কার্পাসডাঙ্গা আবাসনে অগ্নিকান্ডে পুড়ে গেছে ১০টি বাড়ি : ১০ লাখ টাকার ক্ষতি
ডেস্ক রিপোর্ট: দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ভূমিহীন পাড়ায় (আশ্রয়ন প্রকল্প) ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১০টি ঘর পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। গতকাল বেলা ১২টার দিকে ভূমিহীন পাড়া সরকারী আশ্রয়ন প্রকল্পে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে আবাসনের ১০টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় নগদ টাকাসহ ১০ লাখ টাকা সমমূল্যের মালামালের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে আবাসনের বাসিন্দাদের দাবি প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে আবাসনে হঠাৎ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। কিছু বুঝে উঠার আগেই দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে ১০টি ঘর। এত দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে যে, ১০ টি পরিবারের কেউই সংসারের কোন মালামাল সরাতে পারেনি। তবে একটি ছাগলের মৃত্যু ছাড়া কোন হতাহতের তেমন ঘটনা ঘটেনি। ১০টি পরিবারের তিল তিল করে গড়ে তোলা সংসারের সব জিনিস আগুনে পুড়ে ছায় হয়ে গেছে ভাবতেই পারেনি আশ্রয়ন প্রকল্পের ভূমিহীন মানুষরা। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে কার্পাসডাঙ্গা ক্যাম্প আইসি আসাদ দর্শনা ফায়ার স্টেশনে খবর দেয়। দর্শনা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পানি না থাকায় চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিটকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়। এদিকে, অসহায় ভূমিহীনদের কান্নায় এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠে। অগ্নিকা-ে ওই এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

আবাসনের বাসিন্দা নওশাদ আলীর স্ত্রী পলি খাতুন বলেন, ছেলের চাকরির জন্য রাখা সাড়ে তিন লাখ টাকাও আগুনে পুড়ে গেছে। সেইসঙ্গে পুড়ে গেছে সোনার গহনাসহ বাড়ির আসবাবপত্র। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি আবাসনের বাসিন্দাদের।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল হাসান। এ সময় তাঁরা অসহায় পরিবারদের পাশে এসে দাঁড়ান। ১০টি পরিবারের প্রত্যেককে একটি করে কম্বল ও নগদ ৫০০০ করে টাকা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক। পরবর্তীতে আরও সাহায্য সহযোগিতা করা হবে বলে ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক। উপজেলা প্রশাসন ছাড়াও বিভিন্ন রাজনীতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা অসহায় পরিবারদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাঁধন সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি আবুল কাশেম, ম্যানেজার আলী আজগর সোনা ও সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলামসহ সংস্থার অন্যান্য সদস্যরা। তারা অসহায় ১০ পরিবারের প্রায় ৬০ জন সদস্যকে নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সাহায্যের ঘোষণা দেন। কার্পাসডাঙ্গা ক্যাম্প আইসি আসাদ কার্পাসডাঙ্গা ক্যাম্পের পক্ষ থেকে ১০ পরিবারের মাঝে প্রত্যেকে ৫ কেজি করে চাউল প্রদান করার ঘোষণা দেন। অগ্নিকান্ডে আবাসনের এরশাদ, মমতাজ, ফকু, পলি, মিনজুল, আলমগীর, আমির হোসেন, ফিদু, ছালেহার, ও রেবেকা ঘর পুড়ে ভস্মীভূত হয়।
চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুস সালাম জানান, অগ্নিকা-ের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল। বৈদ্যুতিক সট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তিনি জানান, অগ্নিকা-ে ১০ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সকল সদস্যদের পরিধানের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নাই। তাদের সকলের দাবি সমাজের দানশীল মানুষরা আমাদের সহযোগিতা না করলে ভিক্ষা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা।