ধানের শীষের প্রার্থীদের নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে বৈঠক
- আপলোড তারিখঃ
০৪-০১-২০১৯
ইং
বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ জানিয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলার নির্দেশ
বিশেষ প্রতিবেদক: জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করেছে বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ, চুয়াডাঙ্গা-২ আলহাজ্ব মাহমুদ হাসান বাবু খান, মেহেরপুর-১ মাসুদ অরুণ, মেহেরপুর-২ জাভেদ মাসুদ মিল্টন, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়াসহ সারা দেশের ২৯৯ আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা। বৈঠকে বিএনপিসহ দুই রাজনৈতিক জোটের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনের পর বড় ধরনের এই বৈঠকটিকে বেশ গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ। নির্বাচন-পরবর্তী বৈঠক উপলক্ষে সকাল ১০টার পর থেকেই প্রার্থীরা আসতে শুরু করেন গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে। বেলা ১১টার দিকে গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশ করার সময় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা আ স ম আবদুর রব সাংবাদিকদের বলেন, ‘৩০ তারিখে কোনো ভোট হয়নি, ভোট ডাকাতি হয়েছে। রাতেই ব্যালটে সিল মেরে বাক্সভর্তি করা হয়েছে।’ কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা হঠকারী কোনো সিদ্ধান্তে যাব না। মাঠপর্যায়ে ভোটারদের কাছে যাব। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করব।’
বৈঠকের শুরুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাগত বক্তব্যে প্রার্থীদের কাছে তাঁদের নিজ নিজ এলাকার ভোটের পরিস্থিতি এবং পরবর্তী করণীয় কী হতে পারে, তা বিস্তারিতভাবে বলতে অনুরোধ করেন।
এরপর উপস্থিত প্রার্থীদের বক্তব্য শোনা হয় এবং তাদের কাছ থেকে ‘ভোট কারচুপি’, ‘কেন্দ্র দখল’, ‘ভোট ডাকাতি’র তথ্য ও অভিযোগের প্রমাণ, ছবি, ভিডিও সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে অভিযোগ আকারে নির্বাচন কমিশন, বিদেশি কূটনীতিকসহ বিভিন্ন দফতরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব তথ্যানুযায়ী প্রথম পর্যায়ে প্রার্থীদেরকে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও বিদেশি কূটনীতিকদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলা হবে যে, আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো সুষ্ঠু ভোট হওয়া সম্ভব নয়। তাই জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি সুষ্ঠু ভোটের দাবি জানাবে বিএনপি শরিকরা।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের প্রার্থীরা নির্বাচনের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ জানিয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করবে।’ নির্বাচন জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ প্রহসন ও তামাশার। এ নির্বাচনে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আমরা এই নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছি।
বৈঠক শেষে বিকাল ৩টার দিকে নির্বাচনের ফল বাতিল করে পুনর্র্নিবাচনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান করেন বিএনপি জোটের নেতারা। এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনর্র্নিবাচনের দাবিতে ঐক্যফ্রন্টের ১৫ জনের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে। আমাদের বক্তব্যগুলো স্মারকলিপিতে লেখা আছে।
বৈঠকে বিএনপির পাশাপাশি জেএসডি, গণফোরাম, খেলাফত মজলিশের প্রার্থীরা থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী উপস্থিত হননি। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মাহবুবুর রহমান, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম উপস্থিত।
এ ছাড়া জেএসডির আ স ম আবদুর রব, আবদুল মালেক রতন, শহীদউদ্দিন মাহমুদ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, ইকবাল সিদ্দিকী, গণফোরামে সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, আমসা আমিন, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, খেলাফত মজলিসের আহমেদ আবদুল কাদের, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনডিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
এরমধ্যে বিজয়ী পাঁচজন প্রার্থী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, হারুনুর রশীদ, আমিনুল ইসলাম, মোশারররফ হোসেন, জাহিদুর রহমানরাও উপস্থিত ছিলেন।
কমেন্ট বক্স