রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

গ্রামবাসীদের প্রতিবাদ সভা : ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম : গ্রামজুড়ে এখনও আতঙ্ক

  • আপলোড তারিখঃ ৩০-০১-২০১৮ ইং
গ্রামবাসীদের প্রতিবাদ সভা : ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম : গ্রামজুড়ে এখনও আতঙ্ক
চুয়াডাঙ্গা গাঁড়াবাড়িয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে আসাব উদ্দীন নিহতের ঘটনায় এখনও আটক হয়নি কেউ নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সদরের গাঁড়াবাড়িয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের হাতে আশরাফ ওরফে আসাব উদ্দীন নিহতের ঘটনার ৪৮ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও এখনও কোন আসামী আটক না হওয়ায় প্রতিবাদ সভা করেছে গ্রামবাসী। প্রতিবাদ সভা থেকে প্রধান হত্যাকারী একরামুল ওরফে ইকরাসহ মামলার আসামীদের গ্রেফতার করতে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জাফরপুর মোড়ে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় জেলা আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সী আলমগীর হান্নান তার বক্তব্যে বলেন, ‘আসাব উদ্দীনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় হত্যা করা হয়েছে। শান্ত চুয়াডাঙ্গাকে অশান্ত করতে এ হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। আমরা চাই আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামীদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।’ এদিকে গতকাল সকাল ১০টার দিকে নিহত কৃষক আশরাফ ওরফে আসাব উদ্দীনের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাংসদ, জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। এ সময় তিনি নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করেন এবং হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আশ্বাস দেন। সরেজমিনে গাঁড়াবাড়িয়া গ্রাম ঘুরে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সৃষ্ট উত্তেজনায় কৃষক আসাব উদ্দীন নিহত হওয়ার তিনদিন অতিবাহিত হলেও কাটেনি আতঙ্ক। গ্রামবাসীদের ধারণা যে কোন সময় আবারো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া গ্রামের দু’পক্ষের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে নিহত কৃষক আসাবের হত্যাকান্ডকে একটি চক্র নিজেদের ফায়দা লুটতে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে বলে অনেকে মন্তব্য করেছে। এমন মন্তব্য এই প্রতিবেদকের কানে আসলে শুনে এই বিষয়ে চুপিচুপি মন্তব্য করা ওই সব ব্যক্তিদের সাথে বিস্তারিত কথা বলতে গেলে কেউ মুখ খোলেনি বরং এড়িয়ে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামবাসীরা জানান, একরামুল ওরফে ইকরা খুব প্রভাবশালী মানুষ। অত্র এলাকায় পৈত্রিকভাবে ইকরার পুরো পরিবার ও গোষ্ঠির লোকজন অনেক জমিজায়গার মালিক হওয়ায় ইকরা কাউকে তোয়াক্কা করে না। নিজেকে প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান দাবি করে যত অপকর্ম করে বেড়ায় ইকরা। কাউকে মানুষ বলে গণ্য করে না ইকরা। কৃষক আসাব হত্যা মামলায় ইকরার পুরো পরিবার মামলার আসামী হলেও ইকরা সবথেকে বেশি খারাপ মানুষ বলে সাধারণ গ্রামবাসীর দাবি। এই ইকরার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তবে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি হচ্ছে না। জমিজমা নিয়ে বিরোধ এটিই ইকরার প্রথম নয়; জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে অনেকের সাথে ইকরার কোন্দল আছে। তবে ইকরার অন্য ভাই বা পরিবারের সদস্যদের সাথে গ্রামের সাধারণ মানুষের তেমন কোন্দল নেই বলে এই প্রতিবেদককে অনেকে জানান। শুধু শয়তান ইকরার কারণে তার পুরো পরিবার আজ বিপদের সম্মুখি বলেও গ্রামের অনেককে মন্তব্য করতে শোনা যায়। নিহত কৃষকের হত্যাকারি ইকরার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে সাধারণ গ্রামবাসী। নিহতের মেয়ে মাছুরা খাতুনের চোখে মুখে এখনও বাবাকে হত্যার চিত্র ভেসে উঠছে। কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করলে ঘটনার বর্ণনা দিতে দিতেই আতকে উঠছে সে। বাবাকে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়ে সমীকরণ প্রতিবেদককে বলেন, ‘চোখের সামনে বাপকে মারতে দেখেছি। ইকরাসহ তাদের লোকজন আমার বাপকে ধরে প্রথম রড দিয়ে মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর হাত-পা দড়ি দিয়ে বেধে মারপিট করতে থাকে। একপর্যায়ে আমি বাপকে বাচানোর চেষ্টা করি। সেসময় বাপ আমার বুকের মধ্যে লুকানোর চেষ্টা করলে আমাকে মেরে বাপকে ছিনিয়ে নেয় ওই খুনী ইকরা। এরপর আমার বাবপের মাথার মধ্যে শাবল ঢুকিয়ে দিলে রক্ত ছিটকে পড়লে আমি ইকরাকে বলি আমার বাপকে ছেড়ে আমাকে মারো! একথা বলার পরও ইকরারা আমার বাপকে ছাড়েনি; মরার সময় আমার বাপের মুখে পানিও দিতে দেইনি ইকরা।’ হত্যাকান্ডের তিনদিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখনও কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে না পারায় চিন্তিত আসাব উদ্দীনের পরিবার। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ তোজাম্মেল হক জানান, এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

সাড়ে ৭ কোটি টাকার ক্রিস্টাল আইস উদ্ধার