রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বেপরোয়াদের লাগাম টানবে আ.লীগ

  • আপলোড তারিখঃ ০৯-০১-২০১৯ ইং
বেপরোয়াদের লাগাম টানবে আ.লীগ
ডেস্ক রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনে বিজয়ী সাংসদদের নিয়ে নতুন সরকার গঠনের পর এবার বেপরোয়া নেতাকর্মীদের লাগাম টেনে ধরবে আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুনীির্ত, ক্ষমতার অপপ্রয়োগ, মাদকব্যবসা ও দখলবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কমর্কা-ে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। এ লক্ষ্যে বেপরোয়া নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরি, তাদের অপকমের্র ধরন ও ফিরিস্তি এবং এ সংক্রান্ত সুনিদির্ষ্ট তথ্য-প্রমাণ যোগাড় করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে দলের সাংগঠনিক পদেও শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে। দলের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, একশ্রেণির নেতাকর্মী দলের সাংগঠনিক কমর্কা-ে ততটা সক্রিয় না হলেও তারা দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা কখনো ঝামেলায় পড়লে দ্রুত স্থানীয় সাংসদ কিংবা বড় কোনো নেতার শেল্টার নিয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের অপকমের্র দায় সরকার তথা দলের উপর পড়েছে। যাতে দলের পরিচ্ছন্ন ভাবমূতির্ ক্ষুণœ হয়েছে। এ অবস্থায় আগামীতে দলীয় সাংসদ কিংবা বড় কোনো নেতা যাতে কোনো দুনীির্তবাজ কিংবা সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় না দেন এজন্য তাদের আগাম সতর্ক করা হচ্ছে। অন্যদিকে দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্বাথাের্নষী যেসব নেতাকর্মী প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করে নানা ধরনের দুনীির্ততে জড়িয়ে পড়েছে তাদের নিয়ন্ত্রণেও শিগগিরই কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রথম সারির একাধিক নেতা জানান, এবারের নিবার্চনী ইশতেহারে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি দমনে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণের অঙ্গীকার করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ জানুয়ারি সাংসদদের শপথগ্রহণ শেষে সংসদ ভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে তিনি দলীয় নেতাদের ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত স্বাথের্র হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা মনে করেন, টানা তৃতীয়বারের মতো দেশ শাসনে জনগণের বিশাল ম্যান্ডেট পাওয়ার পর দল যদি জনগণের বিশাল প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারেন, দলের ভেতরে ও বাইরে দুর্নীতির রাঘব বোয়ালদের দমন করতে ব্যর্থ হয় এবং ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসী অংশকে সংযত করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায় তাহলে এই নিরঙ্কুশ বিজয়ের ফসল ধরে রাখা বেশিদিন সম্ভব হবে না। এছাড়া দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে দলের লোভী এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারী সংসদ সদস্যদের দ্রুত সংশোধন করাও অত্যন্ত জরুরি। দলের নীতি-নিধার্রকদের একটি সূত্রে জানা গেছে, যেসব নেতাকমীর্র বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সন্ত্রাসী কমর্কা-ে মদদ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের নিবার্চনের আগ থেকে পরোক্ষভাবে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। এদের অনেককে নিবার্চনী প্রচার-প্রচারণাতেও দলীয় প্রাথীর্র পক্ষে অংশ নিতে দেয়া হয়নি। এমনকি ভোটের দিন তাদের সহযোগীদেরও কৌশলে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। নিবার্চন পরবতীর্ সময়ে এদের অনেকে দলবলে আওয়ামী লীগের নবনিবাির্চত সংসদ সদস্যদের অভিনন্দন জানানোর চেষ্টা করলেও তারা (সাংসদরা) তাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে যুবলীগের শীষর্স্থানীয় একজন নেতা বলেন, ‘দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। আগামীতে দল এ নীতি কঠোরভাবে মেনে চলবে। এজন্য যে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি, সে পদক্ষেপই গ্রহণ করা হবে।’ দলের ক্লিন ইমেজ থাকলে যোগ্য নেতাকর্মীর অভাব হবে না বলে দাবি করেন তিনি। নতুন তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাসান মাহমুদ বলেন, গত ১০ বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়েও যারা অপরাধ করেছে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ অপরাধীদের দল বিবেচনা করে না। অপরাধীরা যে দলেরই হোক তাদের ব্যাপারে এবারও কোনো ছাড় দেয়া হবে না। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ কোনো অপকর্ম করতে চাইলে তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি সবাইকে মনে করিয়ে দিয়ে, সতর্ক থাকতে বলেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ১০ বছরে দুর্নীতি অনেক কমেছে। দুর্নীতিবাজরা যে দলেরই হোক তাদের ছাড় দেয়া হয়নি। আগের ধারাবাহিকতায় এবারো দুর্র্নীতিবাজদের ছাড় দেয়া হবে না। দুনীির্ত ও বিতকির্ত কমর্কা-ে না জড়াতে দলের নেতাকর্মীদের কঠোরভাবে হুশিয়ার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে দলের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯ জানুয়ারি ঢাকায় সমাবেশে শেষে সারাদেশে সংগঠন গোছানোর কাজ শুরু করা হবে। দলের ‘আবজর্না সাফ’ করে সংগঠনকে আরও বেশি শক্তিশালী, গণমুখী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগুবে আওয়ামী লীগ। যার নেপথ্যে মূল টাগের্ট হবে দলীয় ক্লিন ইমেজ তৈরি করে দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা। জানা গেছে, দলের বেপরোয়া কর্মীদের উদ্দেশ্যে কেন্দ্র থেকে শিগগিরই বিশেষ বার্তা দেয়া হবে। এ বার্তা মেনে যারা দ্রুত সংশোধন হবে তারা দলে থাকার সুযোগ পাবে। তবে তারা দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ পাবেন না। আর যারা সতর্ক বার্তার পরও আগের মতো বেপরোয়া চলার চেষ্টা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশনে যাবে হাইকমান্ড। এমনকি তাদের কেউ আশ্রয় দেয়ার চেষ্টা করলে কিংবা তাদের জন্য সুপারিশ করলে তাদেরও ছাড় দেয়া হবে না। আওয়ামী লীগের প্রথম সারির একজন নেতা এ প্রসঙ্গে বলেন, বিগত সময় রাজনীতিবিদরা ভোটের লড়াইয়ে টিকে থাকতে এবং ক্ষমতা আসীন হতে অপরাধ জগতের ডনদের ব্যবহার করত। পরবর্তীতে তারা নিজেরাই সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়ত। অথচ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এ ধারাকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে রাজনীতিকে নতুন পথে এনে দাঁড় করিয়েছেন। এবারের নিবার্চনে নিরঙ্কুশ বিজয় অজের্নর মধ্য তিনি প্রমাণ করেছেন, জনসমর্থনই রাজনীতির জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি। আর জনসমর্থন অর্জনে সন্ত্রাসী কোনো ভূমিকা নেই। বরং তাদের উপস্থিতিই রাজনৈতিক শক্তিকে ধ্বংস করে। দায়িত্বশীল ওই নেতা বলেন, নানা ছলেবলে কৌশলে অপরাধ জগতের কেউ কেউ অত্যন্ত চুপিসারে দলে ঢুকে পড়েছে। তারা দলকে ভাঙিয়ে নিজেদের রাজ্যের প্রসার ঘটিয়েছে। টেন্ডারবাজি, দখলবাজি ও নানা ধরনের মধ্য দিয়ে বিশাল অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছে। অথচ তাদের নানা অপকমের্র দায় দলের ঘাড়ে এসে চেপেছে। তাই এবার নতুন সরকার গঠন করার পর পরই দলে শুদ্ধি অভিযান শুরু করা হবে। যাতে নতুন করে কোনো কলঙ্কের দায় দলের গায়ে না লাগে। নতুন সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন নেতা বলেন, সুবণর্চরের ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে বিরোধী দল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চালিয়েছে। তবে ধষর্কদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ায় তাদের সে ষড়যন্ত্র ব্যথর্ হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধীকে সামান্য ছাড় দেয়ার মানসিকতাও যে দলের নেই তা প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত