অক্টোবরে মাঠে নামার ঘোষণা : সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্য গড়ার অঙ্গীকার
- আপলোড তারিখঃ
২৩-০৯-২০১৮
ইং
ডেস্ক রিপোর্ট: ড. কামাল বলেন, আজ দেশের মানুষ ভোটাধিকার, মানবাধিকার, সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। জনগণের চলাফেরার স্বাধীনতা নেই। কার্যকর গণতন্ত্র ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণ সুশাসন দেখতে চায়, একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল সমাজ নিশ্চিত করতে চায়। এসব পুনরুদ্ধারে আজ আমরা সমবেত হয়েছি। জনগণের সব মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতেই আমরা জাতীয় ঐক্য গড়ার লক্ষ্যে কাজ করব। আশা করি সফল হব। গতকাল শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ঐক্য প্রক্রিয়া আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার করলেন যুক্তফ্রন্ট, ঐক্যপ্রক্রিয়া ও বিএনপির নেতারা। রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে গতকাল শনিবার বিকেলে নাগরিক সমাবেশের একই মঞ্চ থেকে হাতে হাত রেখে এ অঙ্গীকার করেন অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঐক্য প্রক্রিয়ায় একমত হওয়া নেতারা। এ সময় ড. কামালের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশের ঘোষণাপত্র থেকে আগামী ১ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী সভা-সমাবেশ করারও ঘোষণা আসে।
গণফোরামের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ও নাগরিক ঐক্যের সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিনের পরিচালনায় গতকাল বিকেল ৩টায় সমাবেশ শুরু হয়। শুরুতে গণসঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী সুরাইয়া পারভীন ও মায়শা সুলতানা। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান প্রধান অতিথি ড. বি. চৌধুরী। এর আগে বেলা সোয়া তিনটায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে সমাবেশে উপস্থিত হন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ ও ড. আবদুল মঈন খান। এ ছাড়াও যুক্তফ্রন্টের শরিক তিন দল জাসদের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নান, যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন দলের নেতারাও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির পাশাপশি ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, আহসান হাবিব লিংকন, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, খেলাফত মজলিসের মাওলানা মজিবুর রহমান, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার খোন্দকার লুৎফর রহমান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশের শেষপর্যায়ে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক শেখ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। এতে বলা হয়, আগামী ১ অক্টোবর থেকে সারা দেশে সভা-সমাবেশ করবে ঐক্য প্রক্রিয়া। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে কমিটি গঠন করা হবে।
সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখে জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশে যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, লাখো শহীদের রক্ত এবং লাখো মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার মূল্যবোধ আজ পদদলিত হচ্ছে। দিন-রাত প্রতিটি ঘণ্টায় জনগণ গুম, খুন ও নির্যাতনের আতঙ্কে থাকে। ঘুষ দুর্নীতিকে ‘স্পিড মানি’ বলে সরকারিকরণ করা হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনাদের অপরাধের প্রতিবাদে সভা-সমাবেশ করতে পুলিশের অনুমতি নিতে হয়। অথচ আপনারা অনুমতি ছাড়াই যখন, তখন, যত্রতত্র সভা-সমাবেশ করেন। আমার ভোটের অধিকার দলীয়করণ করলেন কেন? সারা পৃথিবীতে পরিত্যক্ত ইভিএম কেউ চায় না। আমরা ইভিএম ছুড়ে ঠেলে দেব। তিনি বলেন, এখন সময় রুখে দাঁড়ানোর। প্রতিবাদের কণ্ঠ ধারালো করতে হবে। গণতন্ত্রের স্বপক্ষ শক্তির সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একটি স্বেচ্ছাচারী, গণতন্ত্রবিরোধী সরকার গত ১০ বছরে যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে, এমনি আবারো একটি অনুরূপ সরকারের ঝুঁকি আমরা নিতে পারি না। সংসদে, মন্ত্রিসভায়, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টি করতে হবে। না হলে স্বেচ্ছাচারমুক্ত বাংলাদেশের নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করা যাবে না। এ সময় খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি চান তিনি। শুধু স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ভারসাম্যের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য বেগবান করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি এবং বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করছি। আসুন, সবাই ইতিবাচক স্বপ্নে জেগে উঠি। পবিত্র স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, পতাকার বিরুদ্ধে, লাখো শহীদের রক্তে ভেজা মাটির বিরুদ্ধে যারা ছিল এবং এখনো আছে তাদের সঙ্গে কোনো ঐক্য করব না।
নূন্যতম কর্মসূচির ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের আন্দোলন শুরুর আহ্বান জানিয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা সবাই এক দাবি-দাওয়া পক্ষে ঐক্যমতে পৌঁছাতে পেরেছি বলেই আজ এক মঞ্চে হাজির হয়েছি। ঐক্যের পথে আমরা এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছি। এই ঐক্যকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগার থেকে খবর পাঠিয়েছেন, যে কোনো মূল্যে জাতীয় ঐক্য তৈরি করে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। আসুন, সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন শুরু করি। যে আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে বাধ্য করব দেশনেত্রী ও রাজবন্দিদের মুক্তি দিয়ে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে।
কমেন্ট বক্স