সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের আচরণে ক্ষুদ্ধ রোগীরা!

  • আপলোড তারিখঃ ০৫-০২-২০১৯ ইং
আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের আচরণে ক্ষুদ্ধ রোগীরা!
চিকিৎসক সংকট নিয়েই চলছে জীবননগরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জীবননগর অফিস: জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি ২ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় ৬ জন চিকিৎসক থাকলেও চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন মাত্র ৪ জন ডাক্তার। কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর ডাক্তারদের অসদাচরণে ক্ষুব্ধ রোগীসহ জনসাধারণ। বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা বলছেন, তারা হাসপাতালে একদিকে চিকিৎসকের অভাব আর অন্যদিকে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ডা. আফিন্দা রাজ্জাকের অসদাচারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত রয়েছে মাত্র ৫ জন ডাক্তার। যেখানে থাকার কথা ১৫ জন চিকিৎসক। তবে ১৫ জন ডাক্তারের স্থানে খাতা কলমে ৯ জন ডাক্তারের নাম থাকলেও ৩ জন ডেপুটেশনে রয়েছে আর বাকি ৬ জন ডাক্তার হাসপাতালে কর্মরত। তবে ডেপুটেশনে থাকলেও বেতন উঠায় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার হিসেবে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কর্মরত রয়েছেন ৫ জন চিকিৎসক। এদের মধ্যে প্রতিনিয়িত রোগী দেখেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদ বিন হেদায়েত সেতু, মেডিকেল অফিসার ডা. রোকনুজ্জামান রুবেল, ডা. হেলেনা আক্তার, ডা. জাহাঙ্গীর আলম, জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারী ডা. রফিকুল ইসলাম। জানা গেছে, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী পদে ৬০ জন থাকার কথা থাকলেও আছে ৪৮জন, চতুর্থ শ্রেণীর আয়া, ওয়ার্ড বয় ও সুইপার পদে থাকার কথা ২১ জন আছে ১৬ জন। তথ্যনুসন্ধানে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি জীবননগর উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী উপজেলা মহেশপুরের কিছু অংশের মানুষের চিকিৎসা কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। প্রতিনিয়ত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে চিকিৎসা নিতে এসে আয়ুর্বেদিক চিকৎসক আফিন্দা রাজ্জাকের অসদচারণে ক্ষুব্ধ রোগীসহ স্বজনরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, গত শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক আফিন্দা রাজ্জাক রোগী না দেখে মোবাইল ফোনে কথা বলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। রোগী দেখার কথা বলতেই তিনি তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন রোগীর উপর। আফিন্দা রাজ্জাক একজন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক হিসেবে হাসপাতালে কর্মরত থাকলেও তিনি কোন রোগীকে আয়ুর্বেদিক ঔষধ লিখে দেন না। বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানীর সাথে মাসিক হারে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আয়ুর্বেদিক ঔষধ বাদ দিয়ে মন মতো কোম্পানীর ঔষধ লিখে থাকেন। তা ছাড়া হাসপাতাল থেকেও দেওয়া হয় না কোন রোগীকে আয়ুর্বেদিক ঔষধ। জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলামের সাথে চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে এবং রোগীদের সাথে ডাক্তারের অসদাচারণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকটের বিষয়ে আমি লিখিতভাবে সিভিল সার্জনকে জানিয়েছি, আরও চিকিৎসক ও কর্মচারী প্রণয়নের চাহিদা দিয়েছি। আশা করি খুব শিঘ্রই আমরা চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকট থেকে নিরসন পাবো এবং হাসপাতালে আগত রোগীরা আরও উন্নত চিকিৎসা প্রদান করতে পারবো। আর রোগীদের সাথে অসদাচারণের বিষয়ে যে সমস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে এটি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিব। এদিকে, ডাক্তারের এ অসদাচারণ দেখে রোগীসহ সচেতন মহল হতাশ।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত