সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ওমিদুলের লাশ তিনদিন পর হস্তান্তর : দাফন সম্পন্ন

  • আপলোড তারিখঃ ০১-০২-২০১৯ ইং
ওমিদুলের লাশ তিনদিন পর হস্তান্তর : দাফন সম্পন্ন
নাস্তিপুর সীমান্তের ভারত অংশে দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত বাংলাদেশি দর্শনা অফিস: দামুড়হুদা উপজেলার নাস্তিপুর সীমান্তের ওপারে ভারত অংশে দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত বাংলাদেশি ওমিদুলের মরদেহ তিন দিন পর ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পতাকা বৈঠকের পর বিজিবির কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়। চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লে. কর্নেল ইমাম হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বিজিবি জানায়, গত সোমবার সকালে নাস্তিপুর সীমান্তের ওপারে ভারতীয় অংশে ওমিদুলের ক্ষত বিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে যায়। পরে খবর পেয়ে ভারতের কৃষ্ণনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এদিকে ওমিদুলের মরহেদ ফেরত চেয়ে ঘটনার দিনই সীমান্তে পতাকা বৈঠক করে বিজিবি-বিএসএফ। বৈঠকে বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো ময়নাতদন্তের পরই মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। কিন্তু ঘটনার তিন দিন পার হলেও মরদেহ ফেরত দিতে নানা টালবাহানা করতে থাকে বিএসএফ। বিষয়টি নিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকেও দফায় দফায় বৈঠকসহ কড়া প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার নিহত ওমিদুলের মরদেহ ফেরত দিতে সম্মত হয় বিএসএফ। চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লে. কর্নেল ইমাম হাসান জানান, মরদেহ ফেরত দিতে সম্মত হলে বৃহস্পতিবার দুপুরে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন দর্শনা কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মতিয়ার রহমান, সঙ্গে ছিলেন দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস। বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভারতের বিজয়নগর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুরেন্দ্র সিং ও কৃষ্ণনগর থানার ওসি তন কুমার। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে বিএসএফ বিজিবির কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে। দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস বলেন, বিএসএফের কাছ থেকে ওমিদুলের মরদেহ গ্রহণের পর তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে, গতকালই বেলা ৩টার দিকে পূর্বপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার লাশের জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়। এদিকে, নিহত ওমিদুলের কুপিয়ে হত্যা করার কথা প্রচার হলেও গতকাল তার পিতা লাশ বুঝে নেওয়ার পর লাশ বাড়িতে নিয়ে আসলে ধৌত করার সময় ওমিদুলের মাথায় ও বাম হাতে ২টি গুলির চিহ্ন দেখা যায় বলে জানায় ওমিদুলের পিতা আব্দুল মালেক ও স্থানীরা। অন্যদিকে, দীর্ঘ ৩ দিন পর লাশ ফেরত আসায় এলাকার শত শত মানুষ ছুঁটে আসে তার বাড়িতে একবারের জন্য নিহত ওমিদুলকে দেখতে। এলাকায় ও পরিবারের মাঝে বইছে শোকের মাতম। নিহত ওমিদুলের এক ছেলে রহিম বাদশা (১৫) ও হুমায়রা (৮) নামের এক মেয়ে রয়েছে। ওমিদুলের পিতা আব্দুল মালেকের একটি মাত্র সন্তানকে হারিয়ে যেন পাগল প্রায়। তার স্ত্রী ও মায়ের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। তার পিতা আব্দুল মালেক জানায়, আমার সন্তান ওমিদুল আমার অবাধ্য ছিলো। আমার কিছুতে অভাব ছিলোনা। কিন্তু তার খামখেয়ালী জীবনযাপন আজ তার মৃত্যু ডেকে আনলো। সে ২০১৩ সালের দিকে বিজিবি সোর্স হিসেবে কাজ শুরু করে। অনেকবার পরিবারের পক্ষ থেকে তার এ কাজের বিরোধীতা করলে সে সংসারে গ-গোল করতো। তবে আমার সন্তানের যারা এভাবে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে আমি থানায় মামলা করবো। এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস জানান, সন্দেহজনক ভাবে একই এলাকার ইউনুচ ও হারুন নামের দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত