রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আজ ভোট বিস্ফোরণের দিন

  • আপলোড তারিখঃ ৩০-১২-২০১৮ ইং
আজ ভোট বিস্ফোরণের দিন
ডেস্ক রিপোর্ট: গণতন্ত্র এবং ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক দিন আজ। দীর্ঘ ১০ বছর পর দেশের প্রায় সাড়ে ১০ কোটি ভোটার ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। নীরব ব্যালট বিপ্লবের জন্য মুখিয়ে রয়েছেন সারাদেশের কোটি কোটি ভোটার। নিষেধাজ্ঞামূলক নির্বাচনী পরিবেশে ৩০ ডিসেম্বর হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ১৯৩৭, ১৯৭০, ১৯৯১ সালের নির্বাচন যেমন ইতিহাসে গণতান্ত্রিক রাজনীতির বাঁক ঘুরিয়েছে; তেমনি আজকের নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি চাই, একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হোক। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক সেটাই আমাদের কাম্য। নতুন ভোটার, তরুণ, নারী ভোটারসহ সব বয়সের ভোটারদের ফজরের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘যদি তুমি ভয় পাও তবেই তুমি শেষ, যদি তুমি ঘুরে দাঁড়াও, তবেই বাংলাদেশ’। এমনকি সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ভোটারদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনারা নির্ভয়ে ভোট দিন, আমরা আপনাদের আশপাশে থাকব’। আন্তর্জাতিক মহল এই নির্বাচনকে ‘অসমতল পরিবেশে নির্বাচন’ হিসেবে অবিহিত করেছেন। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভাষায় এটা ‘অগণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন’। দেশের সুশীলসমাজ, বিরোধী দল ও মিডিয়ার ভাষায় ‘একপক্ষীয় প্রচারণায় নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন’। পুলিশি জুলুম-নির্যাতন, বাধা-বিপত্তি এবং মানুষের মধ্যে ভীতি-আতঙ্ক ছড়ানো এবং জায়ান্ট দুই প্রতিপক্ষের দাঁতে দাঁত ঠোকাঠুকি বিবাদের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল আকাঙ্খিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রশাসন-পুলিশ-নির্বাচন কমিশন-আদালত সব পক্ষ থেকে এক পক্ষকে জিতিয়ে দেয়ার কূটকৌশলের মধ্যেই মানুষের ভোট দেয়ার প্রস্তুতি দেখে মনে হচ্ছে আজ ভোট বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। প্রতিকূল পরিবেশেও লাখ লাখ মানুষ রাজধানী ঢাকা ছেড়ে গ্রামে গেছেন ভোট দেয়ার জন্য। যে কোনোভাবেই হোক তারা গণতান্ত্রিক অধিকার ‘ভোট’ দিয়ে আগামীর ‘শুভদিন’ গড়তে চান। শীতের মধ্যেই জবুথবু মানুষ ভোট দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যাতে ভোট দিতে পারেন সে জন্যই কেউ ব্যবসা-পারিবারিক বা অন্য কোনো কাজ রাখেননি। কারো কারো মধ্যে ভোট দেয়ার পরিবেশ নির্বিঘœ থাকবে কি না তা নিয়ে আতঙ্ক থাকলেও অন্যেরা তাদের অভয় দিয়ে ভোট দিতে যাওয়ার উৎসাহ দিচ্ছেন। গণতন্ত্র এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান কেমন হবে তা নির্ভর করছে আজকের ভোটের ওপর। বিশ্বসভায় দেশ ‘গণতান্ত্রিক’ ‘নিয়ন্ত্রিত গণতান্ত্রিক’ নাকি ‘স্বৈরতান্ত্রিক’ হিসেবে চিহ্নিত হবে তা নির্ভর করছে মানুষ ভোট প্রয়োগ করতে পারল কি না তার ওপর। তাই এই নির্বাচন ‘ইতিহাসের পাতায়’ জায়গা করে নেবে। মূলত বাংলা মুলুকে প্রথম নির্বাচন হয় ৭৫০ সালে পাল বংশের শাসনামলে। ‘পাল’ শব্দের অর্থ হলো ‘রক্ষাকর্তা’। ওই সময় বৌদ্ধধর্মাবলম্বী গোপালকে সমাজের ১০ জন মিলে সামন্ত রাজা হিসেবে নির্বাচিত করেন। গোপাল ২০ বছর বাংলা মুল্লুক শাসন করেন। এর হাজার বছর পর ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে সিরাজ উদ দৌলার পরাজয়ের পর ইংরেজদের শাসন শুরু। জনগণের ভোট বলতে যা বোঝায় সেটা হয় ১৯৩৭ সালে ইংরেজ শাসনামলে। মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের প্রজা-কৃষক শোষণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে উপমহাদেশের কৃষকদের নিয়ে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক কৃষক প্রজা পার্টি (কেএসপি) প্রতিষ্ঠা করেন। এ সময় বাংলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ভোট দেয়ার রেওয়াজ চালু হয়। এরপর ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পর ’৭০-এর নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ভোট বিপ্লব। মূলত ’৫৪, ’৭০ ও ’৯১ সালের নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রের জন্য ছিল ঐতিহাসিকভাবে তৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ ২৮ বছর পর নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত