রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

খালেদা জিয়ার বাসায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন : বাসায় বাসায় তল্লাশি, বাসা ছেড়েছেন বহু নেতা

  • আপলোড তারিখঃ ০১-০২-২০১৮ ইং
খালেদা জিয়ার বাসায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন : বাসায় বাসায় তল্লাশি, বাসা ছেড়েছেন বহু নেতা
চার মামলায় আসামি ৯০০ : বিএনপিতে গ্রেফতার আতঙ্ক গয়েশ্বর-রিজভী-খোকনকে নির্দেশদাতা করে তিন মামলা : অমিতসহ গ্রেফতারকৃত কারাগারে ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপিতে অস্থিরতা ও মারমুখি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় কঠোর হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। গত মঙ্গলবার হাইকোর্টের সামনে পুলিশের ওপর আক্রমণ ও প্রিজনভ্যান ভাঙচুর করে তিন নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার পর গতকাল বুধবারও পুলিশের সঙ্গে একই স্থানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে বিএনপি নেতা-কর্মীদের। গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নেতাদের মধ্যে। গত দুই দিনে গ্রেফতার হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ঢাকা মহানগরীর সভাপতি রাজিয়া আলিম, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-গণসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক আমজাদ হোসেন শাহাদাত, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জাব্বারসহ শতাধিক নেতা-কর্মী। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেফতারের জন্য অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর বাসায় অভিযান চালিয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র ভাঙচুর, আসামি ছিনতাই, রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধন ও আইন-শৃঙ্খলায় বিঘœ ঘটানোর অভিযোগ এনে পুলিশ বাদি হয়ে শাহবাগ থানায় দুইটি ও রমনা থানায় দুইটি মামলা করেছে। চার মামলায় আসামি করা হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ ৮ থেকে ৯শ নেতা-কর্মীকে। রমনা থানার মামলায় গয়েশ্বর ও মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ শীর্ষ ৪৪ বিএনপি নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে শাহবাগ থানায় দুইটি মামলায় রিজভীসহ শীর্ষ নেতাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে ৫৩ জনকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। আর কারাগারে পাঠানো হয়েছে গয়েশ্বর রায়সহ আটকৃত বেশ কিছু নেতাকে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার চলছে। এদিকে মঙ্গলবার রাতে গয়েশ্বর রায় গ্রেফতার হওয়ার পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা নিজেদের বাসা-বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। এর রেশ পড়ে গতকাল বুধবারও। ফখরুলের বিবৃতি: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল রাতে এক বিবৃতিতে নেতাকর্মীদেরকে অব্যাহত গতিতে গ্রেফতারের পাশাপাশি বাড়িতে বাড়িতে হামলা ও তল্লাশির ঘটনাকে সরকারের এক ভয়ঙ্কর জুলুম হিসেবে চিহ্নিত করে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে বলেন, ‘ভবিষ্যত্ দুরভিসন্ধিমূলক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে বিরাট বাধা হিসেবে গণ্য করে সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নিষ্ঠুর নিপীড়ন ও অত্যাচারের মাত্রা বৃদ্ধি করেছে। আজিজুল বারী হেলালের ন্যায় দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় নেতাকে বাসা থেকে উঠিয়ে নেওয়ার পরও তাকে গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশের অস্বীকৃতি জানানো অত্যন্ত আতঙ্কজনক। আমি এই ন্যক্কারজনক ও অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে তার অবস্থান সর্বসম্মুখে অবহিত করে মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। এদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’র বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে দাবি করে এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি।


কমেন্ট বক্স
notebook

সাড়ে ৭ কোটি টাকার ক্রিস্টাল আইস উদ্ধার