নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত-২১
- আপলোড তারিখঃ
৩১-১২-২০১৮
ইং
ডেস্ক রিপোর্ট: পুলিশের গুলি, প্রতিপক্ষের হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া আর ব্যাপক সহিংসতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এক তরফা ধরনের এই নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সহিংসতায় ২১ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে প্রতিপক্ষের হামলা, পুলিশের গুলিতে তাদের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে রাজশাহীর মোহনপুর ও গোদাগাড়ীতে আওয়ামী লীগের ২ কর্মী, নাটোরের নলডাঙায় আওয়ামী লীগ কর্মী, রাঙ্গামাটিতে যুবলীগ কর্মী, কক্সবাজারের পেকুয়ায় নৌকার সমর্থক, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম ও চান্দিনায় বিএনপির ২ কর্মী, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জাতীয় পার্টির কর্মী, পটিয়ায় ছাত্রসেনা ও যুবলীগ কর্মী, টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বিএনপির এক কর্মী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক যুবক, বগুড়ার কাহালুতে আওয়ামী লীগ কর্মী, নরসিংদীতে আওয়ামী লীগ কর্মী, সিলেটের বালাগঞ্জে ছাত্রদল নেতা, লক্ষ্মীপুরের দত্তপাড়ায় এক যুবক, গাজীপুরে আওয়ামী লীগ কর্মী, নোয়াখালীতে আনসার সদস্য, যশোরে বিএনপির কর্মী, লালমনিরহাটে এক যুবক এবং সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। ভোটের আগের রাত থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের আসনগুলোয় সহিংসতায় দু’জনের প্রাণহানি এবং বেশ ক’জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটলেও মহানগরীর আসনের মধ্যে চারটি আসনে ভোটকেন্দ্র ছিল একেবারেই সুনসান। তবে দৃশ্যত কোনো সহিংসতা না থাকলেও ভোট শুরুর আগেই এসব কেন্দ্র দখল করে নৌকায় সিল মারার এবং ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করেছে বিএনপি। এ ছাড়া ইভিএম কেন্দ্রেও প্রকৃত ভোটারের আঙুলের ছাপ নিয়েই প্রতীক সরকারদলীয় লোকজন কর্তৃক সিলেক্ট করার অভিযোগ বিএনপি নেতারা যেমনি করেছেন, তেমনি সরেজমিন কয়েকজন ভোটারও একই অভিযোগ করেন। বিএনপির পক্ষ থেকে আরো অভিযোগ করা হয়েছে, আগেভাগেই ব্যালটে সিল মারার কারণে কেন্দ্রে যাতে ব্যালটের সঙ্কট দেখা না দেয় সেজন্য ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া হয়েছে। আবার কোনো কোনো কেন্দ্রে সরকারদলীয় লোকজনকে প্রদর্শন করেই নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা। চট্টগ্রামের পটিয়া ও বাঁশখালীতে নির্বাচনী সহিংসতায় দু’জন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন- পটিয়ায় মাদরাসা ছাত্র আবু সাদেক এবং বাঁশখালীতে লাঙ্গলের সমর্থক আহমেদ কবির। এ ছাড়া পটিয়ায় তিনজন, সাতকানিয়ায় ছয়জন এবং বাঁশখালীতে দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আবু সাদেক নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি ওই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি ইসলামী ফ্রন্টের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসেনার সদস্য। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হলেন- মোহাম্মদ মুন্না (২৮), মো: ইলিয়াছ (৪০)। এ ছাড়া বাঁশখালী উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় গুলিতে আহমদ কবীর (৪৫) নামে জাতীয় পার্টির এক কর্মী নিহত হন।
রাজশাহীর তানোর ও মোহনপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে দুই নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার ভোটগ্রহণ চলাকালে দুপুর ১২টায় তানোরের পাঁচন্দর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ নেতা মোদাচ্ছের আলী (৪০) নিহত হন। নিহত মোদাচ্ছের মোহাম্মদপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি পাঁচন্দর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া তানোর উপজেলার চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিরস্থইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পারিশো-দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কৃষ্ণপুর উচ্চবিদ্যালয়, তানোর পাইলট উচ্চবিদ্যালয়, কামারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সংঘর্ষ হয়েছে। আর সকাল সাড়ে ১০টায় মোহনপুর উপজেলার পাইকপাড়া পাকুড়িয়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ কর্মী মিরাজুল ইসলাম (২২) নিহত হন। নিহত মেরাজুল ইসলাম পাকুড়িয়া এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকর্মী নিহতের ঘটনায় উভয়পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। অপরদিকে সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রাজশাহী-৩ আসনের বেশ কয়েকটি এলাকায় ভোটকেন্দ্র দখল নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কয়েকটি কেন্দ্র দখল করে নেন। বেলা সোয়া ১১টায় এ আসনের পবা উপজেলার নওহাটা কলেজে কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে কেন্দ্রটি দখলে নেন। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হাতে ধারালো হাঁসুয়াসহ লোহার পাইপ ও বাঁশের লাঠি ছিল। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় খসরু (৪০) নামে এক বিএনপি কর্মী আহত হয়েছেন। তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) পাঠানো হয়েছে। হামলার সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল বলে বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ ছাড়া একই আসনের নওহাটা গার্লস হাইস্কুল কেন্দ্র দখলে নেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এ কেন্দ্র থেকে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। একই আসনের মোহনপুর উপজেলার বিশহারা এবং সইপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখলে নেয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ, লালমাই, নাঙ্গলকোট) আসনের নাঙ্গলকোট উপজেলা এলাকায় বাচ্চু মিয়া (৫০) নামে একজনকে হেলমেটপরা সন্ত্রাসীরা হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। বাচ্চু মিয়া ওই ইউনিয়নের সোন্দাইল-অশ^দিয়া ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি বলে জানা গেছে। এ ছাড়া জেলার চান্দিনা পৌরসভার বেলাশ^র এলাকায় দুপুর ১২টায় মুজিবুর রহমান (৩৫) নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এদিকে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) সংসদীয় আসনের পৌর এলাকার বেলাশ^র গ্রামে মজিবুর রহমান নামে একজন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। তিনি জেলার মুরাদনগর উপজেলার লাজুর গ্রামের সুজাত আলীর ছেলে। তিনি চান্দিনা পৌর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। চান্দিনা থানার ওসি আবু ফয়সাল জানান, এলডিপি-বিএনপির প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মী বেলাশ^র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মুজিবুর রহমান মারা যান। ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
কক্সবাজারের চারটি আসনের প্রত্যেকটিতে শনিবার গভীর রাত থেকেই নৌকার পক্ষে ব্যালেটে সিল মারা হয়েছে। টেকনাফের লেদা প্রাইমারি স্কুল কেন্দ্রে নৌকা সমর্থকেরা গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল করে নেয়। কক্সবাজার শহরের হাশেমিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের সমর্থকেরা গোলাগুলি করে ধানের শীষের এজেন্ট ও ভোটারদের বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল করে নেয়। সদরের তেতৈয়া তাফহিমুল কুরআন মাদরাসা কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতিতেই নৌকা সমর্থকেরা গুলি চালিয়ে কেন্দ্র দখল করে নেয়। পেকুয়ার রাজাখালী মাতবর পাড়া কেন্দ্রে ভোট দানে বাধা দেয়ায় বিক্ষুব্ধ জনতা এক ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা করে। নিহতের নাম মো: আবদুল্লাহ। তার বড়ি উলুদিয়া এলাকায় বলে জানা গেছে। একইভাবে কুতুবদিয়া ও মহেশখালীতে কয়েকটি কেন্দ্রে সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সদর উপজেলার রাজঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে ইসরাইল হোসেন (২০) নামে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্র দখল করে নৌকা প্রতীকে সিল মারা, জালভোট প্রদান ও বিএনপি প্রার্থীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ নানান অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত যুবদল কর্মী ইসরাইল সদর উপজেলার রাজঘর গ্রামের আবু সায়েদ মিয়ার ছেলে। সে পেশায় রাজমিস্ত্রি বলে তার পরিবার সূত্রে জানা যায়। প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানান, ভোট গ্রহণ শুরুর কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই নৌকার সমর্থকেরা কেন্দ্রটি দখল করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু ধানের শীষের সমর্থকদের প্রতিরোধের মুখে তা সম্ভব হচ্ছিল না। এরই মধ্যে বেলা ১১টায় মহাজোট প্রার্থী র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এ সময় পুলিশ তার উপস্থিতিতেই ধানের শীষের সমর্থকদের লক্ষ করে গুলি ছুড়েন। এতে যুবদল কর্মী ইসরাইল গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের গুলি ও নৌকা সমর্থকদের যৌথ আক্রমণে আরো অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। এ দিকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের শহরের পুনিয়াউটস্থ বাসভবনে অগ্নিসংযোগ করেছে দুবৃত্তরা।
রাঙ্গামাটি কাউখালী উপজেলার কাশখালীতে আওয়ামী লীগ বিএনপির সংঘর্ষে ঘাঘড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বাশির উদ্দিন নিহত হয়েছেন। রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর জানান, কাশখালী কেন্দ্রে যাওয়ার সময় বাছির তার দুই সঙ্গীকে নিয়ে বিএনপির কর্মীরা গতিরোধ করে হামলা চালায়। পরে এ ঘটনার জের ধরে দুই পক্ষ এসে আবার সংঘর্ষে লিপ্ত হলে প্রায় ১০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত বাছির ও আসলামকে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে পাঠানো হলে ডাক্তার বাছিরকে মৃত ঘোষণা করে। বগুড়ার কাহাল উপজেলায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংষর্ষে আজিজুল ইসলাম (৩০) নামে আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হয়েছে। সে ওই গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে। সংঘর্ষে এক ইউপি সদস্যসহ পাঁচ-ছয়জন আহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কাহালু উপজেলা পাইকড় ইউনিয়নের বাগইল ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে মহাজোট ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় আওয়ামী লীগ কর্মী আজিজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে মারা যায়। সংঘর্ষ, হতাহত ও ভোটকেন্দ্র দখলের উৎসবের মধ্য দিয়ে দিনাজপুরের ছয়টি আসনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়ার প্রতিবাদে সৃষ্ট হাঙ্গামায় বিরল উপজেলার ম-লপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর লক্ষ্মীপুর গ্রামের একজন নিহত হয়। ভোটকেন্দ্রে এজেন্টদের থাকতে না দেয়ার প্রতিবাদে দিনাজপুর-১ ও দিনাজপুর-৬ আসনের ধানের শীষ মার্কার প্রার্থীরা ভোট বর্জন করেন। দিনাজপুরের বিরলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় ভোট দিয়ে যাওয়ার পথে পড়ে গিয়ে কিনা মোহাম্মদ (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া দেখে ভয়ে দৌড়ে যাওয়ার সময় তিনি রাস্তার ওপর পড়ে যান। এতে মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান কিনা মোহাম্মদ।
সিলেট-৩ আসনের বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল সেক্রেটারি সায়েম সোহেল (২৬) আওয়ামী লীগ কর্মীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। গতকাল বেলা ২টায় আজিজপুর কেন্দ্র আওয়ামী লীগ কর্মীরা দখল করতে গেলে স্থানীয় বিএনপির সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ কর্মীদের গুলিতে সায়েম আহত হন। সিলেট মেডিক্যালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। গাজীপুরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রহরায় কেন্দ্র দখলের অভিযোগ করেছে বিএনপি। তবে মহাজোট ও স্থানীয় প্রশাসন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেছে। এ দিকে, গাজীপুর মহানগরের হাড়িনাল এলাকায় সহিংস ঘটনায় একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। তিনি হলেন- কাজী আজিম উদ্দিন কলেজের ছাত্রলীগের সাবেক ভিপি মো: লিয়াকত হোসেন (৪০)। তিনি মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাতি মাসুদ রানা এরশাদের বড় ভাই। আহতরা হলেনÑ নিহত লিয়াকতের বন্ধু স্থানীয় যুবলীগ কর্মী মো: আশরাফ (৪০), স্থানীয় আওয়ামী লীগকর্মী খায়রুল ইসলাম (৪০) ও গণি মিয়া (৪২)। মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য মো: রফিজ উদ্দিন জানান, দুপুর দেড়টার দিকে ৪০-৫০ জনের একদল যুবক হাতে লাঠি-সোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মহানগরের গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজ ফটক, কাজী আজিম উদ্দিন কলেজ ও আশপাশে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। পরে তারা স্থানীয় হাড়িনাল উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের বাইরে বসে থাকা ওই চারজনের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। এতে ওই চারজন আহত হন। তাদের প্রথমে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
লালমনিরহাট সদর-৩ আসনের ৮৯টি ভোটকেন্দ্রে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও একজন বিএনপি কর্মী সংঘর্ষে নিহত ছাড়া বাকি সব কেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাররা ভোট প্রদান করেছে। জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মো: হাফিজুর রহমান বাবলা সাংবাদিকদের জানান, লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের পাগলারহাট ভোটকেন্দ্রে আ’লীগ- বিএনপি সংঘর্ষে আহত বিএনপির কর্মী মোজাম্মেল হক (৫৫) রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। তিনি জানান, গিয়াস উদ্দিন, মিশন স্কুল, কবি শেখ ফজলুল করিম বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও বত্রিশ হাজারী উচ্চবিদ্যালয়ে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টকে বের করে দিয়েছে আ’লীগের ক্যাডাররা। এজেন্ট বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল, ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা প্রকাশ্য অস্ত্র প্রদর্শন হামলা ককটেল বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে নোয়াখালীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়। এ সময় সংঘর্ষে ২ শতাধিক আহত হয়। নোয়াখালীর-৫ কোম্পানীগঞ্জ কবিরহাট আসনের বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ নিজের ভোট দিতে পারেননি। তিনি অভিযোগ করেন কোনো কেন্দ্রেই এজেন্ট প্রবেশ করতে দেয়নি আ’লীগ কর্মীরা। তারা প্রকাশ্য নৌকায় সিল মারে। নোয়াখালী-৪ আসনের প্রার্থী মো: শাহাজাহান অভিযোগ করেন ৫০টি কেন্দ্রে এজেন্ট বের করে দিয়ে নৌকায় সিল মারে। এ সময় তাদের হামলায় ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়। পুলিশ ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। পরে তিনি বেলা ১১টায় ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। উপজেলার গোপালপুর ইউপির তুলাচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কেন্দ্রের বাহিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এতে একপর্যায়ে দুপুর ১২টায় ব্যালটবাক্স ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্য নুরুননবী বাধা দেয়। তাকে লক্ষ করে গুলি করলে সে মারাত্মক আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনার পথে সে মারা যায়। এ ঘটনার পর উক্ত কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান।
নরসিংদী-৩ শিবপুর নির্বাচনী সহিংসতায় একজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এতে আহত হয়েছে পাঁচজন। জানা যায়, শিবপুর আসনের বাঘাব ইউনিয়নের কুন্দারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচনী কেন্দ্রে মো: মিলন মিয়া (৪৫) আওয়ামী লীগের এজেন্টকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। কুন্দারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রের পশ্চিমপাশে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, রোবার দুপুর ১২টার দিকে নরসিংদী-৩ (শিবপুর) নির্বাচনী এলাকার কুন্দারপাড়ার ভোটকেন্দ্রে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া দেখা দিলে পুলিশ সেখানে গিয়ে মো: মিলন মিয়ার (৪৫) গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে। তার বাড়ি স্থানীয় বংপুর গ্রামে। তার বাবার নাম হজরত আলী। তাকে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না, তদন্ত চলছে। মিলন মিয়া আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহনের নৌকা প্রতীকের এজেন্ট ছিলেন। মৌলভীবাজারের ৩ আসনের অধিকাংশ কেন্দ্রে বেলা ১টার মধ্যে বের করে দেয়া হয়েছে ধানের শীষের এজেন্টদের। ৬৮টি কেন্দ্র ছাত্রলীগ, যুবলীগ, পুলিশ ও বিজিবি দখল করে জাল ভোট প্রদানের অভিযোগ এনে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি করেছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নাসের রহমান। বিভিন্ন কেন্দ্রে গুলোযোগে ওসিসহ ২৫ জন আহত হয়েছেন। মৌলভীবাজার-৩ আসনের ১০টি কেন্দ্রে সকাল ১০টার দিকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বেলা ১টার মধ্যে ভোট সম্পন্ন করেছে বলে অভিযোগ করেন ভোটাররা। একই সঙ্গে ওই কেন্দ্রে আসা বিএনপির নেতাকর্মীদেরও কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। ভোট গ্রহণের শেষ পর্যায়ে রাজনগর থানার ওসি শ্যামল বণিক পুলিশের স্ট্রাইকিং দল নিয়ে রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার সোনাটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গেলে ভোট গণনার বিষয় নিয়ে স্থানীয় জনতা তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় ওসি শ্যামল বণিক,সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ ১২ জন আহত হন।
বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা এবং ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে গাইবান্ধার চারটি আসনে গতকাল রোববার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ চলাকালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পরান সরকারি বয়েজ প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশ গুলি ছুড়ে উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় ৫ রাউন্ড গুলি ছুড়লে দুইজন আহত হন। তারা হচ্ছেন- পরান গ্রামের রহমত উল্যাহর ছেলে মফিজুল হক (২৪) ও আইয়ুব আলীর ছেলে শাহীন মিয়া (২৩)। আহতদের প্রথমে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ জানায়, গাইবান্ধা শহরের জুবলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুরে ভোটগ্রহণ চলাকালে মোবাইল ফোনে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে ঐক্যফ্রন্টের কর্মীদের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তর্কবির্তকের একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ও শটগানের গুলি ছোড়া হয়। চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসনের হাইমচর উপজেলার উত্তর আলগী এলাকায় পুলিশের গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্যসহ গাড়ির চালক আহত হন। হাইমচর উপজেলার কমলাপুর এলাকায় বেলা পৌনে ১১টার দিকে এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরই তিন বিএনপি নেতার বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তদের আগুন দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দক্ষিণ কমলাপুর গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে আখন্দ বাড়ির বিএনপি নেতা সাবেক ইউপি সদস্য শফিক আখন্দ, একই বাড়ির বাসিন্দা উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মান্নান আখন্দ ও তার সহোদর মোখতার আখন্দের পাঁচটি ঘর ও বাবুল মিজির একটিসহ তাদের তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে দেয়া হয়েছে। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অন্য দিকে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে দুই একটি কেন্দ্র ছাড়া বাকি কেন্দ্রগুলোতে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন কেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। সকাল ৯টায় হাজীগঞ্জ পাইলট হাইস্কুল কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে বিএনপি সমর্থিত ৯ জন, আওয়ামী লীগের চারজনসহ আহত হয়েছে। একই সময় হাজীগঞ্জ টংগীরপাড় উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশে লাউকোরা, অলিপুর, ধড্ডা, পাতানিশ, সুহিলপুর, মেনাপুর, আলীগঞ্জ পিটিআই কেন্দ্রের বাইরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এ দিকে এনায়েতপুর গ্রামের বিএনপির নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে। ভোটাররা অভিযোগ করে তাদের ভোটকেন্দ্রে যেতে দেয়নি এবং ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ফরিদগঞ্জ ও কচুয়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে খবর পাওয়া গেছে। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের বড়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে অজ্ঞাত এক যুবক (৩৫) নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক রাকিব হোসেন ও ১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মো: জহির গুলিবিদ্ধ হন। নিহত ওই ব্যক্তির নাম ও রাজনৈতিক পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়নের বাইশকাইল গ্রামে আব্দুল আজিজ (৭০) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত আজিজ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বলে স্থানীয়রা জানালেও পুলিশ বলছে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নন। গতকাল সকালে ওই গ্রামের একটি ধানখেত থেকে আজিজের লাশ উদ্ধার করা হয়। শনিবার এশার নামাজের পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। নাটোরের নলডাঙ্গায় ভোট দিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থক ভাতিজা রতন আহমেদের ছুরিকাঘাতে আওয়ামী লীগ কর্মী চাচা হোসেন আলীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টায় উপজেলার সমাস খলসি দিয়ারপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত হোসেন আলী একই এলাকার অছিমুদ্দিনের ছেলে। জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ও এলাকাবাসী জানান, উপজলোর সমাস খলসি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে যায় বিএনপি সর্মথক রতন আহমদে ও তার স্ত্রী। এ সময় আওয়ামী লীগ কর্মী চাচা হোসেন আলী তাদের বাধা দেয় এবং পরে বাড়িতে গিয়ে ভাতিজাকে চড়-থাপ্পড় মারে। এতে ভাতিজা রতন ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা ছোরা দিয়ে চাচা হোসেন আলীর পেটে আঘাত করে। স্থানীয়রা আহত হোসেন আলীকে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বান্দরবানের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে পুলিশ ফাঁকা গুলিবর্ষণ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে। দুপুর ১২টায় বান্দরবান সদরের বালাঘাটা হাফেজ ঘোনা, বাসস্টেশন ও শহর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। অন্য দিকে আলীকদম উপজেলার কয়েকটি কেন্দ্রে গোলযোগ হয়েছে। এ সময় আতঙ্কে ভোটাররা ভোটকেন্দ্র থেকে বের হয়ে যায়। দুপুরে পর অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র ফাঁকা ছিল। জেলার লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়িসহ অধিকাংশ এলাকায় একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে। বিএনপি প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট অধ্যাপক ওসমান গনি জানান, নির্বাচনের কোনো পরিবেশই ছিল না। কেন্দ্র দখল করে জালভোট দেয়া হয়েছে। নেতাকর্মীরা ভোটকেন্দ্রের পাশেও যেতে পারেনি। রিটার্নিং অফিসার দাউদুল ইসলাম জানান, কিছু কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। তবে পুরো জেলায় নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক ছিল। বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যশোর সদর আসনে ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ওপর দুইবার হামলা হয়েছে। প্রথম দফায় সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি শহরের বারান্দিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গেলে এবং পরে ১২টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি ইনস্টিটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে আবার তার ওপর হামলা চালানো হয়। দুইবারই তার গাড়ি ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। যশোরে-৩ আসনে ভোটকেন্দ্র দখল ও ভোটারদের ওপর হামলার ঘটনায় ১ পিস্তল, ১টি শটগান ও বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিসহ যুবলীগ নেতা তুহিন ও মঈনকে আটক করে বিজিবি। পরে তাদেরকে কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়।
কমেন্ট বক্স