রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জাতীয় নির্বাচনের আগে ঢাকার ভোট অনিশ্চিত

  • আপলোড তারিখঃ ১৯-০১-২০১৮ ইং
জাতীয় নির্বাচনের আগে ঢাকার ভোট অনিশ্চিত
সমীকরণ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, আদালতের নির্দেশে নির্বাচন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে আপিল করার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। এমনকি তফসিল ঘোষণার আগেই বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের ত্রুটি চিহ্নিত করে তা সংশোধনের সুপারিশ করা হলেও আমলে নেয়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি) বা স্থানীয় সরকার বিভাগ। তখন আরও বলা হয়েছিল, এ জটিলতা রেখে তফসিল ঘোষণা করা হলে রিট হতে পারে, স্থগিত হয়ে যেতে পারে নির্বাচনও। শুধু তাই নয়, কমিশনের এক সভার কার্যপত্রে আইনগত জটিলতার বিষয়গুলো উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কোনো পদক্ষেপই নেয়া হয়নি। উল্টো ইসির পক্ষ থেকে ‘রহস্যজনকভাবে’ বারবার বলা হচ্ছে কোনো জটিলতা তারা দেখছেন না। এমন পরিস্থিতিতে এ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে ইসি ও সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। আর সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ- জাতীয় সংসদ নিবাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীনরা পরাজয়ের কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। কোনো কারণে এ নির্বাচনের ফল নেতিবাচক হলে, তার প্রভাব পড়বে জাতীয় নির্বাচনেও। এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আন্তরিক নন সরকারের সংশ্লিষ্টরা। তবে এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। তাদের বক্তব্য এটি আদালতের বিষয়। এখানে সরকারের কোনো যোগসাজশ নেই। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে যুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর ও ৬টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদের ভোট গ্রহণ চার মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের তফসিল কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। এর আগে গত বুধবার ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচন, ১৮টি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর ও ৬টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদের নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্রুটি রেখে তফসিল ঘোষণা করায় উচ্চ আদালতের রিট আবেদনের সুযোগ পেয়েছেন সংশ্লিষ্টরা এবং একই কারণে নির্বাচনও স্থগিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘যেসব আইনগত জটিলতার কারণে আদালত নির্বাচন স্থগিত করেছেন, সরকার চাইলে সেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি আগেই দূর করতে পারত। কিন্তু সরকার কেন এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিল না, সেটা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। নতুন ওয়ার্ড সংক্রান্ত, সীমানা ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে সরকার সমাধান করতে পারত। কিন্তু সরকার কেন তা করল না। আবার নির্বাচন স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করবে কিনা তা বোঝা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে যে, নির্বাচনের বিষয়ে সরকার আন্তরিক কিনা। এ সমস্ত সন্দেহ রয়েই গেছে। এসব ত্রুটি-বিচ্যুতি সরকারের আইন মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগ বুঝবে না কেন? যা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে। এসবের কোনো জবাব নেই। এসব বিষয়ে সরকারের কোনো উদ্যোগও দেখছি না। তিনি আরও বলেন, মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর চলমান কাজের গতি হারিয়েছে। আমার বাসার পাশে যেসব কাজ হচ্ছিল তা স্থগিত হয়েছে। একজন ভোটার হিসেবে বিষয়টি নিয়ে আমি চিন্তিত। জটিলতা রেখে তফসিল ঘোষণা করায় অসন্তোষ প্রকাশ করে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ ছহুল হোসাইন বলেন, নির্বাচনের অনেক জটিলতা রেখেই তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারত। আর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সম্প্রসারিত ওয়ার্ডগুলোর কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীদের মেয়াদ নির্ধারণ করতে পারত। কিন্তু কোনো সংস্থাই সে কাজগুলো করেনি। তবে আমি আশাবাদী। অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচন নিয়ে কী হয়।


কমেন্ট বক্স
notebook

সাড়ে ৭ কোটি টাকার ক্রিস্টাল আইস উদ্ধার