রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

তবুও আসছে ইভিএম

  • আপলোড তারিখঃ ১৯-০৯-২০১৮ ইং
তবুও আসছে ইভিএম
ডেস্ক রিপোর্ট: রাজনৈতিক বিতর্কে কান না দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দেড় লাখ ইভিএম মেশিন কেনার একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। তবে এটি পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রকল্পের অর্থ দিয়ে তিন ধাপে এসব মেশিন ক্রয় করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়েছে। রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, পর্যায়ক্রমে ব্যবহার হবে এসব ইভিএম। আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) সংশোধন করবে নির্বাচন কমিশন। এদিকে, নির্বাচন আইনের সংস্কার, রাজনৈতিক দলের মতামতসহ সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক তৃতীয়াংশ আসনে ইভিএম ব্যবহার করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায় তারা। ইসির পাঠানো প্রকল্প প্রস্তাবনায় দেখা গেছে, ইসি সচিবালয়ের ৩ হাজার ১১০ জন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি ও এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের মূল দায়িত্ব হলো জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা। এ ছাড়া ইভিএমের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়। ইভিএম ব্যবহারের জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের সিদ্ধান্তের কথা গত ৩০ আগস্ট জানায় ইসি। এরই মধ্যে তাদের পক্ষ থেকে প্রকল্প অনুমোদনের আগেই এসব যন্ত্রপাতি আনতে ব্যাংকে এলসিও (ঋণপত্র) খোলা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মাত্র দেড় লাখ ইভিএম সিস্টেম এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি কেনার জন্য প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা। এতে প্রতি ইউনিট ইভিএমের দাম পড়বে প্রায় দুই লাখ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে চলতি বছর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। যদিও বর্তমান সরকারের মেয়াদ ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে শেষ হবে। তার আগে ডিসেম্বরে নতুন সরকার গঠনের জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। সে ক্ষেত্রে ভোটের বাকি আছে মাত্র কয়েক মাস। শেষ সময়ে কেন তোড়জোড় : এদিকে জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন-চার মাস আগে ইভিএম নিয়ে হঠাৎ কেন এত তোড়জোড় শুরু হয়েছে তা নিয়ে রাজনৈতিকসহ সব মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। গত বছর অংশীজনদের সঙ্গে ইসির সংলাপে আলোচিত বিষয় ছিল ইভিএম। সংলাপে ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। ২৩টি দল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে নিজেদের মতামত জানিয়েছিল। এর মধ্যে বিএনপিসহ ১২টি দল ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে মত দেয়। ইসির সেই সংলাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ সাতটি দল ইভিএমের পক্ষে, তিন দল পরীক্ষামূলক ও আংশিকভাবে এবং একটি দল শর্ত সাপেক্ষে ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছিল। বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ইভিএমের বিপক্ষে থাকায় সে সময় ইসি নির্বাচনে এর ব্যবহারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। এরও আগে কে এম নুরুল হুদা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর বিভিন্ন সময় বলেছেন যে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি ইসির নেই। সব দল না চাইলে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। এ বিষয়গুলো থেকে সবাই এক রকম ধরেই নিয়েছিলেন যে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হচ্ছে না। কিন্তু ‘আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে’- হঠাৎ করে দুএক মাস আগে ইসির এ ধরনের কথায় আবার নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে এ বিষয়টি। এতে বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দল ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে। তাদের প্রশ্ন গত বছর সংলাপের পর ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত থেকে ইসি যেখানে মোটামুটি সরেই এসেছিল সেখানে হঠাৎ করে কেন তারা নির্বাচনের তিন-চার মাস আগে প্রস্তুতি ছাড়াই এ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন করতে চাচ্ছে। ইভিএম কেনা ও অল্প সময়ের মধ্যে আরপিও সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে খোদ ইসিতেই প্রশ্ন আছে। নির্বাচন কমিশনারদেও কেউ কেউ মনে করেন, এই মুহূর্তে ইভিএমের আলোচনা সামনে আনা বা বিপুলসংখ্যক ইভিএম ক্রয় করা অনাবশ্যক। এতে বিতর্ক বাড়বে। কারণ ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক দ্বিমত যেমন আছে, তেমনি ভোটারদের অনেকের অনীহাও আছে এবং এটা ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষিত জনবল নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এর আগে ইসির সিদ্ধান্ত ছিল যে কোনো এশটি পৌরসভার সবগুলো কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হবে। এরপর সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ইভিএমের ব্যবহার বাড়ানো হবে। কিন্তু বর্তমান কমিশনের অধীনে এখন পর্যন্ত কোনো পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদেও পুরোপুরি ইভিএমে ভোট হয়নি। যেখানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই এ ধরনের মেশিনে পুরোপুরি ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়নি সেখানে জাতীয় নির্বাচনের মতো জায়গায় ইভিএমের ব্যবহার গোটা নির্বাচনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত