দামুড়হুদায় ট্রাকের ওভারটেক করায় বিপত্তি : ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে
ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আফজালুল হক: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডের অদূরে তেল পাম্পের সামনে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে রিপন (২৪) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহত রিপন দামুড়হুদা উপজেলার কুড়–লগাছি ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের মাঝেরপাড়ার মজিবরের ছেলে। আজ মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় নাজমুল ও তার খালাতো বোন শাহানাজ নামে দু’জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহত নাজমুল উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের উত্তরপাড়ার আইজালের ছেলে। আহত নাজমুল ও শাহানাজকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা চিৎলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রিপন মোটরসাইকেলযোগে দর্শনা থেকে দামুড়হুদায় আসছিল। পধিমধ্যে দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডের অদূরে তেল পাম্পের নিকট পৌছালে রিপন একটি মিনি ট্রাক ওভারটেক করাকালীন সামনে থেকে আসা নাজমুলের মোটরসাকেলের হ্যান্ডেলের সাথে বাড়ি লেগে রিপন রাস্তায় পড়ে যায়।
এসময় ওভারটেক করা মিনি ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই রিপন মারা যায়। অপর মোটরসাইলেকে থাকা নাজমুল ও তার খালাতো বোন শাহানাজ গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা রিপনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আহত নাজমুল ও শাহানাজকে চিৎলা হাসপাতালে ভর্তি করে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকৎসক রিপনকে মৃত ঘোষনা করেন। রিপন গত দু’বার এসএসসি পরিক্ষায় একটি বিষয়ে অকৃতকার্য্য হওয়ায় এবারের এসএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহন করে। রিপন সরকারী মোবাইল কোম্পানি টেলিটকের চুয়াডাঙ্গার ডিলারসিপের অধীনে দামূড়হুদা উপজেলার শিক্ষানবীশ এসআর পদে গত এক সপ্তাহ আগে যোগদান করে।

এদিকে, রিপনের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। ছেলেকে হারিয়ে মা-বাবা যেন পাগল প্রায়। নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়ায় গতকাল রাতে ঈশার নামাজের পর জানাযাশেষে নিজ গ্রাম চন্ডিপুরে গ্রাম্য কবরস্থানে দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়।
দামুড়হুদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকরাম হোসেন জানান, বুধবার বিকালে দর্শনা-দামুড়হুদা সড়কের দামুড়হুদা তেল পাম্পের সামনে পৌছালে সামনে থাকা একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেলটি কোন সংকেত না দিয়ে পাশ দিয়ে ওভারটেক করতে গেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থেকে আসা একটি ট্রাকের সামনে পড়ে গেলে ট্রাকটির সাথে ধাক্কা খায় এবং ঘটনাস্থলেই রিপন মারা যায়। পরে জেলা প্রশাসকের অনুমতি সাপেক্ষে লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়ায় দাফনকার্যের অনুমতি দেওয়া হয়।