ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ যেন এক ‘সিট শেয়ারিং’! এক ইউনিয়ন, অথচ কেউ গ্রেপ্তার হওয়া মাত্রই তাকে পুলিশ ‘সাধারণ সম্পাদক’ বানিয়ে পুলিশ তাদের সোশ্যাল পেজে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে- ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন হলো রাজনৈতিক পদবির বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল, যেখানে প্রবেশ করলেই সাধারণ সম্পাদকের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাচ্ছে বলে অনেকেই রসিকতা করে মজা লুটছেন।
জনসাধারণ এখন কৌতূহলী হয়ে ভাবছে, থানার এই বিশেষ অভিযানে কি সামনে আরও কোনো ‘গোপন সাধারণ সম্পাদক’ বেরিয়ে আসার অপেক্ষায় আছে? কালীগঞ্জ থানা পুলিশের এই অভিযান আর একেক বিজ্ঞপ্তিতে একেক ‘সাধারণ সম্পাদক’ আবিষ্কারের ঘটনা আসলেই এক রহস্যময় এবং বিনোদনমূলক উপাখ্যান বলে অনেকে মন্তব্য করছেন।
কালীগঞ্জ থানার অফিসিয়াল পেজের বিজ্ঞপ্তিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পুলিশ প্রথমে গত ২০ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কালীগঞ্জ থানার ৪১ নম্বর মামলায় ফজলুর রহমান খাঁ (৫০) নামক এক ব্যক্তিকে গ্রেফপ্তার করে, যাঁকে বিজ্ঞপ্তিতে ৬ নম্বর ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, ২৮ অক্টোবর কালীগঞ্জ থানার আরেকটি মামলায় (মামলা নম্বর ১৯) সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মো. আনোয়ার হোসেন (৫৮) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাকেও ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করা হয়। এক ইউনিয়নে দুজন সাধারণ সম্পাদক বানানোর এই কাণ্ড দেখে এখন এলাকাবাসী ও নেটিজেনরা রীতিমতো ধাঁধায় পড়ে গেছেন যে, পুলিশ একে একে আর কতজন রিজার্ভ সাধারণ সম্পাদককে ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন থেকে আবিষ্কার করবে?
বিষয়টি জানতে কালীগঞ্জ থানার ওসি জুলফিকার আলীকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে ওই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ হোসেন জানান, ‘এমনটি হওয়ার তো কথা নয়, বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে জানাতে পারবো।’
ঝিনাইদহ অফিস