রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আরও কয়েক মাস গোপনে হাঁটবে বিএনপি

  • আপলোড তারিখঃ ২৭-০১-২০১৯ ইং
আরও কয়েক মাস গোপনে হাঁটবে বিএনপি
সমীকরণ প্রতিবেদন: নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে নীরব বিএনপি! এভাবে আরও কয়েকমাস কাটাবে দলটি। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে জাতীয় ঐক্যের ডাকেও সাড়া দেবে না এবং ডিএনসিসি-উপজেলাসহ আর কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। বিএনপির কয়েকটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লন্ডন থেকে দলের চেয়ারপারসন তারেক জিয়া বিএনপির ভেতরে শীর্ষ নেতাদের ভূমিকা, সরকারের টার্গেট ও আন্তর্জাতিক মহলের গতিবিধি বোঝার জন্য এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ জন্য নির্বাচনের পরে আন্দোলনের ছক থাকলেও তা থেকে সাময়িক দূরে সরে এসেছেন। দলটির সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, এর মধ্যে বিএনপি নিজ দলে শৃঙ্খলা হারিয়েছে। দু-একজন স্থায়ী কমিটির সদস্যও মহাসচিবের ভূমিকার ওপর অসন্তুষ্ট! আর সম্প্রতি মহাসচিবও দল ভাঙার ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এটি কেন দিয়েছেন তাও চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দলের বড় একটি অংশ ঐক্যফ্রন্ট ভেঙে দেয়ার পক্ষে মত দিলেও ঐক্য রাখার পক্ষে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন শীর্ষ হাইকমান্ড। ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে অংশগ্রহণ করার জন্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং ড. আব্দুল মঈন খানকে নির্দেশ দিলেও সম্প্রতি মতিঝিলে ড. কামালের চেম্বারে হয়ে যাওয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটিতে উপস্থিত হননি এ দুই নেতা। এর পেছনে রহস্য রয়েছে বলে মনে করছেন একটি অংশ। এছাড়া নবরূপে বিএনপিকে পুনর্গঠিত করতে নতুনদের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্থায়ী কমিটিতে নতুন মুখ, উপদেষ্টা পরিষদ ও জাতীয় নির্বাহী কমিটিও পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নিষ্ক্রিয় ও আত্মগোপনে থাকা নেতাদেরও সক্রিয় করা হচ্ছে। এ নিয়ে তারেক রহমান বিএনপির নীতিনির্ধারকদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। দলের রদবদলের শীর্ষ নেতাদের সক্রিয় ভূমিকা পর্যবেক্ষণের জন্য আরও কয়েকমাস নীরবে থাকতে তার (তারেকের) উদ্যোগ আছে বলেও বিএনপির কয়েকজন নেতার মত। অন্যদিকে নির্বাচনে পরাজয়ের পর অবশ্যই বিএনপিকে নিয়ে সরকারের কী টার্গেট আছে তা কৌশলে জানার জন্য আরও অপেক্ষা করবে দলটি। বিএনপির এক নেতার ভাষ্য, নীরবে এ পর্যবেক্ষণ দলের জন্য অনেক শুভ বার্তা নিয়ে আসবে। তারেক জিয়ার এ উদ্যোগকে অনেকে স্বাগত জানাচ্ছেন। কারণ বিএনপি যদি নির্বাচনের পরপর আন্দোলনের পথে হাঁটতো তাহলে অনেক পলিসিই জানা হতো না। ইতোমধ্যে বিএনপির পরাজয়ের কারণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী যে ভাষণ দিয়েছেন, বিএনপিকে নিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা যে হারে সেøাগান তুলেছেন এটিকে পজেটিভ আকারে দেখছে দলটি। কেন না বিএনপি ডিএনসিসি-উপজেলাসহ পরবর্তী আর কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণার পর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই বিএনপিকে সংসদে যাওয়ার আহ্বান করেছেন এবং জাতীয় ঐক্যর ডাক দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ শীর্ষ মন্ত্রী-এমপিরাও বিএনপির নানা দুর্বলতা তুলে ধরে প্রতিদিনই আলোচনার টেবিলে রেখেছেন বিএনপিকে। এর মাধ্যমে গণতন্ত্র ও রাজনীতিতে বিএনপির ভূমিকা জনগণের কাছে দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং বিএনপিও এই সময়ে নিজেদের গুছিয়ে নিতে সহজ হচ্ছে। ডিএনসিসি নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সংলাপের ডাকে দলীয় বক্তব্য দিয়েছে বিএনপি। ডিএনসিসি নির্বাচন নিয়ে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেছেন, এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনেই যাবো না। এমনকি স্বতন্ত্রও কেউ প্রার্থিতা করতে পারবে না। কেন যাবো তাদের অধীনে নির্বাচনে? কোনো লাভ আছে, নেই। তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে জানে না।’ প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ও জাতীয় সংলাপের আহ্বানের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আমি শুনেছি। তার বক্তব্য শুনে আমার মনে হয়েছে তিনি একটা ‘গিল্টি কনসেন্স’ থেকে বক্তব্য দিয়েছেন। কেন জানি তার মনে হয়েছে, নির্বাচনটা ঠিক হয়নি, একটা ব্যাখ্যা দেয়া প্রয়োজন। সেই ব্যাখ্যাটি তিনি (প্রধানমন্ত্রী) দিয়েছেন।’ ‘জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে উনি যে ডাক দিয়েছেন তা মেনে নেয়ার কোনো কারণ নেই। নির্বাচনের আগে তিনি যখন আমাদের সঙ্গে সংলাপ করেছেন, তখন তিনি যে কথাগুলো বলেছিলেন, সেগুলো কি রাখতে পেরেছেন? একটাও রাখতে পারেননি।এছাড়াও বড় একটি মাধ্যম হচ্ছে নির্বাচন-পরবর্তী বিদেশিদের ভূমিকা জানা। ইতোমধ্যে টিআইবি ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ভাষ্যে বিএনপি ব্যাপক খুশি! আন্তর্জাতিক মহলে ভিডিও ডকুমেন্ট নিয়ে যাওয়ার আগে এ দুটি ভাষ্য অনেক শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে। একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রধান মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, নির্বাচনের আগের রাতে আওয়ামী লীগের কর্মীরা ব্যালট বাক্স ভরে রেখেছেন এবং ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ও ভোটারদের কাছ থেকে নির্বাচনের এমন বিবরণ শোনার পর তার কাছে এখন মনে হচ্ছে, নতুন করে নির্বাচন হওয়ার দরকার। এছাড়াও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ৫০ আসনে জরিপ চালিয়ে ৪৭টিতেই অনিয়ম দেখতে পেয়েছে তারা। এতে বিশেষ করে জাল ভোট, জোর করে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরা, ভোটকেন্দ্রে বিরোধী দলীয় এজেন্ট ও ভোটারদের ঢুকতে বাধা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির আন্তর্জাতিক একটি সূত্রের দাবি, আওয়ামী সরকার গঠনের পরপর ভারতকে বাদ দিয়ে চীনকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। জাপান অনেক আগেই এ সরকারের ভূমিকায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। গতবার ভারত আওয়ামী লীগকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে ক্ষমতায় বসালেও এবার নীরব ভূমিকায় ছিলেন। চীনকে হাতে রেখে সবুজ পথে হাঁটায় ভারতও নানান হিসেব কষছেন। এর মধ্যে বিএনপিও আন্তর্জাতিক নানান হিসেব মিলাচ্ছেন। তবে দলের করণীয় কী এটি আপাতত শুধু তারেক জিয়াই জানেন। দলের স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটির কাউকেই জানাচ্ছেন না। তবে খালেদা জিয়ার মুক্তিতে কিছু করণীয় নির্দেশনা কয়েকজন নেতাকে জানিয়েছেন। তবে এর আগে নীরবে সবার মন রক্ষা করে আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে দল পুনর্গঠনে মনোযোগ দিয়েছেন তারেক জিয়া। সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ ও জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং ছাত্রদল, যুবদল, মহিলাদল, কৃষক দলসহ দলের অঙ্গসংগঠনগুলোতেও শিগগিরই নতুন মুখ নিয়ে আসা হবে। এরই মধ্যে নতুন মুখে স্থায়ী কমিটিতে বিএনপি নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নাম শোনা যাচ্ছে। এ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বয়সজনিত কারণে তিনি আগের মতো ভূমিকা রাখতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে তিনি অবসর নেয়ার চিন্তাভাবনা করছেন। বর্তমানে দলের প্রয়োজনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে- এমন তরুণ নেতাদের স্থান ছেড়ে দেয়া উচিত বলেও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে ঐক্যফ্রন্ট রেখে যখন ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি তখন দলের শীর্ষ তিন নেতার মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপিকে বিভক্ত করে দলের শক্তিকে ছোট করে দেয়ার চক্রান্ত হচ্ছে। যারা বিভক্ত করতে চায় তাদের পরাজিত করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের রাজনীতিকে বুঝে সেই রাজনীতির পক্ষে আমাদের অত্যন্ত শক্তভাবে অবস্থান নিতে হবে। যদিও তিনি এ দায় সরকারের ওপর চাপিয়েছেন! দলের অন্য একটি মত, এটি তিনি দলের কিছু নেতাকে ইঙ্গিত দিয়েছেন। কেননা এর আগে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। তুলনামূলকভাবে ত্যাগী, যারা পরীক্ষিত নেতাকর্মী তাদের নেতৃত্বে আনতে হবে। আমরা যারা ব্যর্থ বলে পরিচিত হয়েছি, আমাদের পদ ছেড়ে দিতে হবে তরুণদের জন্য। তাহলেই বিএনপি ঘুরে দাঁড়াবে। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, তরুণদের সামনের দিকে এনে দল পুনর্গঠন করতে হবে। দরকার হলে আমরা যারা, আমাদের বয়স হয়ে গেছে, আমরা সরে যাব। তারপরও এই দলটাকে তো রাখতে হবে। এর একমাত্র উপায় হলো পুনর্গঠন করা। এই কাজ আমাদের কয়েক মাসের মধ্যেই করতে হবে। তাহলেই আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব। এ নিয়ে বিএনপির এক স্থায়ী কমিটির ভাষ্য, নতুনভাবে যখন দল পুনর্গঠন হয়ে সরকারের মোকাবিলায় যাওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে, তখন পদ-পদবীতে কারো মন না ভরলে কেউ কেউ সাময়িক কষ্ট পেতে পারেন। তবে সবাই বিএনপিকে ভালোবাসে। সবাই সরকারের পরিবর্তন চান। বিএনপির ভালো চান। এবার নির্বাচনে পরাজয়ে যখন বিএনপি আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তখন এই সরকার নানা ফাঁদ তৈরি করেছে। গণমাধ্যমের কর্মী হিসেবে এটি আপনারাও বুঝেন। তারেক জিয়ার কী পদক্ষেপ এটি এখনো আপাতত কেউ জানেন না। তবে এবার ভালো কিছুর দিকে যে বিএনপি আগাচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছে বলেও মত এই নেতার।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত