রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

রায় প্রত্যাখ্যান বিএনপির : আজ ও কাল বিক্ষোভ কর্মসূচি : রবিবার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল

  • আপলোড তারিখঃ ০৯-০২-২০১৮ ইং
রায় প্রত্যাখ্যান বিএনপির : আজ ও কাল বিক্ষোভ কর্মসূচি : রবিবার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় : সারাদেশে বিএনপির শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি খালেদা জিয়ার ৫বছরের জেল : তারেক রহমানসহ ৫ জনের ১০ বছর কারাদন্ড ডেস্ক রিপোর্ট: এতিমদের জন্য পাঠানো ২ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদ- দিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরান ঢাকার বকশিবাজারের কারা অধিদপ্তরের মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। তবে বয়স ও সামাজিক মর্যাদার কথা বিবেচনা করে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদ- দিয়েছেন আদালত। যদিও একই অভিযোগে তাঁর বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচজনের ১০ বছর সশ্রম কারাদ- দিয়েছেন আদালত। এছাড়া এ মামলার অপর আসামিরা হলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমদ। এর মধ্যে তারেক রহমান, কামাল সিদ্দিকি ও মমিনুর রহমান পলাতক। আর সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন কারাগারে আছেন। বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্ববধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই নগরীর রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করে দুদক। মামলায় খালেদা জিয়াসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় যে, এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশে বিদেশ থেকে পাঠানো ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা ক্ষমতার অপব্যহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাত করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পাশাপাশি যেসব আসামি কারাগারে ছিলেন তাদেরকেও হাজির করা হয় আদালতে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার কারাদন্ডের রায় প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে বলা হয় খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজা দিয়েছে। ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না। এই রায়ের মাধ্যমে অনৈতিক, অবৈধ সরকার আদালতের ওপর ভর করে তাদের নিকৃষ্টতম হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করলো বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আদালতের রায়ের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানান, আদালতের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে রায়ের কোনো মিল নেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। রাজনৈতিক মামলায় রাজনৈতিক রায় বলেও মন্তব্য করেছেন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। তারা বলেন, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ ছাড়া কাল্পনিক অভিযোগে বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফাঁসানো হয়েছে। আইনজীবীরা আরো বলেন, বিচারিক আদালতে সাক্ষীদের বক্তব্যেও প্রসিকিউশন অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে মামলার তথ্য-উপাত্তে অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি বলেও জানান বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এই মামলার রায়ে সরকারের ইচ্ছাই প্রকাশ পেয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার কারাদ-ের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে দিনব্যাপী আতঙ্ক বিরাজ করেছে। বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়াকে আদালত পাঁচ বছরের কারাদ- দেওয়ার পর বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিএনপি রাজপথে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছে তারা। পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া, গুলি বর্ষণ ও আটকের ঘটনাও ঘটেছে। এদিকে কিছু স্থানে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এদিকে, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার রায়ের পর আজ শুত্রবার ও কাল শনিবার দু’দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আজ ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ করা হবে। শনিবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। এর পরবর্তী কর্মসূচি পরে জানানো হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, জাল কাগজ দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে অন্যদের অপরাধের বিষয়ে উল্লেখ করা হলেও বেগম জিয়ার অপরাধের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। ৪০৯ ধারায় এমন শাস্তি হতে পারে না। বৃহস্পতিবার রায়ের কপি তোলা গেলে রবিবার বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন করা হবে জানিয়ে মওদুদ বলেন, এটি একটি ফৌজদারি মামলা হলেও তা রাজনৈতিক মামলা হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। তাই মামলার রায় আইনসংগত হয়নি। আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার টার্গেটসহ দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাগারে গেলেও হরতাল-অবরোধের মতো কোনো কঠোর কর্মসূচি না দেওয়ায় পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। এটি দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার সুস্পষ্ট ও ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত। অবশ্য দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও দলের নির্বাহী কমিটির সভায় এবং সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেছেন, তারা কোনো সংঘাতের রাজনীতি বিশ্বাস করেন না। এদিকে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুসারে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানই এখন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। যদিও তিনিও দেশে নেই। দলের গঠনতন্ত্রের ৭(গ)(২)-এ 'সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্ব' উপধারায় বলা হয়েছে, চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে তিনিই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে চেয়ারম্যানের সমুদয় দায়িত্ব পালন করবেন। সে হিসেবে তারেক রহমানই এখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তিনিও ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোচিত দুর্নীতি মামলার রায়ে দৃঢ়ভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা। একই সঙ্গে তারা বলেছেন, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। বিএনপি চেয়ারপারসনকে রাজনীতি ও নির্বাচনের বাইরে রাখার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ রায় দেওয়া হয়েছে। মুখে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও হরতাল ডাকেননি তারা। বিএনপির এ আচরণে বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে স্পষ্টত পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

সাড়ে ৭ কোটি টাকার ক্রিস্টাল আইস উদ্ধার