রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন

  • আপলোড তারিখঃ ২০-০১-২০১৮ ইং
দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন
সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা সাহিদুজ্জামান টরিক হুসাইন মালিক: সাহিদুজ্জামান টরিক একজন আত্মপ্রত্যয়ী, দৃঢ়চেতা সোজা-সাপ্টা কথা বলা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। কর্মচঞ্চল বিজনেসম্যান সাহিদুজ্জামান টরিক সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়া একটি নাম। তাঁর সততা, মেধা, নিষ্ঠা, অধ্যবসায় এবং দূরদৃষ্টির কারণে সাহিদ গ্রুপ আজ উন্নতির শিখরে। সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে তাঁর সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা এখন সর্বজনবিদিত। আজ থেকে প্রায় ২২ বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিলেন সিঙ্গাপুরের একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে চাকরি দিয়ে। তারপর থেকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি এই সফল মানুষটিকে। প্রবাসের মাটিতে সাধারণ মানুষের অসাধারণ হয়ে ওঠার পিছনে একটা গল্প থাকে। সেই গল্পে পথের বাঁকে বাঁকে থাকে সংগ্রামও। কখনও কখনও তা হয়ে দাঁড়ায় টিকে থাকার লড়াই। তেমনই এক গল্পের নায়ক চুয়াডাঙ্গা শহরের মুক্তিপাড়ায় জন্মগ্রহন করা কৃতি সন্তান আলহাজ্ব মো.সাহিদুজ্জামান টরিক। ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান বিভাগ থেকে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে মাস্টার্স পাশ করার পর সংগ্রামের শুরু। এরপর ১৯৯৫ সালের ২২ নভেম্বর একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে চাকরি পেয়ে পাড়ি জমান সুদূর সিঙ্গাপুরে। কয়েক বছর চাকরি করার পর স্বপ্ন দেখেন বড় ব্যবসায়ী হয়ে দেশের জন্য কিছু করার। বাংলাদেশ থেকে তৎকালিন সময়ে বাবার পাঠানো কিছু টাকা ও চাকরি করে নিজের জমানো কিছু টাকা একত্রিত করে ২০০২ সালে সাহিদ ট্র্যাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস নামের একটি কোম্পানী দিয়ে ব্যবসা শুরু। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। আত্মপ্রত্যয়ী, দৃঢ়চেতা এ মানুষটির অক্লান্ত পরিশ্রমে সাহিদ ট্র্যাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে দ্রুত বিস্তার লাভ করে। সাহিদ ট্র্যাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস বড় পরিসরে ব্যবসা করতে থাকে দিনে দিনে বাড়তে থাকে পরিধি। এর ঠিক পাঁচ বছর পর ২০০৭ সালে নিজের ট্র্যাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস ব্যবসার পাশাপাশি সাহিদ অ্যাপার্টমেন্ট এবং সাহিদ ইন্টারন্যাশনাল নামের দুইটি কোম্পানি গড়ে তোলেন। এর কিছুদিন পর এবিসি নেটওয়ার্ক এবং ফাহমি ইন্টারন্যাশনাল নামের আরও দুইটি নতুন কোম্পানি করেন তিনি। এছাড়া এখনো ইলেক্ট্রনিক্স ও কম্পিউটার, ক্যামেরা সল্যুশনসহ গার্মেন্টস আইটেমের ব্যবসাও করছেন বিশ্বব্যাপী। তাঁর আত্মপ্রত্যয়ী মনোভাব ও কঠোর পরিশ্রম সাহিদ গ্রুপকে আজ পৌছে দিয়েছে উন্নতির শিখরে। সাহিদ গ্রুপের কোম্পানী গুলো হলো:-সাহিদ ট্র্যাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস (প্রাঃ) লিমিটেড, সাহিদ ইন্টারন্যাশনাল (প্রাঃ) লিমিটেড, এবিসি নেটওয়ার্ক (প্রাঃ) লিমিটেড, ফাহমী সিঙ্গাপুর (প্রাঃ) লিমিটেড, সাহিদ অ্যাপার্টমেন্ট (প্রাঃ) লিমিটেডসহ সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশে আরো কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। বাংলাদেশে পরিবার পরিজন, বন্ধু বান্ধব ছেড়ে দীর্ঘ ২২ বছর সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমিয়ে, নিজের মেধা খাটিয়ে ও অক্লান্ত পরিশ্রম করে সিঙ্গাপুরের মত উন্নত রাষ্ট্রের শুধু শীর্ষ ব্যবসায়ী নন তিনি, সে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাও নির্বাচিত হয়েছেন চুয়াডাঙ্গার এই কৃতি সন্তান সাহিদুজ্জামান টরিক। সিঙ্গাপুরের সরকার এ ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাজে সম্মানিত করাসহ অনেক আগেই সিঙ্গাপুরের প্রথম শ্রেণির নাগরিকত্ব দিয়েছেন। সামজিক দায়বদ্ধতায় নিরবিচ্ছন্ন অবদান রাখায় দেশ-বিদেশে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি স্বরুপ পেয়েছেন বিশেষ সম্মাননা স্মারক। সানডে টাউমসসহ বিশ্বের কয়েকটি প্রভাবশালী ম্যাগাজিনে উঠে এসেছে এই সফল ব্যবসায়ীর সফলতার নানা কাহিনী। বেশ কয়েকবার হয়েছেন ম্যাগাজিনগুলোর কাভার ফটো। সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনসহ প্রবাসীদের পাশে থেকেছেন তাদের সুখ-দুঃখে। এছাড়া সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশ ব্যবসায়ী সমিতি প্রতিষ্ঠা করে এ দেশের ব্যবসায়ীদের সম্মান তুলে ধরেছেন বিশ্বের দরবারে। সর্বশেষ বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুর (বিডিচ্যাম)’র সভাপতি নির্বাচিত হয়ে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ পৌছে