মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্যরাই আগামীতে মনোনয়ন পাবেন : প্রধানমন্ত্রী

  • আপলোড তারিখঃ ২৪-১২-২০১৭ ইং
স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্যরাই আগামীতে মনোনয়ন পাবেন : প্রধানমন্ত্রী
সমীকরণ ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য নেতারাই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন। আর দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এদিকে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীর বড় ব্যবধানে হারের কারণ খুঁজে বের করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের সভায় সভাপতির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বৈঠকে উপস্থিত একজন জানান, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে করানো সর্বশেষ জরিপেও বলা হয়েছিল, অন্তর্কলহের নিরসন করা না গেলে জাতীয় পার্টি ভালো করবে। তবে এত বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কেন হারল, সেটা খুঁজে বের করা প্রয়োজন। বৈঠকে উপস্থিত একজন নেতা জানান, আওয়ামী লীগের প্রার্থী হারলেও রংপুরে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। তবে রসিক নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বড় ব্যবধানে পরাজয়কে অপ্রত্যাশিত হিসেবে বিবেচনা করছে আওয়ামী লীগ। জানা গেছে, রসিকে প্রার্থী নির্বাচনে ভুল ছিল কিনা, কারা দলীয় প্রার্থীকে অসহযোগিতা করেছেন, এসব বিষয়েও প্রতিবেদন দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বৈঠকে নেতাকর্মীদের ‘ওভার কনফিডেন্ট’ (অতি আত্মবিশ্বাস) হতে নিষেধ করেছেন বলেও জানান দলের প্রেসিডিয়াম এক সদস্য। জানা গেছে, বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়েও এখন থেকে প্রস্তুতি শুরুর নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ডের পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের ভয়াল নাশকতা, দুর্নীতি, দুঃশাসন, আগুন সন্ত্রাস, খালেদা জিয়াসহ জিয়া পরিবারের বিদেশে অর্থ পাচার ও মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার প্রকৃত চিত্রও ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে হবে। এদিকে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী প্রচারণায় নামবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় টিম। প্রেসিডিয়াম সদস্য, উপদেষ্টাম-লীর সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে একাধিক টিম গঠন করা হবে। এসব টিম জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সফর করে অবস্থা বুঝে জনসভা, গণসংযোগ চালাবে। জনগণের কাছে দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও করবে উল্লিখিত টিম। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের অংশ হিসেবে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের প্রত্যেকে একেকটি সাংগঠনিক বিভাগের দায়িত্বে থাকবেন। কে কোন বিভাগের দায়িত্বে থাকবে, তা ঠিক করতে সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন বছরের ‘প্রথম সপ্তাহ’ থেকেই এই সাংগঠনিক সফর শুরু হবে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। প্রেসিডিয়ামের একজন সদস্য বলেন, ‘৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র রক্ষদিবস পালন করা হবে। এছাড়া ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসেরও অনুষ্ঠান থাকবে দলের। সেখানে বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র ফোকাস পয়েন্টে থাকবে। এখন থেকে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র বার বার জনগণের সামনে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সভায়।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররাফ হোসেন, ড. আব্দুর রাজ্জাকসহ দলের অধিকাংশ প্রেসিডিয়াম সদস্য উপস্থিত ছিলেন।


কমেন্ট বক্স