রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বেপরোয়া গতিই দুর্ঘটনার মূল কারণ

  • আপলোড তারিখঃ ১৪-১২-২০১৮ ইং
বেপরোয়া গতিই দুর্ঘটনার মূল কারণ
এসএম শাফায়েত: চুয়াডাঙ্গার প্রবেশ মুখ থেকে শহরের উপর দিয়ে মেহেরপুর মুজিবনগর পর্যন্ত মহাসড়ক সংস্কারের কাজ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। এই কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেহেরপুরের জহুরুল লিমিটেড। সড়ক সংস্কারের কাজে বিটুমিন, পাথর, বালি, মিক্সার (পাথর, বিটুমিন ও পিচের মিশ্রণ), প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হয় ১০ চাকার দৈত্যকার লরি বা হাউড্রোলিক কন্ট্রোল বডি সম্পন্ন ট্রাকসহ বেশ কিছু ছোট বড় গাড়ী। এ সমস্ত মালামাল সরবরাহ করা হয় জহুরুল লিমিটেডের মেহেরপুর ডিপো থেকে। মেহেরপুর থেকে দুর্ঘটনাস্থল কুলপালা বাজারের উপর দিয়ে প্রতিনিয়তই বেপরোয়া গতিতে এতদাঞ্চলের মহাসড়কে চলাফেরা করে গাড়ীগুলো। এরআগেও বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনাশঙ্কায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও চালক/হেলপারদের সতর্ক বার্তা দিয়েছে স্থানীয়রা। সেই সতর্কবার্তাকে তোয়াক্কা না করার ফলস্বরূপ সড়কে ঝরে গেলো তরতাজা তিনটি প্রাণ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় আলমসাধু চালক লিটন হোসেনসহ রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকা দুই ভাই রাকিব ও সাকিব। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বেপরোয়া গতিই দুর্ঘটনার মূল কারণ। সরেজমিনে ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছি বিস্তারিত।একটি দুর্ঘটনা: গৃহত্যাগী সূর্যটাকে সঙ্গী করে রোজগারের প্রধান হাতিয়ার আলমসাধুটি নিয়ে প্রতিদিনের ন্যায় বাড়ি থেকে বের হয়েছিল লিটন। মেহেরপুরের একটি মুরগী খামারের খাবার সরবরাহের জন্য খুব সকালে যেতে হয় চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সৌদি পোল্ট্রি ফিডে। সেখান থেকে ৩০ বস্তা পোল্ট্রি ফিড বোঝাই করে মেহেরপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে সে। আগে থেকে ভাড়া চুক্তি হওয়ায় আর গাড়ীতে কোন যাত্রী না থাকায় বেশ স্বাভাবিক গতিতেই যেতে দেখা যায় তাকে। পথিমধ্যে কুলপালা বাজার নামকস্থানে পৌছুলে ঘটে বিপত্তি। সময় তখন বেলা ১২টা ৪৫মিনিট। বিপরীত দিক থেকে ছুটে আসা বেপরোয়া গতি সম্পন্ন লরি/ট্রাক সামনে থেকে ধাক্কা দেয় পোল্ট্রি ফিড ভর্তি তার আলমসাধুটিকে। এরপর রাস্তার উপর আছড়ে পড়ে লিটন, ঘাতক ট্রাকটির ঘুর্নি গতির চাকা ১০টি পর্যায়ক্রমে তাকে পিষ্ট করতে থাকে। মুহূর্তেই রক্ত-মাংসের শরীরটি পিচঢালা কালো সড়ককে লালাকার রূপ দেয়। এরপর দৈত্যকার ঘাতক ট্রাক নিয়ে পালাতে থাকে চালক ও হেলপার। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার বা পাশে দাড়িয়ে থাকা আরও দুটি নসিমন/করিমনকে ধাক্কা দিয়ে বধ করে দুই ভাইয়ের কোমল প্রাণ। সেখান থেকে ২০ গজ দূরে একটি নিমগাছ তাদের তান্ডব রোধ করে। পুরো ঘটনাটি শেষ হতে কুলপালা বাজারের বেশ কয়েকটি চা-দোকান ও আশপাশে বাশের মাঁচায় বসে থাকা মানুষগুলোর একবারও চোখের পলক পড়েনি। সবার মুখ থেকে বেরিয়ে আসে, ‘আল্লাহ আকবর, ও আল্লাহ, এ কি হলো, সব শেষ’। সংঘর্ষের বিকট চারটি শব্দ ততক্ষণে ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। উৎসুক জনতার ভিড় জমতে শুরু করে ঘটনাস্থলে। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট এসে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দুই সহোদর রাকিব (২১) ও সাকিব (১৩)’কে। এরপর তাদেরকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন। শুরুটা লিটনকে নিয়ে হলেও পুরো ঘটনাটি লিটন, রাকিব ও ছোট ভাই সাকিবকে নিয়ে। রাকিব ও সাকিব চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গার চিৎলা ইউনিয়নের কুলপালা মধ্যপাড়ার সৌদি প্রবাসী আকুল শাহ’র (ড্রাইভার) ছেলে। রাকিব নসিমন/করিমন চালায়, আর সাকিব স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। সকালে খাচা ভর্তি মুরগী নিয়ে মেহেরপুরে গিয়েছিল রাকিব। দুর্ঘটনার কয়েক মিনিট আগে দুর্ঘটনা স্থলের একটি কাঠাল গাছের নিচে দাড়িয়ে ছোট ভাই সাকিবকে বলে বাড়ি থেকে গামছা নিয়ে আসার জন্য। কথামতো গামছা নিয়ে এসে বড় ভাইয়ের হাতে দেওয়ার পর মুহূর্তে কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই পিছন থেকে তাদের দু’জনকে সজোরে ধাক্কা দেয় ওই ঘাতক লরি/ট্রাকটি।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত