রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

গাংনীতে ছেলের প্ররোচনা : বিষপানে মায়ের আত্মহত্যা!

  • আপলোড তারিখঃ ০৩-১০-২০১৮ ইং
গাংনীতে ছেলের প্ররোচনা : বিষপানে মায়ের আত্মহত্যা!
গাংনী অফিস: পৃথিবীর সব চেয়ে আপনজন মা। সবচেয়ে মধুর সর্ম্পক মা ও সন্তানের। কিন্তু কোন কোন সময়ে এ মধুর সর্ম্পকে ফাটল দেখা দেয়। ক্ষনিকের জন্য ফাটল দেখা দিলেও কিছু সময় পরে আবারো মা ও সন্তানের মধুর সর্ম্পক ফিরে আসে। তবে মেহেরপুরের গাংনীতে ঘটেছে ব্যতিক্রমী এক অনাকাঙ্খিত ঘটনা। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছেলের প্ররোচনায় মা বিষপান করেছে এবং উন্নত চিকিৎসার অভাবে শেষে মৃত্যু হয়েছে মায়ের। এমন এক ঘটনা এলাকায় প্রচার হওয়ার সাথে সাথে সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে। এ ঘটনায় জড়িত চাকুরীজীবি দু’ছেলেরও বিচার দাবি করেছেন এলাকাবাসী। সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়াই ইউডি মামলা নিয়ে লাশ মাটি দেওয়ার অনুমতি দেওয়ায় সমালোচনাও হচ্ছে। জানা গেছে, মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার জুগিরগোফা গ্রামের মৃত ছানার উদ্দীনের স্ত্রী জাহান্নারা বেগমের ৫ ছেলে মেয়ে। দুই ছেলেই প্রতিষ্ঠিত। বড় ছেলে ওয়াসিম ওরফে ডাবলু গ্রামীণ ব্যাংকের ম্যানেজার ও ছোট ছেলে সালাউদ্দীন ওরফে সেনাবাহিনীতে কর্মরত। বাকি তিন মেয়েরা সবাই স্বামীর ঘরে সচ্ছলভাবে সংসার করছে। ১৪ বছর আগে স্বামী ছানার উদ্দীন অভাবঅনটনের মধ্যেদিয়ে ইহলোক ত্যাগ করেন। পরবর্তিতে ছেলে-মেয়ের উপর নির্ভর ছিলেন জাহান্নারা বেগম। সুখে-দুখে তাদের সাথে দিন অতিবাহিত হয়। বয়স হয়েছে ৫৫ বছর তাই বৃদ্ধা মানুষ প্রসাব-পায়খানা করতে পারে ভেবে ছেলে বউয়েরা আলিশান নতুন বাড়িতে বসবাস করলেও বৃদ্ধা মহিলার জায়গা হয় গোয়াল ঘরের মত একটি কুড়েঘরে। আর সেই ঘরে একটি লাইট থাকলেও সংযোগের মূল স্থান ছিলো বৌমার হাতে। বয়সের ভারে ও অবহেলিতভাবে থেকে কিছুটা ভুল ভান্তিও হয়। গত ২৬-০৯-১৮ ইং তারিখ বুধবার সেদিনও বৌমার সাথে ভুল বুঝাবুঝি হয়। এমনকি বাকবাতিন্ডার একপর্যায়ে আর খাবার দেবেনা বলে জানিয়ে দেন ছোট বৌমা কনিকা। তার মাসুল যে জীবন দিয়ে দিতে হবে সেটা সে ভাবেনি। গত বুধবার সকালের ঘটনা। তারপর আবারো পেটের খিদের জ্বালায় ভাত খাওয়ার জন্য বৌমার নিকট যায়। আবারো খাবার না দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে ছেলের নিকট ফোন দিয়ে বিচার চাই মা জাহান্নারা। ছোট ছেলে সেনাবাহিনীতে কর্মরত সালাউদ্দীন হোসেন ডাবলুকে ফোন দিয়ে বিষয়টি বলতে গেলে তিনি বলেন, আমি খাবার দিতে নিষেধ করেছি, তুমি আমার বাড়িতে কেন খাবার চাও। তুমি খাবার না খেয়ে বিষ খাও। দেখো তোমার ঘরের রেলিংয়ের সাথে বিষ আছে সেটা খাও। ছেলের মুখ থেকে এ কথা শুনেই বিষপান করে বৃদ্ধা জাহান্নারা। বুধবার দুপুরে বিষপান করলেও রাত ১১টা পর্যন্ত খবর নেননি আলিশান ঘরে থাকা বৌমা। সাথে বিষপানে প্ররোচনা দেওয়া ছেলে সালাউদ্দীনও খবর নেননি মায়ের। তিনি রাতে অসুস্থ হয়ে ঘরের সামনে মাঠিতে লুঠিয়ে বমি ও পায়খানা করে চিৎিকার দিলেও বৌমা কনিকা ও বড় বৌমাও খোঁজখবর নেননি। সাথে একটু ঘুরে দেখেনি। মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে একই গ্রামে অবস্থিত তার মেয়ে জালিয়া খাতুন ও নাতনী ছুটে এসে নিয়ে যায় বৃদ্ধা জাহান্নারাকে। গোসল করিয়ে গ্রাম্য ডাক্তার আব্দুস ছাত্তারকে দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে আবারো নেওয়া হয় গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানেও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে ছোট ছেলে ও বৌমা জানায় বিষের পুরো ঘটনা এবং আরো জানান যেখানে বমি করে সেখানকার ঘাষ মরে গেছে। ফলে জানা যায় ছেলের বিষপানের কথায় সে বিষপান করে। গাংনী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বিষয়টি জানতে পেরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করে। কুষ্টিয়া হাসপাতালে বৃহস্পতিবার নিলেও শুক্রবার প্রাথমিক চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হয় জাহান্নারা। কুষ্টিয়া হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে রির্পোট দেখে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার কথা বলে। তিনি আরো বলেন, হয় রাজশাহী আর না হয় আমাদের এখানে সার্বক্ষনিক একজন ভালো ডাক্তারের তত্বাবধানে থাকতে হবে। কিন্তু জাহান্নারার ছেলেরা শুক্রবারে রোগির অবস্থা কিছুটা ভালো হওয়ায় কোন প্রকার ঝামেলা এড়াতে ও অর্থ খরচের হাত থেকে বাঁচতে বাড়িতে নিয়ে পালিয়ে আসে। ``রোববার সকাল ১০টার দিকে বাড়িতে চিকিৎসা অভাবে মৃত্যুবরণ করেন জাহান্নারা। আর এ মৃত্যুতে বিবেকবান সচেতন মহলের মানুষের মধ্যে বইছে ক্ষোভ আর সমালোচনার ঝর। সমালোচনার তীব্রতা ছড়িয়ে পরলে লাশ আর বাড়িতে মাটি দিতে পারে না। পরে দিনভর স্থানীয় সংসদ সদস্যর বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করে রাতের বেলায় সবকুল মিটিয়ে তারা মাটি দেয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কিভাবে সেনাবাহিনী বা গ্রামীণ ব্যাংকে কর্মরত শিক্ষিত ছেলেদের মায়ের এমন করুন মৃত্যু হয়। এদিকে স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার বক্তব্য মোবাইল রের্কডসহ দিয়ে বলেন, আমাদের খুব খারাপ লাগছে এমন একজন ভালো মানুষকে ছেলেরা মেরে ফেলেছে। তিনি, বলেন তাদের মায়ের মৃত্যুর জন্য ছেলেরা দায়ী। তারা দুইভাই লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে আলিশান বাড়িতে থাকলেও মায়ের জায়গা হয়েছে পার্শ্ববর্তী গোয়াল ঘরের মত কুড়ে ঘরে। আর বিষ খাওয়ার প্ররোচনা না আসলে ছেলেরা রাগের মাথায় বৌমাদের বিষ খাইয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন বিষয়টি আরো তদন্ত হওয়ার পাশাপাশি লাশের ময়না তদন্ত হওয়া উচিত। ময়না তদন্ত হলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে। কারণ কেন চিকিৎসা না করিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসলো তাহলে নিশ্চিয় অন্যকোন বিষয় আছে। সেটা পুলিশের উচিত যাছাইবাছাই করার। ইউডি মামলায় দায়িত্ব থাকা গাংনী থানার এসআই মাহাতাব হোসেন জানান, আমাদের গাংনী হাসপাতালের ছাড়পত্র দেখানো হয়েছে। এলাকার অনেকে বলেছে এটা আত্মহত্যা কিছুটা মনে হয় মিথ্যা বলেছে। তবে এটা বেশিদূর গেলে ৩০৬ ধারায় মামলা হবে যেটা আত্মহত্যায় প্ররচনা দেওয়া। গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকার পিপিএম বলেন, বিষয়টি তদন্তে এসআই মাহাতাব দায়িত্বে ছিলেন। সে বিষয়টি তদন্ত করেছে কি ঘটনা ঘটেছে তার নিকট শুনতে হবে। তবে যদি কোন প্রকার মিথ্যা তথ্যদিয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত