বন্ডবিলে ইটভাটায় চলছে গাছ সংগ্রহের মহোৎসব!
- আপলোড তারিখঃ
১৪-১০-২০১৮
ইং
আলমডাঙ্গা প্রতিনিধি: আলমডাঙ্গা উপজেলার অধিকাংশ ইটভাটাগুলোতে অবাধে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে হাজার হাজার মণ গাছ। প্রভাবশালী মহল এবং প্রশাসনের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে ইট পোড়ানোর কাজে এসব গাছের কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলায় গড়ে উঠা অধিকাংশ ইটভাটার নেই লাইসেন্স, নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। এমন কি নেয়া হয়নি সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন। অথচ পোড়ানো গাছ পোড়ানোর মাধ্যমে ইট।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গার বিভিন্ন অঞ্চলে চলছে ইটের ভাটায় কাঠ পোড়ানো জন্য গাছ সংগ্রহের মহোৎসব। নিয়ম না মেনে চলছে এই সকল গাছ সংগ্রহের কাজ। সরকারি আদেশ অমান্য করে এই সকল প্রাকৃতিক গাছ অবৈধভাবে ফলদ, বনজ, ঔষধি গাছের কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি করা হবে। এতে ভাটার কালো ধোয়ায় হারাবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। আলমডাঙ্গার কুমারী এলাকার বন্ডবিল-এনায়েতপুর মাঠ প্রাঙ্গনে (এমএসবি) ব্রিকসে অবৈধভাবে গাছ সংগ্রহের মহোৎসব দেখা যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত ওই ভাটার মালিক ফলদ, বনজ, ঔষধি গাছের কাঠ ইটের ভাটায় কাঠ পোড়ানোর জন্য হাজার হাজার গাছ সংগ্রহ করছে। অথচ ইটভাটার জ্বালানি হিসাবে কি ব্যবহার হবে আইনে তা বলা হয়েছে। কিন্তু আইনের প্রতি কোন পদক্ষেপ নেই।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এর ৬ ধারায় বলা হয়েছে যে, কোন ব্যক্তি ইটভাটায় ইট পোড়ানো কাজে জ্বালানি হিসাবে কোন ফলদ, বনজ ঔষধি গাছের জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করতে পারবে না এবং বসত বাড়ির আশে পাশে কোন ইট ভাটা থাকবে না। বন্ডবিলের মধ্যে অবস্থিত (এমএসবি) ব্রিকসে ভাটার সামনে ফলদ, বনজ ঔষধি গাছের কাঠ এনে রেখে পোড়ানোর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাটার দক্ষিণ পাশে লুকানো জায়গায় কাঠ রেখেছে। রাস্তার পাশে গাছ ভর্তি গাড়ি। (এমএসবি) ভাটার পাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই ভাটায় প্রতিবছর জনসম্মুখে হাজার হাজার মণ গাছ কেটে ভাটার জ্বালানীর কাজের ব্যাবহার করা হয়। প্রশাসনের ও কোন প্রকার ভ‚মিকা না থাকায় এলাকাজুড়ে তীব্র গন্ধ সৃষ্টি হয়। যা প্রায় ৫ কিলোমিটার দুর থেকে অনুভব করা যায়। আর রাস্তার পাশে তৈরি করা হয়েছে মাটির ঢিপি। যার কারণে ঘন-কুয়াশা আর শীতকালীন হালকা বৃষ্টিতে তীব্র কাদায় পরিণত হয়। কিন্তু বর্তমানে কয়লার দাম বেশি বলে তারা কাঠ দিয়ে ইট পোড়াচ্ছে।
আইনে আরও বলা হয়েছে, যেখানে ধান ক্ষেত থাকবে সেখানে কোন ভাটা থাকবে না। কিন্তু কয়েকটি ভাটা গড়ে উঠেছে ইউনিয়নের লোকালয়ের মধ্যে। তবে অধিকাংশের লাইসেন্স নবায়ন আছে কিনা তাও দেখাতে সঠিক জানার কোন কর্মকর্তা নেই।
এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহাত মান্নান জানান, কোন প্রকার ভাটায় অবৈধভাবে গাছ পোড়ানো অথবা সংগ্রহ করার অনুমোদন প্রদান করা হয় না। যদি কোন ভাটা মালিক প্রাকৃতিক গাছপালা নিধন করে ভাটায় পোড়ানোর জন্য মজুদ করে আইন অনুসারে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কমেন্ট বক্স