বিনামূল্যের বই নিতে টাকা দাবি; শিক্ষক বলছেন সেশন চার্জ
- আপলোড তারিখঃ
০৪-০১-২০১৮
ইং
জীবননগরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের দরিদ্র শিক্ষার্থীরা বছরের প্রথম দিনে পায়নি বই
জীবননগর অফিস: টাকা না দেওয়ায় বছরের প্রথম দিনে বিনামূল্যে বই পায়নি জীবননগরের বেশ কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে ক্ষুদ্ধ অসহায় দরিদ্র শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তবে এমন অভিযোগ মানতে নারাজ বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকরা। শিক্ষকদের দাবি বইয়ের দাম নয়, শিক্ষার্থীদের কাছে যে টাকা নেওয়া হচ্ছে এটি প্রতি বছরের সেশন চার্জ। পহেলা জানুয়ারী সারা দেশের ন্যায় একযোগে জীবননগর উপজেলার বেশ কয়েকটি স্কুলে আনুষ্ঠানিকভাবে বই উৎসব পালনসহ শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বছরের নতুন বই তুলে দেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার সকালে জীবননগর থানা পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ও জীবননগর শাপলা কলি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বই নিতে আসলে, বই নেওয়ার জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। যারা স্কুলের শিক্ষকদের নিকট টাকা দিচ্ছে কেবল তারাই বই পাচ্ছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ স্কুলের শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট না পড়লে ভালো নাম্বার ও স্কুলে পাস করা যায় না। আর বই নেওয়ার সময় টাকা না দিলে শিক্ষকরা বই দেয়না।
জীবননগর থানা পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, আমরা সোমবার সকালে নতুন বই নেওয়ার জন্য স্কুলে গেছি। আমাদের কাছে বইয়ের জন্য ৩শত টাকা চায়। আমরা স্কুলে গেছিলাম টাকা দিতে না পারায়, আমাদের বই দেয়া হয়নি। একই সাথে শাপলা কলি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়- আমরাও গত মঙ্গলবার স্কুলে গেছিলাম বই নেওয়ার জন্য। সেখানে স্যার বলেন ৪শত টাকা দিতে হবে তা না হলে বই দেওয়া হবে না।
অভিভাবকরা বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী প্রতিনিয়ত বলছেন প্রতি বছরের প্রথম দিন থেকে দেশের প্রতিটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বই তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু স্কুলের শিক্ষকরা তার ভিন্ন করছে বই নিতে হলে টাকা দিতে হবে তা হলে বিনামুল্যে বই দেওয়া হচ্ছে কই। জীবননগর উপজেলার বেশ কয়েকটি স্কুল ঘুরে দেখা গেছে কোন স্কুলে সেশন চার্জ ও অন্য কোন বিষয়ে কোন টাকা না নিয়েই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়েছে অথচ জীবননগর শহরের দুটি সুনাম ধন্য বিদ্যালয়ে টাকা ছাড়া বই দেওয়া হয়নি।
জীবননগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দ্বিনেশ চন্দ্র পাল বলেন, প্রতিটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামুল্য বই বিতারণ করার কথা যদি কোন শিক্ষক বই নেওয়ার জন্য টাকা নিয়ে থাকে তা হলে সে অপরাধ করেছে তা ছাড়া আমাদের কাছে এমন কোন অভিযোগ আসেনি অভিযোগ এলে বিষয়টি আমরা দেখব। এদিকে স্কুলের সেশন চার্জ নেওয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেশন চার্জ নেওয়ার নিয়ম শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের উপর অনেকে আছে একবারে টাকা পরিশোধ করে দেয়। আবার অনেকে আছে পরীক্ষার সময় দিয়ে দেয়। তবে সেশন চার্জের সাথে বই নেওয়ার কোন সম্পর্ক নেই। জীবননগর থানা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আ. সামাদের সাথে কথা বলার জন্য বেশ কয়েকবার মোবাইল ফোন যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। জীবননগর শাপলাকলি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাকি বিল্লাহ বলেন, আমরা বই দেওয়ার জন্য কোন শিক্ষার্থীদের নিকট টাকা চাইনি। বই সম্পন্ন বিনামুল্যেই বিতরণ করেছি। শুধু মাত্র ৬ষ্ঠ শ্রেনী ও নবম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে সেশন চার্জ বাবদ ৩৫০ টাকা করে নিয়েছি।
অবশ্য জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজা বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন যে সমস্থ বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে তার সত্যতা থাকলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এদিকে স্কুলের শিক্ষকদের এহেন কান্ড দেখে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা হতবাক হয়ে পড়েছেন।
কমেন্ট বক্স