শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা জেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে ডিসি’র মতবিনিময়

  • আপলোড তারিখঃ ২৩-০১-২০১৮ ইং
চুয়াডাঙ্গা জেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে ডিসি’র মতবিনিময়
মানসম্মত পাঠদানের মাধ্যমে এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে ৩৯ সিদ্ধান্ত নিজস্ব প্রতিবেদক: এসডিজির ৪র্থ লক্ষ্য হলো মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। এখন সেই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সকলকে সচেষ্ট হতে হবে। যুগপযোগী পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। যারা টেস্টে ফেল করবে তাদেরকে পরীক্ষা দিতে দেয়া হবে না। আমাদের কোয়ন্টিটি চাই না; কোয়ালিটি চাই। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রতি ৬২ জনে শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র ১ জন। এত অল্প সংখ্যাক শিক্ষক নিয়ে যখন আমাদের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে তখন নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আপাতত এই সভা থেকে ৩৯টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো। গতকাল সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. জসীম উদ্দীন। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার ফরহাদ আহমদ, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমানসহ জেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সমমান/মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকগণ। এ সময় সহকারী কমিশনার চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ৩৯টি সিদ্ধান্ত তুলে ধরলে তা নিয়ে প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা করতে শোনা যায়। সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে- (১) ক্লাস চলাকালে কোন প্রধান শিক্ষক/শিক্ষক বিদ্যালয় ত্যাগ করবেন না। বিনা অনুমতিতে প্রধান শিক্ষক স্টেশন লিভ করতে পারবেন না। (২) বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক দিয়ে শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে (বিশেষ করে ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের ক্ষেত্রে)। (৩) যে সকল শিক্ষক দীর্ঘদিন যাবৎ একই শ্রেণিতে শ্রেণি শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন তাদেরকে পরিবর্তন করে অন্য শিক্ষকদের শ্রেণি শিক্ষকের দায়িত্ব দিতে হবে। কোন শিক্ষককে এক বছরের বেশী একই শ্রেণির শ্রেণি শিক্ষক রাখা যাবে না। (৪) কোন শিক্ষক ছাত্রী-ছাত্রদের কাছ থেকে তাদের শিক্ষাবর্ষ চলাকালীন সময়ে কোন উপহার সামগ্রী নিতে পারবেন না অথবা অভিভাবকের নিকট থেকে উপহার সামগ্রী গ্রহণ করতে পারবে না। (৫) কোন প্রকার গাইড বই এবং নোট বই ব্যবহার করা যাবে না। ঘঈঞই কর্তৃক প্রদত্ত পাঠ্যবই ব্যতিত অন্য কোন বই অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। (৬) দিবা শিফটের সকল শিক্ষকবৃন্দ প্রভাতী শিফটে এবং প্রভাতী শিফটের সকল শিক্ষকবৃন্দ দিবা শিফটের দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতি এক বছর পর পর শিফট পরিবর্তনের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হলো। নির্বাহী আদেশে এই নিয়মের পরিবর্তন হতে পারে। (৭) বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার খাতা দেখার জন্য কোডিং সিস্টেম চালু করতে হবে। মূল্যায়নের শীট পরিবর্তন করা যাবে না। (৮) পরীক্ষায় নকল করা ও ফেল করা ছাত্রদের প্রমোশন দেওয়া যাবে না। (৯) সকল শিক্ষকবৃন্দকে আবশ্যিকভাবে যথাসময়ে সমাবেশে উপস্থিত থাকতে হবে। (১০) বিদ্যালয় চলাকালীন সময় কোন শিক্ষক কর্মস্থলের বাহিরে যেতে হলে আবশ্যিকভাবে মুভমেন্ট রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং প্রধান শিক্ষককে অবহিত করতে হবে। (১১) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ এর অনুচ্ছেদ-৩ এর বিধি অনুসরণ করে কোচিং, প্রাইভেট এবং অতিরিক্ত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। কোন শিক্ষক নিয়ম বহির্ভূত কোন কার্যক্রমে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে অবহিত করা হবে। [বিধি-৩। কোন শিক্ষক তার নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে পারবেন না। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে দৈনিক বা প্রতিদিন অন্য যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সীমিত সংখ্যক {১০ (দশ) জনের বেশী নয়} শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে লিখিতভাবে ছাত্র-ছাত্রীর তালিকা (রোল, শ্রেণী উল্লেখসহ) জানাতে হবে। (১২) শিক্ষকবৃন্দকে সমবায়ের ভিত্তিতে দ্রুত ল্যাপটপ ক্রয় করতে হবে। (১৩) ছাত্রদের বেতন ও অন্যান্য ফি অনলাইনে গ্রহণ করতে হবে। (১৪) সকল শ্রেণিকক্ষ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে। (১৫) আগামী ১ (এক) সপ্তাহের মধ্যে সকল বিদ্যালয়ে। (১৬) আবশ্যিকভাবে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং ক্লাস রুটিনে ক্লাসটি চিহ্নিত করতে হবে এবং প্রতি সপ্তাহে প্রত্যেক শিক্ষককে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে কমপক্ষে ২টি ক্লাস নিতে হবে। (১৭) ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরী করে শিক্ষক বাতায়নে আপলোড করতে হবে। (১৮) আগামী এক মাসের মধ্যে ল্যাঞ্জুয়েজ ক্লাব স্থাপন করতে হবে। (১৯) ইংরেজি ভাষা শিক্ষার জন্য প্রতিদিন ইংলিশ গ্রামার এর উপর বিশেষ ক্লাস নিতে হবে। (২০) গণিত বিষয়ে বিশেষ ক্লাস নিতে হবে। (২১) স্কুলে আবশ্যিকভাবে স্কাউট কার্যক্রম জোরদার ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করতে হবে। বিতর্ক ক্লাব তৈরি করতে হবে। সুন্দর হাতের লেখা এবং স্কুলে সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। (২২) জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভাগীয় প্রধানগণ আকস্মিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করবেন ও প্রতিবেদন প্রদান করবেন। (২৩) ক্লাস চলাকালে শিক্ষকদের ফোন ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা। (২৪) ছাত্র ছাত্রীদের প্রতি ভাল ব্যবহার করতে হবে (তুই বলা নিষিদ্ধ)। (২৫) যে মেয়েরা বোরখা পরে তাদের বোরখা যেন স্কুল ড্রেসের রং ও মনোগ্রামযুক্ত হয়। (২৬) এক স্কুলের পরীক্ষার খাতা অন্য স্কুলের শিক্ষক দিয়ে নিরীক্ষন। (২৭) বছরে ৩/৪ বার অভিভাবক সমাবেশ করতে হবে। (২৮) পরীক্ষার খাতা শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে দেখতে দেয়া। (২৯) নিয়মিতভাবে অনিয়মিত এবং স্কুলের নিয়ম যারা মানবে না, তাদের টি.সি. প্রদান। (৩০) যে বিষয়ে অকৃতকার্য বেশি সে বিষয়ের শিক্ষককে জবাবদিহিতার আওতায় আনা। (৩১) স্কুল সময়ে অভিভাবকদের অফিসে দেখা করার সময় নির্ধারণ করে দেয়া। (৩২) সাধারণ নোটিশ অনলাইন/মেসেজ এর মাধ্যমে প্রদান। (৩৩) অতিরিক্ত ভর্তি ফি ফেরত দিতে হবে। (৩৪) বাল্যবিবাহ বন্ধে কার্যকরী ভূমিকা নিতে হবে। (৩৫) প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার শিক্ষার্থীদের দ্বারা স্কুল পরিষ্কার করতে হবে। (৩৬) যেসকল স্কুলে লাইব্রেরি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কর্নার, সততা সংঘ, সততা স্টোর, কিশোরী ক্লাব নাই সেখানে জরুরিভিত্তিতে সেগুলো স্থাপন করতে হবে। (৩৭) সকল বিদ্যালয়ে বিজ্ঞানাগারের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। (৩৮) সকল বিদ্যালয়ে নিয়মিতভাবে সঠিক মাপের জাতীয় পতাকা সঠিকভাবে উত্তোলন করতে হবে। জাতীয় সংগীত প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে হবে। (৩৯) প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বছরে অন্তত ১ বার শিক্ষা সফরের আয়োজন করতে হবে। চুয়াডাঙ্গা জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে উপরোক্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন পূর্বক অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ১ মাসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

ভোজ্যতেলের ঊর্ধ্বগতিতে নিয়ন্ত্রণহীন বাজার