রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আ.লীগ সভানেত্রীকে তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিলেন জীবননগর উপজেলা সভাপতি গোলাম মোর্তুজা

  • আপলোড তারিখঃ ০৯-১০-২০১৮ ইং
আ.লীগ সভানেত্রীকে তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিলেন জীবননগর উপজেলা সভাপতি গোলাম মোর্তুজা
নমিনেশনতো শেখ হাসিনা দেবে না; দেবো আমি আর ঝন্টু মিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল : সমালোচনার ঝড়; ক্ষুব্ধ নেতাকর্মিরা ডেস্ক রিপোর্ট: উলু বন থেকে উড়ে এসে বলছেন তোমরা আমাকে ভোট দাও। কিন্তু নমিনেশনতো শেখ হাসিনা দিবেনা। নমিনেশন দিবো আমি আর দামুড়হুদার ঝন্টু। কারণ আমার একটা কমিটি আছে আর ঝন্টুর একটা কমিটি আছে। আমরা দু’জন লিখে দিলে শেখ হাসিনা নমিনেশন দিবে। এসব কথা বলেছেন জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম মোর্তুজা। গত (৬ অক্টোবর) শনিবার বিকেলে দামুড়হুদ উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগর টগরের নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং তাচ্ছিল্য করে দেয়া এমন বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। তার এই বক্তব্যে নিয়ে দলের ভিতরসহ সর্বত্র চলছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগর টগরের পক্ষে দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারে এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ঝন্টু। জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন হাজী আলী আজগর টগর এমপি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোর্ত্জুা। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গোলাম মোর্তুজা বলেন, এখন নমিনেশন নেয়ার জন্য অনেকেই উলুবণ থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন। নমিনেশনতো আর শেখ হাসিনা দেবেনা। নমিনেশন দিবো আমি আর দামুড়হুদার ঝন্টু মিয়া। কারণ আমি জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ঝন্টু দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আমাদের সাথে কমিটির সবাই রয়েছে। আছেন সব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরাও। আমরা নমিনেশন দিবো, নমিনেশন পাবে হাজী আলী আজগর টগর। এ সময় জনতার মুহুর্মুহু করতালি পড়লেও কিছু সংখ্যক নেতাকর্মির মধ্যে এ বক্তব্য নিয়ে আলোচনা সমালোচনা ঝড় উঠেছে। অন্যদিকে অনুষ্ঠানের বক্তব্যের ভিডিওটি সামাজিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেতাকর্মিদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ায় গোলাম মোর্তুজাকে বহিষ্কারসহ তার সম্পর্কে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করতে দেখা গেছে। গোলাম মোর্তুজার স্পর্ধা ও দুঃসাহস দেখে আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মিরা ক্ষোভে বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা অভিযোগ করে বলেছেন, এমপি টগরের ইন্ধনে চাটুকারদের সর্বোচ্চ সীমালংঘন ও তারই নগ্ন বহিঃপ্রকাশের চরম নিদর্শন গোলাম মোর্তুজার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য। সম্প্রতি কক্সবাজার-২’র এমপি বহুল আলোচিত কুখ্যাত ইয়াবা স¤্রাট আ.রহমান বদির জনসভায় তার উপস্থিতিতে বদির সমর্থক এক আওয়ামী লীগ নেতা একইভাবে ঔদ্ধত্য ও দাম্ভিকতাপূর্ণ বক্তব্যে বলেন, বদির এই আসনে বদি ছাড়া আর যেই নির্বাচন করুক সে ফেল করবে, এমনকি শেখ হাসিনাও ফেল করবে। এ ঘটনার ফলশ্রুতিতে সেই নেতা বহিষ্কার হন এবং এমপি বদিকেও শোকজ করে দলের হাইকমান্ড। ওই নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ১৯৯১ সালে জাসদ থেকে এসে আওয়ামী লীগার বনে যাওয়া গোলাম মোর্তুজা চাটুকারিতা করে এমপি টগরের বিরোধী লোক থেকে খুব কাছের লোক হতে পেরেছেন সফলভাবেই। হিতাহিত জ্ঞান শুন্য হয়ে তিনি রাজনীতির শিষ্টাচারের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কটাক্ষ করার যে দুঃসাহস দেখালেন এর শেষ পরিণতি কী? ন্যাক্কারজনক এ ঘটনায় জেলার হাজার হাজার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মির দলীয় আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত হানার চরমতম দুঃসাহস তিনি কোথায় পেলেন এর জবাব চান ঐ সকল নেতাকর্মি। এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাইমেন হাসান জোয়ার্দ্দার অনিক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, নব্য আওয়ামী লীগের বাম নেতা মোর্তুজার ক্ষমতা কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও বেশি? এর জবাব তাকে দিতে হবে। যে লোক জননেত্রীকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে পারে তার আওয়ামী লীগে থাকার কোন অধিকার নেই। আমি অবিলম্বে তার বহিষ্কার দাবি করছি। না হলে জেলা ছাত্রলীগ বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। জেলার সর্বস্তরের দলীয় নেতাকর্মির মনে এ বিষয়ে যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে সেটার চরম মূল্য গোলাম মোর্তুজাকে দিতে হবে বলেও অনেকে মতামত ব্যক্ত করেছেন। এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজা বলেন, আমি আসলে আমার বক্তব্যে তৃণমূল নেতাকর্মিদের মূল্যায়নের কথা বলতে চেয়েছি। তৃণমূল নেতাকর্মিরা যদি না থাকে নমিনেশন পেয়ে লাভ কী? আমার বক্তব্য আসলে আংশিক প্রচার করে একটি পক্ষ আমাকে হেয় করার চেষ্টায় মাঠে নেমেছে। এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ বলেন, উনি যদি সত্যিই এ ধরনের কোনো বক্তব্য দিয়ে থাকেন তাহলে ঠিক বলেননি। নমিনেশন দেয়ার ব্যাপারে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড আছে, যে পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আমাদের দলের সভানেত্রী। সেখানে সদস্য সচিব হলেন আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক আর দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বয়োজ্যেষ্ঠ নেতারা হলেন ওই বোর্ডের সদস্য। তাঁরাই ঠিক করবেন কাকে নমিনেশন দেয়া হবে। এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাংসদ জাতীয় সংসদের হুইপ সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন বলেন, এ ধরনের বক্তব্য দলীয় নেত্রীকে অবমাননার সামিল। ব্যাপারটি আমরা দলীয় হাইকমান্ডকে জানাবো। (তথ্যসুত্রঃ ভাইরাল ভিডিও ও অনলাইন পোর্টাল দেশÑ সংবাদ)


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত