দুই দিনব্যাপী এপার বাংলা ওপার বাংলা সাহিত্য সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা শিল্পকলা একাডেমির মুক্ত মঞ্চে শুরু হয় এ আয়োজন। টানা দুইদিনের অনুষ্ঠান মালার পর আজ রবিবার রাতে শেষ হবে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা। ভারত ও বাংলাদেশ এ দুই দেশের শতাধিক কবি-সাহিত্যিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। শনিবার সকাল ১০টায় শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে পতাকা উত্তোলন ও কবুতর অবমুক্তি করে সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। সম্মেলন উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের সাহিত্যিক ও কবি আনোয়ারা সৈয়দ হক ও ভারতের প্রখ্যাত কথাশিল্পি আবুল বাশার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন, বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা সাংসদ শিরিন নাঈম পুনম ও চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ। পরে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী শহর প্রদক্ষিণ করে মুক্ত মঞ্চের আলোচনা সভায় মিলিত হয়। চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা পর্বে মঞ্চে অতিথি হিসেবে অন্যান্যদের মধ্যে আসন গ্রহণ করেন কবি মাকিদ হায়দার, কবি সুব্রত সরকার, গল্পকার ও কবি পার্থ আচার্য ও কবি আশরাফ আহমদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুন্সী আবু সাঈফ ও মনোয়ারা খুশি। হীরন উর রশিদ শান্ত ও সৌম্যজিতা শ্রুতির নান্দনিক উপস্থাপনায় উদ্বোধকের বক্তব্যে ভারতের প্রখ্যাত কথাশিল্পী আবুল বাশার বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর ভাষা বাংলা। শব্দের ধ্বনি বিশ্লেষণ করেই বাংলা ভাষাকে সেরা ভাষার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু মাত্র ঢাকা বা চুয়াডাঙ্গা দেখে বাংলাদেশ কেমন তা বোঝা সম্ভব না। বাংলাদেশকে বুঝতে হলে আকাবাকা নদীপথ ধরে এগিয়ে যেতে হবে। তবেই বোঝা যাবে বাংলার মা-মাটি ও মানুষ কেমন। নদী মরে গেলেও সে তার অস্তীত্ব রেখে যায়। সেই নদীই বাঙালীর জীবন ব্যবস্থার সন্ধান দেয়। সম্মেলনের প্রথম দিনের কর্মসূচিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা, আলোচনা পর্বসহ আরো ছিল দু’দেশের স্বনামধন্য কবি সাহিত্যিকদের স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর ‘পদধ্বনি’, সম্মাননা প্রদান এবং প্রকাশনা পর্ব। সম্মাননা প্রদান পর্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ১৩ গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট ও উত্তরীয় প্রদান করা হয়। যারা সম্মাননা পেলেন- মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে বিশেষ অবদানের জন্য সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহানকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়। পক্ষে তাঁর পুত্র তৌফিক জাহান তা গ্রহণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদানের জন্য চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাংসদ, জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন সম্মাননা প্রদান করা হয়। ভাষা ও ধ্বনিবিজ্ঞান চর্চা এবং সাহিত্য চর্চায় বিশেষ অবদানের জন্য ড. জীনাত ইমতিয়াজ আলী, সৃজনশীল সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য উম্মে মুসলিমা, সমাজ সাহিত্য ও সংস্কৃতি গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য ড. রবিউল হোসেন, ভাষাবিজ্ঞান চর্চা ও সাহিত্যে গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য ড. মনজুর রহমান, সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য কবি নজমুল হেলালকে সম্মাননা দেয়া হয়। সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে বিশেষ অবদানের জন্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম পিনুর মরণোত্তর সম্মাননা গ্রহণ করেন তার বোন আম্বিয়া খাতুন। এ ছাড়া সমাজসেবায় ও দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে বিশেষ অবদানের জন্য স্বনামধন্য বঙ্গজ তাল্লু গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা হাজি মোজাম্মেল হকের পক্ষে মরণোত্তর সম্মননা গ্রহণ করেন বঙ্গজ তাল্লু গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার ফজলুর রহমান, সিঙ্গাপুর প্রবাসী ধর্ণাঢ্য ব্যবসায়ী সাহিদ ট্রাভেল এন্ড ট্যুরস প্রাঃলিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজী সাহিদুজ্জামান টরিকের পক্ষে সম্মাননা স্মারক, উত্তরীয় ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন দৈনিক সময়ের সমীকরণ’র প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, মিনিস্টার হাইটেক পার্ক ও মাইওয়ান ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম, এ রাজ্জাক খান (রাজ) এবং রাইজিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হাসান খানকে সম্মাননা দেয়া হয়। এ সময় সম্মানিত ব্যাক্তিরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তাদের অনুভুতি প্রকাশ করেন। সন্ধ্যায় একই মঞ্চে ১৩টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব করা হয়। চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি সরদার আল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধক ভারতের প্রখ্যাত কথাশিল্পী আবুল বাশারসহ অতিথিবৃন্দ বইগুলোর মোড়ক উন্মোচন করেন। দীলিপ কুমার আগরওয়ালার অদম্য বাংলাদেশ, সম্ভাবনার বাংলাদেশ ও ডিজিটাল বাংলাদেশসহ অন্যান্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ড. মো. আব্দুর রশীদের ‘কবির চোখে ক্লান্তি; কলমের চোখে ঘুম’, ড. মনজুর রহমানের ‘আর একটি যুদ্ধ’, উত্তম কুমার বড়–য়ার ‘পারমানবিক অস্ত্র মুক্ত বিশ্ব চাই’, ‘আমি আছি তুমি আছো’, ‘গল্পের সেই ছেলে আজ’, হালিদা এদিব হানম’র ‘তখন একটা সময় ছিলো’, আনোয়ার রশিদ সাগরের ‘পাখি এক অষ্টাদশীর নাম’, ‘আকাশ জুড়ে বাজপাখি ছোঁ’, হোসেন মোহাম্মদ ফারুকের ‘ছড়ার দেশে রঙ মিছিল’ ও ‘ছড়ার দেশে বাড়ি’। বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে আলোচনা সভা ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে প্রথম দিনের কর্মসূচী শেষ হয়। আজ সকাল ৯টা থেকে থাকছে স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর, সমকালীন বাংলা সাহিত্যচর্চার সমস্যা ও সম্ভবনা নিয়ে আলোচনা, উন্মুক্ত আলোচনা এবং পুরস্কার বিতরণ।


কমেন্ট বক্স
notebook

সাড়ে ৭ কোটি টাকার ক্রিস্টাল আইস উদ্ধার