রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ভোটের মাঠে শঙ্কা

  • আপলোড তারিখঃ ১৩-১২-২০১৮ ইং
ভোটের মাঠে শঙ্কা
ডেস্ক রিপোর্ট: নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পক্ষে গতকাল আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে শুরু করেন প্রচারণা। অন্যদিকে, সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, আ স ম রবসহ বিএনপির অনেক নেতা। বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারতের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন; অতপর কোটালীপাড়ায় নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন। অন্যদিকে, ড. কামাল হোসেন সিলেটে মাজার জিয়ারতের পর মাজারের পাশে উঠান-বৈঠকের জন্য যে চেয়ার বসানো হয়; সেটা পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। তিনি অন্য জায়গায় সমাবেশ করেছেন। সারাদেশে একই চিত্র। নৌকা ও লাঙ্গলের প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন; ধানের শীষের প্রার্থীরা প্রচারণায় নেমে বাধার মুখে পড়ছেন। দুইদিনে প্রায় ৩০টি জেলায় নির্বাচনী প্রচারণায় বাধার মুখে পড়েন ধানের শীষ প্রার্থীরা। এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতিও দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। ফলে নির্বাচন তথা ভোটে উৎসবমুখর প্রচারণা নিয়েই শঙ্কা রয়ে গেছে।সারাদেশে নৌকার প্রার্থীদের নেতাকর্মীরা নির্বিঘেœ প্রচারণা চালালেও ধানের শীষের প্রার্থীদের নেতাকর্মীদের ধরপাকড় থেমে নেই। ধরপাকড়ের সঙ্গে ঘটছে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা। ১১ ডিসেম্বর ১৮টি জেলায় অর্ধশত স্থানে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। গতকাল বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কবির তালুকদার দুলুসহ শতাধিক গ্রেফতার এবং রাজধানী ঢাকাসহ কয়েকটি জেলায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এমনকি ইসিতে অভিযোগ দিয়ে ফেরার পথে মোহাম্মদপুর থানার বিএনপির সভাপতি ওসমান গণি গ্রেফতার হন। গতকাল ফরিদপুরে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর ২৫টি নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়। ছাত্রদল নেতার ওপর হামলা হয়। জয়পুরহাট, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাজী, বাগেরহাট, নাটোর, পটুয়াখালী, কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় ধানের শীষের কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। কোথাও কোথাও প্রাথীরা পর্যন্ত আহত হন। ধানের শীষের প্রার্থীদের অভিযোগ কোথাও পুলিশের ছত্রছায়ায় কোথাও পুলিশের পক্ষপাতিত্ব আচরণের কারণে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। মাঠের পরিস্থিতি জানানে গতকাল সিইসির কাছে অভিযোগ নিয়ে যায় বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। তবে এর আগে সিইসি কে এম নুরুল হুদা মির্জা ফখরুল ও ব্যারিস্টার মওদুদের ওপর হামলায় ‘আমরা বিব্রত’ বলে মন্তব্য করেন। বিশেষজ্ঞদের অভিমত ইসির বিব্রত হওয়ার সুযোগ নেই। আইনি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। নির্বাচন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমদ বলেন, মাঠ এখনো অসমতল। নির্বাচন কমিশনের বিব্রত হওয়ার সুযোগ নেই। তাদের ক্ষমতা রয়েছে সে ক্ষমতা ব্যবহার করাই শ্রেয়। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন সুজনের সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, মাঠে শুধু আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের লোকজন কাজ করছে। বিএনপিকে মাঠে নামতে দেয়া হচ্ছে না। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইসির ক্ষমতা প্রয়োগের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইসি ইচ্ছা করলেই কিছু দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রশাসনকে বার্তা দিতে পারে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের ধরপাকড় এবং হামলার অভিযোগ নিয়ে বিএনপির নেতারা নির্বাচন কমিশনে যান। ইসিকে বিএনপি অভিযোগ করে ১০ ডিসেম্বর থেকে প্রচারণা শুরুর পরপরই বিএনপির মহাসচিবের গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের প্রচারণায় বারবার হামলা করা হচ্ছে। ড. মঈন খানের এলাকায় হামলা চালানো হচ্ছে। পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী ও যুবলীগ মিলে এই হামলা করছে। অন্য দিকে, বিএনপির যারা জামিনে রয়েছেন তাদেরও গ্রেফতার করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর গায়েবি মামলায় ধরপাকড়ের পাশাপাশি ভয়ভীতি, হামলা-মামলাসহ বিভিন্নভাবে সারাদেশের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে। গোপালগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী এফ ই শরীফুজ্জামান জাহাঙ্গীর প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার ছেলে ওয়াহিদ জামান দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন। তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের বিএনপির প্রার্থী খোন্দকার আবু আশফাকের মিছিলে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এসময় প্রার্থী আবু আশফাকসহ ১০ জন নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। আহত হয় অন্তত ২৫ নেতাকর্মী। সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে বিএনপি নেতাকর্মীদের চোখ তোলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা পৌরসভার মেয়র মোশাররফ মিয়া। হুমকি-ধমকির এই ভিডিওটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়া সেনগুপ্তার উপস্থিতিতে ছাত্রলীগের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই হুমকি দেয়া হয়। ঢাকা-আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা আব্বাস সংবাদ সম্মেলন করে জানান, তাকে হত্যার চেষ্টায় হামলা করা হয়। ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে শাজাহানপুর বাসা থেকে বের হয়ে বাধা দেয় স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা। পুলিশের ছত্রছায়ায় তারা প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে আটকে রাখে। গত কয়েক দিনে তার বাসার সমান থেকে অর্ধশত নেতাকর্মী গ্রেফতার করে আইন শৃংখলা বাহিনী। সারাদেশের বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেছেন তফসিল ঘোষণার পরও নির্বাচন কমিশন কার্যত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেননি। সিইসি ‘পুলিশ ইসির বাইরে কিছুই করছে না’ বক্তব্যের পর বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে পুলিশ। চাঁদপুর, যশোর, ঢাকা, নেত্রকোনা, নাটোর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, রংপুর, পিরোজপুর, ঝিনাইদহ, বগুড়া, মুন্সিগঞ্জ, জয়পুরহাট, মেহেরপুরসহ সারাদেশে ব্যাপক ধরপাকড় চলছে। অধিকাংশ জেলায় ধানের শীষের প্রার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে; অথচ উল্টো পুলিশ ধানের শীষের কর্মীদের গ্রেফতার করছে। কাউকে নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে; কাউকে পুরনো মামলায় গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। ঝিনাইদহের চারটি আসনে নৌকার সমর্থকদের ব্যাপক নৈরাজ্য, বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশের গণগ্রেফতার, মারধর ও প্রচার মাইক ভাঙচুরের অভিযোগ করেছে বিএনপি প্রার্থীরা। বিএনপির প্রার্থীরা জানান, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুপুর টেক্সটাইল কলেজের পাশে এবং গান্না ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে প্রচার মাইক হামলা করে ভাঙচুর করা হয়। শহরের ওয়াজির আলী স্কুলের সামনে উপজেলা বিএনপির নেতা ডাকবাংলা এলাকার জাহাঙ্গীর, কামাল হোসেন ও শরীফুল ইসলামকে বিকালে নৌকার সমর্থকরা ব্যাপক মারধর করে। ঝিনাইদহ পৌরসভার কাউন্সিলর বিএনপি নেতা মহিউদ্দীনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হিরণ ঘটনার বিষয়ে অস্বীকার করেন। ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ জানান, নৌকার প্রার্থী নিজে ও কালীগঞ্জ থানার ওসি বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এলাকা ত্যাগের জন্য হুমকি দিচ্ছে। ঝিনাইদহ-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী অ্যাড. আসাদুজ্জামান আসাদ অভিযোগ করেন, শেখপাড়া বাজারে তার গাড়িবহরে হামলা চালিয়ে অর্ধশত যানবাহন ভাঙচুর করেছে নৌকার ক্যাডার বাহিনী।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত