শেষ কর্মদিবসে ভালোবাসায় সিক্ত হলেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গার বিদায়ী জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করেছে। গতকাল সকাল পৃথক পৃথক সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনি বিদায় সংবর্ধনা নেন।
গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বেলা ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেটের পক্ষ থেকে বিদায়ী জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জসীম উদ্দীন, জেলা পরিষদ সচিব নূরজাহান খানম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খোন্দকার ফরহাদ আহমদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীন, এনডিসি সিব্বির আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার পক্ষ থেকে বিদায়ী জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মত বিদায়ী জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ ও নবাগত জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাশকে এক মঞ্চে দেখা যায়। এসময় নবাগত জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাশ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন জেলা কালচারাল অফিসার জসিম উদ্দীন।
অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার পক্ষ থেকে বিদায়ী জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার সময় পৌরসভার মিলনায়তন কক্ষে এই বিদায়ী সংবর্ধনায় দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপুর সভাপতিত্বে বিদায়ী জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, তরুণদের প্রতি আমার আগ্রহ একটু বেশি। কারণ আমি নিজেকেও তরুণ মনে করি। তরুণদের কাছে হেল্প বা কোন কিছু’র সাহায্য চাইলে ওরা যা জানে তার থেকে ডাবল দেওয়ার চেষ্টা করে। সে জন্য প্রয়োজনে তরুণের পাশে যাইতে আমার ভালো লাগে। এসময় তিনি আরো বলেন, আমরা দেখেছি রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে উন্নয়নমূলক কর্মকাÐ ধীর গতি পায়। তবে আমাদের প্রশাসনের ক্ষেত্রে তেমনটা হয় না। কারণ আমরা বদলির চাকুরী করি। আজ এখানে তো কাল অন্য জাায়গায়। তবে যাই হোক, আমি চলে গেলেও চুয়াডাঙ্গার উন্নয়নমূলক কর্মকাÐ থেমে থাকবে না। আমার পরে জিনি আসছেন সেও একই কাজ করবে। চলমান উন্নয়ন পক্রিয়াগুলো তিনিও এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এসময় তিনি জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার কাজের ধরণের কথা উল্লেখ করে বলেন, পৌর মেয়র বা পৌর কর্তৃপক্ষ জনগনের জন্য কাজ করেন। আমরাও সেই একই কাজ করি তবে আইনের মধ্যে থেকে। আমি ইচ্ছে করলেও অনেক কিছু করতে পারিনা।
এসময় তিনি আরো বলেন, চুয়াডাঙ্গাতে কাজ করার অনেক জায়গা আছে। এমন অনেক কিছু আছে যা এখনো করা সম্ভব হয়নি। এসকল কাজগুলো গুছিয়ে করতে পারলে চুয়াডাঙ্গাকে অনেকটা এগিয়ে নেওয়া যাবে। একটা সময় ছিলো, মানুষ ধারণা করত সরকারি অফিসে গেলে কাজ হয় না। অনেক সময় ব্যায় ছাড়াও অনেক ঘুরতে হয়। সে অবস্থা থেকে আজ আমরা বের হতে পেরেছি। এখন মানুষ বুঝতে পেরেছে সরকারি অফিসে গেলে আর ঘুরতে হয় না কারণ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা তাদের কাজ করার জন্য বসে আছে।

সরকারি চাকুরি প্রত্যাশীদের মানুষিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে এসময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, আপনারা জানেন এবার চুয়াডাঙ্গাতে ভর্তি বানিজ্য হয়নি। ১০ ঘন্টার মধ্যে চাকুরী হয়েছে। পরীক্ষা শুরু থেকে রেজাল্ট, মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে যোগ্য প্রার্থী জানতে পেরেছে তার চাকুরী হয়েছে। তবে এর পরও কিছু কাজ কর্ম থাকে সেই কাজটা করতে কয়েকদিন সময় লাগে। এর মধ্যে আইনের কনো ব্যাত্যয় হয়নি উল্লেখ করে বলেন, মানুষের ধারণা পাল্টেছে এই চুয়াডাঙ্গার মানুষ এখন জানে টাকা বাদে চাকুরী হয়। আপনার বিশ্বাস থাকতে হবে টাকা ছাড়া চাকুরী হয়। এই বিষয়টা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। এসময় দালালদের কথা উল্লেখ করে বলেন, একজন ব্যক্তি ৫০জনের টাকা নিয়ে বলেন সবার চাকুরী হবে। এর মধ্যে এমনিতে ৪ থকে ৫ জনের চাকুরি হয়ে যায়। অথচ ওই দালাল ৫০ জনের টাকা ব্যাংকে রেখে ভালো পরিমাণ ব্যবসা করে। এছাড়াও এদের মধ্যে যাদের চাকরি হয় তাদের টাকাটা ফাও খেয়ে নেয়। আপনাদের বিশ্বাস রাখতে হবে। ভালো কাজগুলো এগিয়ে নিতে আপনাদের পুরো সহযোগিতা করতে হবে। এসময় তিনি এও বলেন, এই ভালো কাজগুলো চুয়াডাঙ্গা’র মানুষের পুরো সহযোগিতা থাকার ফলে করা সম্ভব হয়েছে।
এসময় তিনি আরো বলেন, আমি চুয়াডাঙ্গাতে আসতে চাইনি, তবে আসার পর আপনাদের সাথে মিসেছি। বুঝতে পেরেছি আপনারা অকেনটা পজিটিভ আপনাদের বোঝাতে পারলে আপনাদের দিয়ে অনেক কিছু করা সম্ভব। নিজে হাতে লাগানো গাছ, নিজের হাতে তৈরি ছাদ বাগান, পাখির বাসাগুলো’র কথা জানিয়ে বলেন, এগুলো থাকবে কিনা? তবে আশা প্রকাশ করে বলেন আপনারা তো আছেন ,এ ধরণের কাজ অব্যহত রাখাবেন। এতে আপনাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ ঠিক থাকবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন পৌরসভার স্টাফ ছানোয়ার হোসেন। প্যানেল মেয়র একরামুল হক মুক্তার সঞ্চালনায় এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মনি। উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর রেজাউল করিম খোকন, আবুল হোসেন। মহিলা কাউন্সিলরদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সুলতানা আঞ্জু রতœা, নাসরিন আক্তার মলি, শাহিনা আক্তার ববি। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন পৌর পরিষদের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা ভি. জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিদায়ী জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমদকে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ভি. জে উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভি .জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুল হোসেন উজ্জ্বল। বিদায়ী অতিথীর উদ্দেশ্যে স্মৃতিচারণমুলক অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবাগত প্রধান শিক্ষক স্মৃতিকনা বিশ্বাস, সদ্য বিদায়ী প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার মালাকার, ভি .জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হাফিজুর রহমান, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আ. বারী, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিজা তাবাসসুম ও ভি .জে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রাপ্য কর্মকার। সংবর্ধিত অতিথী বিদায়ী জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমদ বলেন, আমার জন্ম একটি শিক্ষক পরিবারে, আমার বাবা সহ ৩ বোন শিক্ষকতা পেশায় কাজ করছে। বিধায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের প্রতি আমি অনেকটা দুর্বল ছিলাম। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়া- লেখার উন্নয়নে ও শৃংখলা ফেরাতে আমি কখনই পিছপা হয়নি। কখনো শাসনের ছলে দাবী নিয়ে , কখনো কাছের মানুষ সেজে শিক্ষা ব্যবস্থাকে তার গতিপথে আনতে চেষ্ঠা করেছি। আপনারা শিক্ষকরা নিজ নিজ অবস্থানে আদর্শ ও ন্যায়ের পথে থাকবেন তাহলেই দেখবেন আপনাদের সম্মান ও শৃংখলা দুটিই অটুট থাকবে। আমি শুরু করে গেছি। আশা করি পরবর্তী জেলা প্রশাসক এধারাকে আরো গতিশীল করে শিক্ষাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবেন। স্মৃতিচারণ পর্ব শেষে বিদায়ী জেলা প্রশাসকের হাতে ক্রেস্ট ও ফুলের স্তবক তুলে দেন দু-বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ভিজে উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আনোয়ার হোসেন।

অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষে জেলা ক্রীড়া সংস্থার বিদায়ী সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষে সাধারণ সম্পাদক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার বিদায়ী অতিথীর হাতে ক্রেষ্ট তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সিনিয়র সহ-সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জসীম উদ্দন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খোন্দকার ফরহাদ আহমদ, সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবীর মালিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ. সালাম, টুটুল মোল্লা, কোষাধ্যক্ষ নাসির আহাদ জোয়ার্দ্দার, ক্রিকেট উপ-কমিটির আহবায়ক সুরেশ কুমার আগরওয়ালা পিন্টু, নিবার্হী বদরখান, ওবায়দুল হক জোয়ার্দ্দার, ফজলুল হক মালিক, মহসিন রেজা, শহিদুল কদর জোয়ার্দ্দার, রোজিনা আক্তার সাথী, জেহাদী জুলফিককার টুটুল প্রমুখ।
অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ থেকে জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজে এই বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জসীম উদ্দীন, অধ্যক্ষ মাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
সমীকরণ প্রতিবেদন