দিতে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের নিয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এ বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে। নিজের পরিবার নিয়ে সুখ শান্তিতেই প্রবাস জীবন পার করলেও তবুও কোথায় যেনো একটা ব্যথা, কষ্ট মাঝে মাঝেই অনুভব করেন তিনি। প্রবাসে থেকেও তাঁর সর্বদা মনে পড়ে প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের কথা। বর্ষাকালের কথা। শীতকালে শীতের পিঠা-পুলির কথা। যদিও পহেলা বৈশাখ, বসন্ত বরণসহ দেশীয় সকল অনুষ্ঠান সিঙ্গাপুরের প্রবাসী নিয়ে পালন করেন নিজের সিঙ্গাপুরস্থ বাসভবন `সাহিদ প্যালেস` এর আঙ্গিনায়। স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে সিঙ্গাপুরে বসবাসরত শীর্ষ এ ব্যবসায়ী নেতা সাহিদুজ্জামান টরিক মনে করেন, আমেরিকা ও ইউরোপ কান্ট্রির চেয়ে সিঙ্গাপুর বাংলাদেশীদের জন্য অনেক ভালো একটি জায়গা। যেখানে বাংলাদেশীরা খুব সহজেই নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারেন। তাছাড়া অন্যান্য দেশের মত সিঙ্গাপুরে সন্তানরা অবাধ্য হয় না। ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালনে নিজেকে ব্রত রেখেছেন। মাঝে মাঝে অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে সাহিদা বেগমের কাছে বকা খান। এতোবড় ব্যবসায়ী হয়েও ছোট মানুষের মত মায়ের বকা শুনে চুপ থাকেন। যেটা কি এই সফল মানুষের ভালোই লাগে। যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এখনো একমাত্র অভিভাবক মা সাহিদা বেগমের কাছে অনুমতি নেন। চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহসহ দেশের জন্য ভাবেন সর্বদা। পিতা মৃত হাজি শামসুজ্জোহার প্রতিষ্ঠিত আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের পাঁচকমলাপুর গ্রামে `কওমী হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিম খানায়` প্রত্যোকদিন ৩০০ ছাত্রের তিন বেলা খাওয়াসহ পড়াশোনা নিশ্চিত করে যাচ্ছেন বছরের পর বছর। এছাড়া এই মাদ্রাসাকে আর্ন্তজাতিক মানের করে গড়ে তুলতে কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন বেশ আগে। এ বছর শেষ হবে নতুন ভবন নির্মাণ কাজ। এরপর মাদ্রাসায় ছাত্রের এতিম ছাত্রের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও আছে সাহিদুজ্জামান টরিকের। চুয়াডাঙ্গাতে `সাহিদ স্কয়ার` নামে আধুনিক সকল সুবিধা সম্বলিত বহুতল ভবন গড়ে তোলে এই অঞ্চলের মানুষের ব্যবসায় সাহস জুগাচ্ছেন সোজা-সাপ্টা কথা বলা এই মানুষটি। এছাড়া তিনি মারা যাওয়ার পরে খরচের অভাবে মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ না হয়। সেই জন্য `সাহিদ স্কয়ার` সকল আয় মাদ্রাসা পরিচালনা কাজে ব্যয় করবেন বলেও জানিয়ে দিয়েছেন। আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক নিজের পরিবার ভাই-বোন আত্মীয়স্বজনদের যেমন খোঁজ রাখেন পাশাপাশি গরীব অসহায়দের আর্থিকভাবে সাহায্য করে ইতোমধ্যে দানবীর নামে পরিচিতি পেয়েছেন। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়সহ ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের পাশাপাশি সকল দিনের পথে দাওয়াতও দেন এই সফল ব্যবসায়ী। এনটিভিসহ বাংলাদেশের জনপ্রিয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও দৈনিক যুগান্তরসহ জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো সফল উদ্দোক্ত্য হিসেবে তাঁর কর্মকান্ড ও সফল হওয়ার গল্প ছেপে ও প্রচার করে এ দেশের তরুণদের অনুপ্রাণিত করেছে। অনেক হতাশাগ্রস্থ যুবক তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে হতাশা ছেড়ে নতুন কাজ শুরু করেছে সফল হতে। গত বছর আমেরিকার মিয়ামী রাজ্যে অনুষ্ঠিত ফোবানা সম্মেলনে অতিথির বক্তব্যকালে তিনি বলেছিলেন সফল ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে তাঁর পরিশ্রম আর মেধা। বাকিটুকু সবার প্রচেষ্টা। বর্তমানে ব্যবসায়িক লেনদেন থেকে রাজস্ব দেওয়ার পাশাপাশি দরিদ্র অসহায়-অসুস্থ মানুষের সাহায়তায় সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজও করছেন। পথশিশু, প্রতিবন্ধী শিশু, স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে আর্থিক সহযোগিতাসহ নিজের কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানাভাবে সহায়তা করেন তিনি। বিবচ্যাম’র সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে সম্মননা প্রদান করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংগঠন। এমন একটি সম্মননা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, শক্তি হচ্ছে সততা, নিষ্ঠা, মনবল ও অন্যকে না ঠকানোর প্রতিজ্ঞা। এসব বিষয়গুলো মাথায় রেখে কাজ করলে যে কেউ যে কোনো কাজে সফল হতে পারবে। (তথ্য সূত্র:-বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্য, টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত সচিত্র ও পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে নেওয়া)


কমেন্ট বক্স
notebook

সাড়ে ৭ কোটি টাকার ক্রিস্টাল আইস উদ্ধার