রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

অসহায়-দুস্থ-ছিন্নমূল-অস্বচ্ছল মানুষের মাঝে উষ্ণতা ছড়াতে শুরু করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন

  • আপলোড তারিখঃ ০৫-০১-২০১৯ ইং
অসহায়-দুস্থ-ছিন্নমূল-অস্বচ্ছল মানুষের মাঝে উষ্ণতা ছড়াতে শুরু করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন
গভীররাতে কম্বল নিয়ে শীতার্ত মানুষের দুয়ারে ডিসি গোপাল চন্দ্র দাস এসএম শাফায়েত: এই শীতে কষ্টে আছে অসহায়, দুস্থ, ছিন্নমূল, অস্বচ্ছল, পা ফাটাসহ সমাজের পিছিয়ে পড়া শীতার্ত মানুষগুলো। গায়ে ছেঁড়াফাটা জামা-কাপড়, রাত কাটানোর একমাত্র সম্বল জোড়াতালি দেওয়া লেপ/কাথা/চাঁদর। এরমধ্যেই কারো কারো ঘরে ছাউনি নেই, দেওয়াল নেই, ভাঙা ঘর। কেউ বা আছে রাস্তায়, স্টেশনে, হাসপাতালে। শীতের তীব্রতায় সকলেই যবুথবু। তাপমাত্রা প্রায় হিমাঙ্ক ছুইছুই, সারাদেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পরিবর্তন হতে শুরু করেছে চুয়াডাঙ্গার আবহাওয়া। ঠিক এমন সময় শীতার্ত মানুষের মাঝে উষ্ণতা ছড়াতে শুরু করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন। গতকাল শুক্রবার দিনগত মধ্যরাতে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস স্ব-শরীরে সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের হাতিকাটা আবাসনের প্রায় দু’শতাধিক পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন। আবাসনের আধভাঙা টিনের ঘরগুলোতে থাকা অসহায় মানুষ ও ছিন্নমূল মানুষদের মাঝে নিজ হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন জেলা প্রশাসক। রাতের আধারে ঘুম থেকে উঠে জেলা প্রশাসকের হাত থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে একটি কম্বল পেয়ে অত্যান্ত খুশি এসব মানুষগুলো। আবাসনের প্রতিটি ঘরের দুয়ারে ঘুরে কম্বল বিতরণ শেষে গাড়ী বহর নিয়ে চুয়াডাঙ্গা রেল স্টেশনে যান। প্রকৃত ছিন্নমূল শীতার্ত মানুষগুলোকে বাছাই করে নিজ হাতে কম্বল জড়িয়ে দেন শরীরে। কেউ কেউ ঘুমিয়েছিলেন, তাদেরকে না ডেকে গায়ের উপর তুলে দেওয়া হয় গরম কম্বল। পরে সেখান থেকে ফিরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের রোগী ও সঙ্গে থাকা স্বজনদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস বলেন, ‘বিত্তবান মানুষ গরম কাপড় ক্রয় করে শীত নিবারণ করলেও গরীব-ছিন্নমূল মানুষেরা অর্থের অভাবে শীতের কাপড় ক্রয় করতে পারছে না। তাই অসহায় দরিদ্র, ছিন্নমূল ও নি¤œ আয়ের মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। প্রচন্ড শীতের কারণে দিনমজুর শ্রেণির মানুষ কাজে যেতে পারছে না। রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে শীতার্ত মানুষ শীতে কষ্ট করেন। নিজ চোখে দেখেছি, এরাই প্রকৃত শীতার্ত। তাদের কষ্ট পরখ করে কিছুটা লাঘব করার জন্যই রাতে বের হওয়া।’ গভীর রাতে জেলা প্রশাসকের হাত থেকে কম্বল পেয়ে এক বৃদ্ধা বলেছেন, ‘এবার বেশ উপকৃত হলাম। কেননা তীব্র শীতের মধ্যে পাওয়া এ কম্বল পৌষের কঠিন শীত সামাল দিতে পারবে।’ বৃদ্ধার মতে শীতে কষ্ট পাবার পর কম্বল পেয়ে লাভ কী? এখন শীতের মাঝে যে কম্বল পেলাম তাই এবারের শীত নিবারণের জন্য যথেষ্ট সহায়ক হবে। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ওয়াশীমুল বারী, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা যথাক্রমে নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) সিব্বির আহমেদ, সহকারী কমিশনার আমজাদ হোসেন, খাইরুল ইসলাম, নাজির হামিদুল হক, আবু শাহিন উল্লাহসহ বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নেন।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত