চুয়াডাঙ্গা, দামুড়হুদা, জীবননগর থানা ও বেগমপুর ফাড়ি পুলিশের পৃথক অভিযান
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ এক মাদকব্যবসায়ী ও এক মাদকসেবীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো- চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ফার্মপাড়ার আব্দুস সালামের স্ত্রী মাদকব্যবসায়ী নিলুফার ইয়াসমিন (৫০) এবং জ্বিনতলা পাড়ার আমির হোসেনের ছেলে মাদকসেবী সুমন কসাই (৩২)। গতকাল সোমবার বিকালে ও রাতে পৃথক অভিযানে তাদেরকে আটক করা হয়।

জানা যায়, সোমবার আনুমানিক বিকাল ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই আকরাম হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পৌর এলাকার ফার্মপাড়ার নিলুফার ইয়াসমিনের বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ তাকে আটক করা হয়। আটককৃত নিলুফার ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। অপরদিকে, গতকাল রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে এসআই আব্দুর রশিদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে পৌর এলাকার জ্বিনতলা পাড়ার সুমন কসাইকে মদপ্য অবস্থায় আটক করে। পরে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় সোপর্দ করা হয়।
দর্শনা অফিস জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গার বেগমপুরের রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী শওকত ফেনসিডিল সহ গ্রেফতার হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকালে শওকতের বাড়ি থেকে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এ সময় তার বাড়ির আঙ্গীনা থেকে উদ্ধার করে ৭২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে। গ্রেফতারকৃত শওকত চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার রাঙ্গীয়ারপোতা গ্রামের মৃত আনিছদ্দিনের ছেলে। পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার বিকাল সোয়া ৫ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেগমপুর ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ এসআই রবিউল ইসলাম ও এএসআই ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মাদক বিরোধী অভিযান চালায় রাঙ্গীয়ারপোতা গ্রামে। এসময় গ্রামের ঘোনাপাড়ার চিহৃত মাদক ব্যবসায়ী শওকতকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামী শওকত আলীর স্বীকারোক্তিতে তার বাড়ির আঙ্গিনায় মাটিতে পুতে রাখা ৭২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় উদ্ধারকৃত ফেনসিডিল সহ গ্রেফতারকৃত আসামী শওকতকে বেগমপুর ক্যাম্প কাষ্টরীতে আটক করে তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করে গতকাল রাতেই চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় সোপর্দ করে। গ্রেফতারকৃত আসামী শওকত আলী রাঙ্গীয়ারপোতা ঘোনাপাড়ার মৃত আনিছদ্দিনের ছেলে।

দামুড়হুদা অফিস জানিয়েছে, দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে ৮ বোতল ফেন্সিডিলসহ নয় জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন- ভিমরুলার আসাদুজ্জামান (৩১) ফকির পাড়া গ্রামের অতিকুল ইসলাম (৩০) কোটালীর শাহিন (৪০) শৎকরচন্দ্র পুরের বকুল (৪২) সাতগাড়ির শরিফুল (২৭) একই গ্রামের রোকন (২৭) চুয়াডাঙ্গার রেলপাড়ার মিল্টন (৩৪) নুরনগর কলনী পাড়ার ইউনুচ (৩০) ও দর্শনা হল্ট চাঁদ পুরের ওয়াসিম শাহ (৩৮)। দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকরাম হোসেনের নেতৃত্বে এসআই শ্যামল, এএসআই কাত্তিক, এএসআই তৌহিদ এএসআই মুনির সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে এদেরকে আটক করেন। আটককৃতদের বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকরাম হোসেন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদকের বিষয়ে কোন ছাড় নেই। মাদক ব্যাবসায়ী ও সেবনকারী সে যেই হোকা না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। এই অভিযান অব্যহত থাকবে।

জীবননগর অফিস জানিয়েছে: জীবননগর থানা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ একজন আটক হয়েছে। জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই নাহিরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। জীবননগর থানা সুত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টার সময় জীবননগর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের মহানগর দক্ষিন পাড়ার ছমির মোল্লার ছেলে আব্দুল কাদেরকে (৩৫) ২০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন।