রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বিএনপি নেতাকর্মিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত

  • আপলোড তারিখঃ ১৪-০২-২০১৮ ইং
বিএনপি নেতাকর্মিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত
কঠোর অবস্থানে ক্ষমতাসীনরা, কোনো ইস্যুতেই ছাড় নয় : নতুন-পুরনো মামলায় আজ সারাদেশে বিএনপির অনশন কর্মসূচি : রাজধানীতে অনুমতি পায়নি ডেস্ক রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো ইস্যুতেই বিএনপিকে ছাড় না দেয়ার পরিকল্পনা করেছে ক্ষমতাসীনরা। আর এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো ধরনের সংলাপে যাবে না দলটি। সংবিধান অনুযায়ীই জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। শুধু তাই নয়, খালেদা জিয়ার মুক্তির নামে কেউ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজও শুরু করেছে সংশ্লিষ্টরা। যদিও ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের ওপর সরকারের কোনো ধরনের প্রভাব ছিল না। এটি সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়। এবিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, সারা বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় এদেশেও সেভাবে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সংবিধানসম্মতভাবে নির্বাচনকালীন সরকার থাকবে। যে সরকার শুধু নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবে। এই ইস্যুসহ অন্য কোনো ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিএনপিকে অতীতের মতো আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস-নাশকতা আর করতে দেয়া হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ রকম কিছু হলে দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা কঠোর হাতে দমন করবে। কাজী জাফরুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আশা করি, বিএনপি নেতারা আবোল-তাবোল না বকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হবেন। এদিকে, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে আজ বুধবার সারাদেশে অনশন কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে এই অনশন। পূর্বঘোষিত এ কর্মসূচি পালন করবে দলটি। তবে পুলিশের অনুমতির অভাবে গতকাল মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত রাজধানীতে অনশন কর্মসূচির স্থান নির্ধারণ করতে পারেনি বিএনপি। বিকেলে নয়াপল্টনের দলের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুমতি চাইলেও এখনও তারা কর্মসূচির স্থানের কোন অনুমতি দেয়নি। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নির্বাচনের আগে প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপিকে দুর্বল করতে নানা কৌশল নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে খালেদা জিয়াসহ বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাদের পুরনো সব মামলা পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৩০ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে শুরু হওয়া গ্রেফতার অভিযানও অব্যাহত রাখা হয়েছে। এতে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বাচনের প্রস্তুতির পরিবর্তে মামলা নিয়েই আদালতে মামলা-মোকদ্দমা নিয়েই ব্যস্ত থাকবে। কেননা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় এবং তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী মামলার জালে বন্দি। পুরনো মামলার পাশাপাশি নতুন করেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার রায়ের আগে-পরে দলটির কেন্দ্রীয় নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শামসুজ্জামান দুদু, আমানউল্লাহ আমান, নাজিমুদ্দিন আলম, শিমুল বিশ্বাস, আজিজুল বারী হেলাল, হাসান মামুন, সাখাওয়াত হোসেন বকুলসহ অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রায়ের দিনও দেয়া হয়েছে মামলা। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গত রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ৩০ জানুয়ারি থেকে আজ সেদিন পর্যন্ত মোট গ্রেফতারের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপি নেতাদের সময় কাটছে আদালতের বারান্দায়। নির্বাচনের বছরেও তাদের বেশির ভাগ সময় আদালতে কাটাতে হবে। যার সম্পূর্ণ সুবিধা ঘরে তুলবে আওয়ামী লীগ। কেননা ক্ষমতাসীনরা ইতিমধ্যে পুরোদমে প্রচার শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতারা করছেন সাংগঠনিক সফর। নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এজেন্ট প্রশিক্ষণ, ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন, প্রার্থী মনোনয়নের কাজও শুরু হয়েছে। কিন্তু বিএনপি যদি শেষ মুহূর্তে হলেও বিদ্যমান ব্যবস্থায় নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলেও তাদের প্রস্তুতি ছাড়াই নির্বাচনী মাঠে নামতে হবে। এমনকি নির্বাচনী প্রচারণায় তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের জবাবও দিতে পারবেন না তারা। এদিকে খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, তিনি কারাবন্দি হওয়ার পর নতুন করে আরও চারটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। যদিও মঙ্গলবার তা অস্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন এবং আপিল আবেদনের বিরোধিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। গত রোববার দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল এবং জামিন আবেদন করলে দুদক তার বিরোধিতা করবে।


কমেন্ট বক্স
notebook

সাড়ে ৭ কোটি টাকার ক্রিস্টাল আইস উদ্ধার