রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

অস্পষ্ট প্রেসক্রিপশনে বিপাকে রোগীর স্বজনেরা

  • আপলোড তারিখঃ ৩০-০৯-২০১৮ ইং
অস্পষ্ট প্রেসক্রিপশনে বিপাকে রোগীর স্বজনেরা
চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে চিকিৎসকরা মানছেন না নির্দেশনা : নেই মনিটরিং ব্যবস্থা অস্পষ্ট প্রেসক্রিপশনে বিপাকে রোগীর স্বজনেরা সোহেল রানা ডালিম/আফজালুল হক: চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে অনেক চিকিৎসক মানছেন না উচ্চ আদালত ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা। রোগীর ব্যবস্থাপত্রে (প্রেসক্রিপশন) ওষুধের নাম পাঠযোগ্য করার নির্দেশনা থাকলেও তা যেন দেখেও না দেখার ভান করে আছেন চিকিৎসকরা। বড় অক্ষর (ক্যাপিটাল লেটার) এবং স্পষ্টাক্ষরে ওষুধের নাম লেখার নির্দেশনাটি চিকিৎসকদের কাছে এখনো উপেক্ষিত। চিকিৎসকদের হাতের লেখা দুর্বোধ্য হওয়ার কারণে প্রতিদিন বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন অসংখ্য রোগী ও তাদের স্বজনরা। ব্যবস্থাপত্রের লেখা না বুঝার কারণে ফার্মেসিগুলো যেমন রোগীদের ভুল ওষুধ দিয়ে থাকেন, তেমনী রোগীরাও না বুঝে তা সেবন করছেন নির্দ্বিধায়। যা অনেক সময় রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে! জানা গেছে, গতবছর মানে ২০১৭ সালের ৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট থেকে চিকিৎসকদের স্পষ্টাক্ষরে পাঠ উপযোগী ব্যবস্থাপত্র লিখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিলেও তা মানছেন না চিকিৎসকরা। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে ২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘চিকিৎসকদের জানানো যাচ্ছে, রোগীর ব্যবস্থাপত্রে (প্রেসক্রিপশন) লেখাসমূহ সহজবোধ্য হওয়ার লক্ষ্যে তা স্পষ্টভাবে এবং বড় অক্ষরে (ক্যাপিটাল লেটার) লেখার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য হাইকোর্ট কর্তৃক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সে মোতাবেক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল চিকিৎসককে রোগীর ব্যবস্থাপত্রে ওষুধের নাম বড় অক্ষরে এবং ওষুধের ব্যবহার বিধি স্পষ্ট ও বোধগম্যভাবে লেখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো। সেইসময় মানে ২০১৭ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদনে বিজ্ঞপ্তিটি জারী করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. সমীর কান্তি সরকার। হাইকোর্ট ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের কঠোর এই নির্দেশনা থাকার পরও নির্দেশ মানছেন না চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের বেশির ভাগ চিকিৎসক। চিকিৎসকদের ছোট অক্ষরে, অস্পষ্ট শব্দে প্রেসক্রিপশন লেখাটা এখন ফ্যাশানে পরিণত হয়েছে। এই অস্পষ্ট প্রেসক্রিপশনের কারণে প্রতিনিয়ত রোগীদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে ওষুধের নাম পড়তে বিপাকে পড়ছেন ফার্মেসিওয়ালারা। এতে সময়ে সঠিক ওষুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। অথচ জনগুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি মনিটরিংয়ের ও নেই কোন ব্যবস্থা। এবিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা আগের মতোই তাদের প্রেসক্রিপশন লিখছেন। অনেক চিকিৎসক ছোট কাগজে অনেক ছোট করে প্রেসক্রিপশন লিখছেন। এতে ওষুধের নাম লিখতে অনেক সমস্যা হয়। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতলের (আরএমও) ডা. শামিম কবির, ডা. হারুন উর রশিদ পলাশ, ডা. আবুল হোসেনের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ একটু বেশিই। তবে এই দুই জেলার কিছু চিকিৎসক বড় হাতে লিখছেন, যা ভালো দিক। কিন্তু তা অতি নগণ্য। এবিষয়ে জানতে চাইলে, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল এলাকার এক ফার্মেসিওয়ালা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ছোট হাতে প্রেসক্রিপশনে হিজিবিজি লেখার কারণে আমাদের যেমন নানা বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হয়, তেমনি রোগীকেও অনেক সময় ভুল ওষুধ দেয়া হয়। বিশেষ করে স্বল্প শিক্ষিত ও বয়স্কদের বেলায় এ ধরনের সমস্যা বেশি হয়। তিনি বলেন, এমনও হয়েছে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন লেখা বুঝতে না পেরে তা সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের কাছে রোগী বা তার স্বজনকে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে, যে ডাক্তার প্রেসক্রিপশন লিখেছেন তিনি নিজেও অনেক সময় তা ধরতে পারেন না, আসলে তিনি কি লিখেছেন। অস্পষ্ট প্রেসক্রিপশন লেখার বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের (আরএমও) ডা. শামিম কবির ও ডা. হারুনউর রশিদ পলাশ এর সাথে কথা হলে দু’জনই এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সরকারের নির্দেশনা আছে ঠিকই তবে বাস্তবতা অনেক ভিন্ন। ঘাড়ের উপর ৪০-৫০ জন রোগী সব সময়ই দাড়িয়ে থাকে। এই পরিস্থিতিতে রোগী দেখাটাই মূখ্য বিষয় হয়ে ওঠে। তবে এই দু’জন চিকিৎসক স্পষ্টক্ষরে প্রেসক্রিপশন লেখার বিষয়ে মনোযোগী হবেন বলেও জানান। এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. খাইরুল আলম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যেহেতু এ বিষয়টি মহামান্য হাইকোর্ট স্বপ্রনোধীত হয়ে রুল জারী করেছেন। সকল চিকিৎসকদের উচিত এ আদেশ মেনে চলা। তাই চিকিৎসকগনকে ব্যবস্থাপত্রে স্পষ্ট অক্ষরে ইংরেজী ক্যাপিটাল বর্ণে লিখতে হবে। তিনি বলেন, যে সকল চিকিৎসক এখনো পরিস্কার ও স্পষ্টভাবে প্রেসক্রিপশন লিখছেন না তাদেরকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হবে। এরপরও যদি এ সকল চিকিৎসক একই অবস্থানে থাকেন তবে তাদের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রেরণ করা হবে। যাতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন এমন একটি বিষয় যার ওপর রোগীর জীবন-মৃত্যু নির্ভর করে। তাই প্রেসক্রিপশন লেখার ব্যাপারে চিকিৎসকরা উচ্চ আদালত ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা মেনে প্রেসক্রিপশনে ওষুধের নাম পাঠযোগ্য করে বড় অক্ষর এবং স্পষ্টাক্ষরে চিকিৎসকরা ব্যবস্থাপত্র লিখবেন সেই প্রত্যাশা চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরবাসীর।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত