শেষ হলো দশম সংসদ অধিবেশন : নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু
- আপলোড তারিখঃ
৩০-১০-২০১৮
ইং
সংলাপ বৃহস্পতিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক: চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় শুরু হওয়া দশম সংসদের যাত্রা শেষে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছে সরকার ও বিরোধী দল। গতকাল সোমবার ৪১০তম কার্যদিবস শেষ করার মধ্য দিয়ে পাঁচ বছর পূর্ণ করল এই সংসদ। যদিও শুরুতে এই সংসদের যাত্রা নিয়ে নানা ধরনের শঙ্কা বিরাজ করছিল। সরকারি দল ও বিরোধী দলের চিফ হুইপরা মনে করছেন, সংসদ নেতা শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই সফল পরিসমাপ্তি ঘটেছে এই সংসদের। এদিকে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফনফ্রন্টের বহুল প্রত্যাশিত সংলাপ শুরু হচ্ছে। পরশু বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে এই সংলাপ অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানিয়ে আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল সোমবার গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০১৪ সালে প্রথম বছরে ৩৬ কার্যদিবসে মাত্র ১৯টি বিল পাস হলেও সর্বশেষ ২৩তম অধিবেশনে ৮ কার্যদিবসে পাস হয়েছে ১৯টি বিল। ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই সংসদের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল সংবিধানের ষোড়শতম সংশোধনী বিল পাস। বিচারপতিদের জবাবদিহি সংসদের কাছে ফিরিয়ে আনা সংক্রান্ত এই সংশোধনী আদালত অবৈধ ঘোষণা করেন। এর জের ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নির্বাচনী ক্ষণগণনা শুরুর একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন জারি স্বস্তি এনেছে রাজনীতিতে। এর ফলে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে রাজনীতিতে চলে আসা নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনার অবসান হলো। ক্ষণগণনা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে এসব মেরূকরণকে নির্বাচনী রাজনীতির জন্য সুখবর বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এসবের মধ্য দিয়ে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সমাধান মিলবে। বিশেষ করে সংলাপের মধ্য দিয়ে অনেক সংকট কাটবে।
সংবিধান অনুযায়ী, চলতি সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা তার ক্ষণগণনা শুরু হচ্ছে আজ থেকে। চলতি সংসদের শেষ অধিবেশন ছিল গতকাল। শেষ কার্যদিবস ছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভারও। আজ থেকে এই সরকারই পরিগণিত হবে নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে। সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু উল্লেখ না থাকায় মন্ত্রিসভার আকার ছোট বা বড় করার এখতিয়ার সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। সে হিসেবে গতকাল ছিল নির্বাচনকালীন সরকারের আগের মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠক। ওই বৈঠক থেকেই নির্বাচনী রাজনীতির জন্য বইতে শুরু করে স্বস্তির সুবাতাস।
এদিকে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বহুল প্রত্যাশিত সংলাপ শুরু হচ্ছে। পরশু বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে এই সংলাপ অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানিয়ে আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল সোমবার গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর ধানম-ির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ করবে আওয়ামী লীগ। এই সংলাপে আওয়ামী লীগের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে খুব দ্রুতই সংলাপের সময়, স্থান ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে সংলাপে বসার সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল বিকেলে মতিঝিলে টয়োটা বিল্ডিংয়ের চেম্বারে ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকের ফাঁকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের কাছে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তারা প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সংলাপে বসার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাদের এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংলাপের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসতে আওয়ামী লীগের সম্মতির ঘটনাকে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশিষ্টজন। তারা আলাপকালে বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে চলমান রাজনীতিতে যে ধরনের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা রয়েছে, তা দূরীকরণ এবং একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ সুগম হবে বলে প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। বিশিষ্টজন এই সংলাপ যেন অর্থবহ হয়, সেই আহ্বানও জানিয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক গতকাল চলতি সংসদের শেষ অধিবেশনের শেষ কার্যদিবসে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তিনি রাত ৮টার দিকে টেলিফোনে কথা বলেন গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুর সঙ্গে। এ সময় দুই নেতা বেশ আন্তরিকতার সঙ্গে কথা বলেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নৈশভোজের মেন্যু নিয়েও কথা বলেছেন ওবায়দুল কাদের।
মোস্তফা মহসিন মন্টু জানান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়ে ফোন করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ওবায়দুল কাদের সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের কতজন সদস্য অংশ নেবেন, তা জানতে চান। এ সময় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি প্রতিনিধি দলের কথা তাকে জানানো হয়েছে। প্রতিনিধি দলের তালিকা আজ মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।
জাতীয় ঐক্যজোটের একটি শরিক দলের একজন শীর্ষ নেতা জানান, আগামী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে সংলাপের সম্ভাবনা রয়েছে। ওবায়দুল কাদের ঐক্যজোটের নেতাদের নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংলাপ নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন একটি চিঠি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ নিয়ে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে আলোচনা করেছেন। ওই আলোচনায় সবার মতামত জানার পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপে বসার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, সংলাপের মধ্য দিয়ে তারা দেখাতে চাইছেন, প্রধানমন্ত্রী আলোচনার দরজা কারও জন্য বন্ধ করেন না। আওয়ামী লীগ সভাপতির দরজা কারও জন্য বন্ধ নয়। শেখ হাসিনার দরজা কারও জন্য বন্ধ থাকে না। তবে প্রস্তাবিত সংলাপ নিঃশর্ত হবে বলেও জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, কারও চাপের মুখে কিংবা নতিস্বীকার করে নয়, আমাদের পক্ষ থেকে কাউকে ডাকিনি। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সংলাপ করতে চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ওই সংলাপে রাজি হয়েছেন।
কমেন্ট বক্স