রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

রাজনীতির দুই পক্ষের ভাবনা

  • আপলোড তারিখঃ ০৩-০১-২০১৯ ইং
রাজনীতির দুই পক্ষের ভাবনা
ভায়োলেন্ট হলে জবাব দেবে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ডেস্ক রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের দাবিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আইনের আশ্রয় নেবে এবং আন্দোলনে যাবে- এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, লিগ্যাল ব্যাটল আমরা ফেইস করব। আর আন্দোলনের আওয়াজ তো শুনে আসছি গত ১০ বছর ধরে। দেখি এবার যদি কোনো আন্দোলন তারা বাস্তবে করতে যান তবে তা আমরা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করব। নন-ভায়োলেন্ট মুভমেন্ট আমরা পলিটিক্যালি ফেস করব। আর ভায়োলেন্ট হলে সেটার জবাব দেয়ার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আছে। সচিবালয়ে গতকাল বুধবার বিকেলে ওবায়দুল কাদেরের সাথে ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সাক্ষাৎ শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এ সময় ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা সাংবাদিকদের বলেন, আমি নতুন বছরের শুভেচ্ছা, একই সাথে নির্বাচনে জয়লাভ করায় শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলাম। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সেটাও জানিয়েছি।সুবর্ণচরে এক নারীকে নির্যাতনের ঘটনা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের পরপর নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এক নারীকে নির্যাতনের ঘটনায় অপরাধী যারাই হোক, কেউ পার পাবে না। ইতোমধ্যে পুলিশের আইজির সাথে কথা হয়েছে। একজন ডিআইজি সেখানে গেছেন। প্রশাসন এ ব্যাপারে তৎপর, সরকারও কঠোর অবস্থানে আছে। অপরাধী যেই হোক তাকে শাস্তি পেতেই হবে। ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত এমপিদের শপথ নেয়ার বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমি সেটা আগেও বলেছি। একই কথা আমি বলব, বিষয়টি তাদের পুনর্বিবেচনা করা উচিত। যারা ইলেকটেড হয়েছেন তাদের জনগণ নির্বাচিত করেছেন। কাজেই জনগণের রায়কে তারা সম্মান করবেন, এটিই আমরা আশা করি। তিনি বলেন, গতবার তারা নির্বাচন বয়কট করেছিলেন। এবার অংশ নিয়ে যারা ইলেকটেড হয়েছেন তারা শপথ নেবেন না, তাহলে এটা কী জনরায়কে অসম্মান করা হয় না! আমি মনে করি জনরায়কে তাদের মেনে নেয়া উচিত। সাতজনও একটা বিরাট ভূমিকা পালন করতে পারে পার্লামেন্টে। সংখ্যা কম হলে কণ্ঠস্বর দুর্বল নাও হতে পারে।নতুন মন্ত্রিসভায় কারা আসছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ বিষয়টি আমার জন্য অ্যাম্বারাসিং। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখতিয়ার, এ এরিয়াতে কারো অনুপ্রবেশের সুযোগ নেই। তিনি প্রয়োজন মনে করলে কারো সাথে আলাপ করতে পারেন। মন্ত্রিসভার আকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেটা আমি এ মুহূর্তে বলতে পারছি না। বাড়তেও পারে। প্রথমে একবারে বাড়বে সেটাও তো বলা যাচ্ছে না। কেবিনেটে তো প্রথম কিছু হওয়ার পর, পরে সম্প্রসারিত হয়। এখন প্রথম কিভাবে করবেন তা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তবে ১০ জানুয়ারির মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। বিরোধী দল কে হবে- এ বিষয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, অপজিশন তো আছেই। গতবার তো অপজিশন ছিল তারাও তো আছেন। সেটা ঐকমত্যের সরকার ছিল। এবার ঐক্যফ্রন্ট আছে, তারা শপথ নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন, এটা চূড়ান্ত কি-না সেটাও তো দেখার অপেক্ষা আছে। সাতজনের মধ্যে গণফোরাম আছে, তাদের আবার ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত আছে কি-না, সেটাও দেখার বিষয়। কাজেই দু-তিন দিনের মধ্যে সব ক্লিয়ার হয়ে যাবে। এ সময় তিনি আজ বৃহস্পতিবারের পার্লামেন্টারি পার্টির মিটিং সম্ভবত নাও হতে পারে বলে জানান। বিপুল ভোটে বিজয়ী সরকারের চ্যালেঞ্জ কী হবে- সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ করা। ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতিগুলো আমাদের লিডার শেখ হাসিনা জাতির সামনে ঘোষণা করেছেন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই হলো চ্যালেঞ্জ। বিশাল বিজয়ের সাথে বিশাল দায়িত্বও জড়িয়ে আছে।  

নির্বাচনে অনিয়মের বিপক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে চায় ঐক্যফ্রন্ট

ডেস্ক রিপোর্ট: নির্বাচনে অনিয়মের বিপক্ষে দেশে-বিদেশে জনমত সৃষ্টি করতে চায় ঐক্যফ্রন্ট। ইতোমধ্যে সেই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থীদের কাছ থেকে অনিয়মের যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে বিএনপি। আজ প্রার্থীদের সাথে দলটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবে। এরপর অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে নতুন নির্বাচনের দাবিতে ইসিতে স্মারকলিপি দেয়া হবে। ফল প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচনের দিনই নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। ধানের শীষের সাত প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ না নেয়ারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ধানের শীষের প্রার্থীরা এমপি হিসেবে শপথ নেবেন না; কারণ শপথ নেয়া মানে এ সরকারের ভোট ডাকাতিকে বৈধতা দেয়া। এটা আমরা করব না। নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যানের পর নতুন সরকারকে স্বীকৃতি না দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। ডয়েচে ভেলেকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘প্রহসনের এ নির্বাচনে জনগণের মতামতের কোনো প্রতিফলনই ঘটেনি। প্রশ্নবিদ্ধ এ নির্বাচনকে বৈধতা দিয়ে নিজের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। আমি আশা করি জাতিসঙ্ঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এ ভোট ডাকাতির নির্বাচনকে কোনোভাবেই স্বীকৃতি দেবে না।’ ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে নিজ নিজ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। নির্বাচনী অভিযোগ আইনগতভাবে মোকাবেলার কথা বলেছে জাতিসঙ্ঘ। অনিয়মের অভিযোগ স্বচ্ছতার সাথে তদন্ত করে সুরাহা করার দাবি তুলেছে এসব আন্তর্জাতিক সংস্থা। ভোটে অনিয়মের সব অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ সমাধান চেয়েছে ব্রিটেনও। জানা গেছে, বিএনপি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এমন অবস্থানকে আরো সক্রিয় করতে তৎপরতা বাড়ানোর চিন্তা করছে। নির্বাচনে অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য জানতে ধানের শীষের প্রার্থীদের নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বৈঠক করবে বিএনপি। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সকাল ১০টায় এ বৈঠক হবে। এতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটে থাকা ধানের শীষের প্রার্থীরাও অংশ নেবেন। থাকবেন জোট ও ফ্রন্টের নেতারাও। বৈঠক শেষে একটি প্রতিনিধিদল যাবে নির্বাচন কমিশনে। সদ্য সমাপ্ত ভোটে অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদাকে স্মারকলিপি দেবেন ধানের শীষের প্রার্থীরা।জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষনেতা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সকাল ১০টায় গুলশানে ধানের শীষের প্রার্থীদের বৈঠক হবে। এরপর একটি প্রতিনিধিদল যাবে নির্বাচন কমিশনে। সেখানে ভোটে অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে সিইসিকে স্মারকলিপি দেয়া হবে। জানা গেছে, নির্বাচনে অংশ নেয়া ধানের শীষের প্রার্থীদের মুখ থেকে ভোটের অনিয়মের বর্ণনা শুনবে বিএনপির হাইকমান্ড। এরপর তাদের কাছ থেকে অনিয়মের প্রমাণগুলোও সংগ্রহ করা হবে। প্রয়োজনে এসব নিয়ে আদালতের আশ্রয় নেবেন প্রার্থীরা। ঢাকায় বিভিন্ন দেশের দূতাবাসেও অনিয়মের সচিত্র কপি পাঠানো হবে। এ ছাড়াও এ নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিদের সাথেও বৈঠক করবে। নির্বাচনে অনিয়মের বিপক্ষে দেশে-বিদেশে জনমত সৃষ্টি করতে চায় ঐক্যফ্রন্ট। জানা গেছে, ধানের শীষের প্রার্থীদের ভোটে অনিয়ম-কারচুপির প্রমাণ, প্রতিটি কেন্দ্রের অস্বাভাবিক ভোটের হিসাব, গ্রেফতার হওয়া এজেন্ট ও নেতাকর্মীদের তালিকা, সহিংসতায় আহত ও নিহতদের তালিকা সংবলিত আটটি বিষয়ে তথ্যসহ একটি প্রতিবেদনও দিতে বলা হয়েছে। ভোট কারচুপির ভিডিও থাকলে তাও প্রতিবেদনের সাথে দিতে বলা হয়েছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত