রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দুর্দান্ত জয়ে এশিয়া কাপ শুরু টাইগারদের

  • আপলোড তারিখঃ ১৬-০৯-২০১৮ ইং
দুর্দান্ত জয়ে এশিয়া কাপ শুরু টাইগারদের
সমীকরণ ডেস্ক: দারুণ এক জয়। শুরু ব্যাটিং বিপর্যয় সামলে দারুণ ভাবে ঘুরে দাড়ানো এক ইনিংস ও এরপর বল হাতে শ্রীলঙ্কাকে রীতিমতো নাকানিচুবানি খাওয়ানো। সব মিলে গতকাল শনিবার দুবাইয়ে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দাপুটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের করা ২৬১ রান তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা অসহায় আত্মসমর্পন করেছে। ম্যাচ হেরেছে ১৩৭ রানের বড় ব্যবধানে। রান তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন লঙ্কান ওপেনার থিসারা পেরেরা। মাশরাফির করা ইনিংসের প্রথম ওভারটিতে এক ছয় ও এক চারে নিয়েছেন মোট ১৩ রান। স্টেডিয়ামের বাংলাদেশী দর্শকদের অংশে তখন পিনপতন নিরবতা। দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে এলেন মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথম ও দ্বিতীয় বল কিছুটা সমীহ করে খেললেও তৃতীয় ও চতুর্থ বলে পরপর বাউন্ডারি। উৎসব তখন গ্যালারির শ্রীলঙ্কা অংশে। তবে মাত্র এক বল পরেই সব উৎসব থামিয়ে দিলেন কাটার মাস্টার। গুড লেন্থের বলটিতে পরাস্ত কুশল মেন্ডিস, জোরালে আবেদনেও সাড়া দিলেন না আম্পায়ার। টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি নিলেন রিভিউ এবং আউট! পরের ওভারেও মাশরাফিকে বাউন্ডারি মারলেন থারাঙ্গা; কিন্তু এবারো ওভারের শেষ বলে সফলতা। সরাসরি বোল্ড আউট করে থারাঙ্গাকে ফেরালেন টাইগার অধিনায়ক। আর ইনিংসের পঞ্চম ও ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারে মাশরাফির দ্বিতীয় শিকার ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। এবার সরাসরি এলবিডব্লিউ দিলেন আম্পায়ার, লঙ্কানরা রিভিউ নিয়ে তা পাল্টাতে পারলেন না। পরপর তিন উইকেট হারিয়ে পথ হারিয়েছে লঙ্কানদের টপ অর্ডার। এরপর আর ঘুরে দাড়াতে পারেনি দ্বীপ দেশটির ব্যাটসম্যানরা। স্কোর বোর্ডে ৬০ রান তুলতেই ৫ উইকেট নেই। ম্যাচ মূলত তখনই শেষ হয়ে গেছে। এরপর যাহয়েছে তা নিছক আনুষ্ঠাকিতা। শেষ পর্যন্ত স্কোর বোর্ডে ১২৪ রান তুলে অলআউট হয়েছে তারা। যদিও ম্যাচ কার্যত শেষ হয়েছে আরো আগেই। এই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংস যদি হয় বোলাদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সের গল্প। তবে প্রথম ইনিংস হবে দুজনের সংগ্রাম ও সাহসিকতার গল্প। মুশফিকুর রহীম আর তামিম ইকবাল। একজন এক প্রান্ত আগলে বিপর্যয় সামলে দলকে চালিত করেছেন বড় স্কোরের পথে। অন্য জন আহত শরীর নিয়েও বিপদের মুহূর্তে ব্যাট হাতে মাঠে নেমেছেন। শুরুতে মালিঙ্গার জোড়া আঘাত আর তামিম ইকবালের চোট; দুইয়ে মিলে বিপর্যয়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে মোহাম্মাদ মিথুন আর মুশফিকুর রহীমের জুটিতে ঘুড়ে দাড়নো। এরপর আবার ব্যাটিং বিপর্যয়। এবং আবার ফাইটিং স্কোরের আশার আলো। মুশফিক-মিথুনের জুটি যতক্ষণ ক্রিজে ছিলো বাংলাদেশর সংগ্রহ তিনশ ছাড়াবে বলেই মনে হয়েছে; কিন্তু ১৩১ রানের এই জুটি ভাঙার পর আবার ধস ইনিংসে। ২৬ থেকে ২৮তম ওভার পর্যন্ত যেতে ২ উইকেটে ১৩৪ থেকে রান হয়ে যায় ৫ উইকেটে ১৪২। তখন আবার গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় বাংলাদেশ। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতরা উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন। তবে এক প্রান্ত আগলে ছিলেন অবিচল মুশফিকুর রহীম। লোয়ার অর্ডারকে নিয়েতুলে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরি। মুশফিক-মোস্তাফিজ ২৫ রানের জুটিতে বাংলাদেশ পৌছায় ২২৯ রানে। মোস্তাফিজ রান আউট হয়ে যাওয়ার পর সবাইকে অবাক করে দিয়ে মাঠে নামেন তামিম ইকবাল। থিসারা পেরেরার ৪৭তম ওভারের শেষ বলটিতে স্ট্রাইক নেন এক হাতে। বাম হাতে ব্যান্ডেজের ওপর কোন রকম গ্লাভস বাধা, হাতটি শরীরের পেছনে লুকিয়ে ডান হাতে ব্যাট ধরে কোন রকম ঠেকিয়ে দেন বলটি। এরপর মুশফিক স্ট্রাইকে এসে আর ওভারের শেষ বল ছাড়া সিঙ্গেল রান নেননি। চার ছক্কা হাকিয়ে স্কোর বড় করার চেষ্টা করেছেন। এই জুটিতে এসেছে ৩২ রান যা মূলত ফাইটিং স্কোর এনে দিয়েছে টাইগারদের। শেষ ওভারে মুশফিক আউট হয়েছেন ১৫০ বলে ১৪৪ রানের ইনিংস খেলে। লঙ্কান বোলারদের মধ্যে অনেক দিন পর দলে ফেরা লাসিথ মালিঙ্গা নিয়েছেন ৪ উইকেট।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত