রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মাঠে গড়াল রাজনীতি

  • আপলোড তারিখঃ ০২-১০-২০১৮ ইং
মাঠে গড়াল রাজনীতি
ঢাকাসহ সারা দেশে গণসংযোগের মাধ্যমে মাঠে নেমে পড়েছে আওয়ামী লীগ ও শরিক দলগুলো। বিএনপিও রবিবারের জনসভার মাধ্যমে কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামছে, পাশাপাশি নতুন-পুরাতন শরিকদের নিয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচনী লড়াইয়ের চূড়ান্ত মহড়া শুরুর প্রহর গুনছে। ক্ষমতাসীন জোট : কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মাঠ দখলের কৌশল ডেস্ক রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের উন্নয়ন প্রচার, ‘বিএনপি জোটের ধ্বংসাত্মক কর্মকা-ের’ বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করার উদ্দেশ্য নিয়ে গণসংযোগে নেমে পড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলগুলো। হাট-বাজার থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় বাড়ি বাড়ি লিফলেট বিলিও করতে যাচ্ছে তারা। এমন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নির্বাচনী মাঠ দখলে রাখার কৌশল নিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। গতকাল সোমবার থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সাত দিনের গণসংযোগ কর্মসূচি পালন শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। ঢাকায় আওয়ামী লীগের চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে চারটি প্রতিনিধিদল এই গণসংযোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে। সারা দেশে বিভিন্ন জেলা, মহানগর, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডে স্থানীয় নেতাকর্মীরা এই কর্মসূচি পালন করছে। জোটগতভাবে ১৪ দলের পক্ষ থেকেও দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ অক্টোবর রাজশাহী, ১০ অক্টোবর নাটোর, ১৩ অক্টোবর খুলনায় সমাবেশ করবে ১৪ দল। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। চলতি মাসে ঢাকায় একটি মহাসমাবেশ করারও পরিকল্পনা রয়েছে ১৪ দলের। জোটের কর্মসূচির বাইরে বিভিন্ন জেলায় নিজেদের পৃথক সমাবেশ কর্মসূচি রয়েছে জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির। গত সপ্তাহে জাসদ উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় নির্বাচনী জনসভা করে সেখানে দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর ঢাকার মিরপুর, ৮ অক্টোবর ঢাকার ডেমরা ও ৯ অক্টোবর ঘোড়াশালে জনসভা করবে জাসদ। ১৪ দলের সূত্রগুলো জানায়, গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের কক্ষে ১৪ দলের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জোটটির শরিক দলগুলোর বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৪ দলের সমাবেশ সফল করার বিষয়ে আলোচনা হয়। শরিক দলগুলোর নেতারা ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমকে চলতি মাসে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার বিষয়ে শিগগিরই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করে দিন চূড়ান্ত করার তাগিদ দেন। গতকাল সকালে গুলশান কাঁচাবাজার এলাকা থেকে গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির নেতৃত্বে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল। এতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি সাংবাদিকদের সামনে বলেন, ‘সহিংসতা, নাশকতা, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা মারামারি হানাহানি, পাল্টাপাল্টির মধ্যে নেই। বিএনপিসহ সাম্প্রদায়িক শক্তি যদি সহিংসতা, নাশকতা করে তাহলে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করব।’ বিএনপির রাজপথ দখলের ঘোষণার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘রাজপথ কে দখল করতে আসে দেখব। রাজপথ দখল করতে এলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমুচিত জবাব দেবে।’ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গণসংযোগ কোনো প্রার্থীর নয়, গণসংযোগ হবে নৌকার। গণসংযোগ সব ওয়ার্ড-মহানগর, জেলা-উপজেলা, ইউনিয়নে শুরু হচ্ছে, এটাই প্রথম প্রগ্রাম। ক্যামেরার সামনে লোক দেখানো গণসংযোগ করবেন না।’ রবিবার বিএনপির সমাবেশ থেকে সাত দফা দাবির প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার আর মাত্র এক মাস বাকি, এর মধ্যে মেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারা নিজেরা ক্ষমতায় থাকলে এই সময়ের মধ্যে এই দাবিগুলো মেনে নিতে পারত না। অসাংবিধানিক দাবি কেউ মেনে নিতে পারত না। এই দাবিগুলো তারা শুধু বলার জন্য বলছে, তাদের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে এসব আবোলতাবোল দাবি তুলছে। তারাও জানে, এই দাবিগুলো মেনে নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’ গণসংযোগ কর্মসূচির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি বলেন, ‘চিহ্নিত ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো তাদের ষড়যন্ত্র বন্ধ করেনি। এই অপশক্তি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে ধ্বংসাত্মক কর্মকা-ে যেন লিপ্ত হতে না পারে সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে আমরা গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করছি।’ তিনি বলেন, ‘রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে আমাদের নেতাকর্মীরা ঘরে ঘরে সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- ও বিরোধীদের নাশকতার ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সচেতন করতে বার্তা পৌঁছে দেবে। আমরা একটি লিফলেটে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরে তা মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে দিচ্ছি। কেন্দ্রীয়ভাবে এই লিফলেট প্রকাশ করে তা এখন ঢাকার ওয়ার্ডগুলোতে বিলি হচ্ছে। সারা দেশেই এই লিফলেট বিলি হবে। আমরা যারা সংসদ সদস্য আছি তারা নিজেরা এই লিফলেট ছাপিয়ে নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছে দেব।’


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত