মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দামুড়হুদায় প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে সাড়ে ৪ লাখ টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ, আদালতে মামলা

  • আপলোড তারিখঃ ০৩-১১-২০২৬ ইং
দামুড়হুদায় প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে সাড়ে ৪ লাখ টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ, আদালতে মামলা

দামুড়হুদায় এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে সাড়ে ৪ লাখ টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে কুমিল্লার ব্যবসায়ী রেজাউল করিম সবুজের। ওই তরুণীর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার অভিযোগ এনে কুমিল্লার আদালতে প্রতারণার মামলা করেছেন তিনি। অন্যদিকে, তরুণীর মা শাহানাজ খাতুন মুঠোফোনে বিরক্ত করার অভিযোগে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ বলছে, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।


অভিযোগকারী রেজাউল করিম সবুজ কুমিল্লা জেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের হাজী এলাকার মৃত নুর আহাম্মদ আলীর ছেলে। অভিযুক্ত তরুণী রজনী খাতুন দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের দশমীপাড়ার শহীদ আলী বাবুর মেয়ে।


রেজাউল করিম সবুজের অভিযোগ, ২০২১ সালে মুঠোফোনে ভুল নম্বরে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁদের মধ্যে কথা বলা শুরু হয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিচয়ের প্রায় এক বছর পর কুমিল্লা থেকে চুয়াডাঙ্গায় এসে রজনী খাতুনের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এরপরও তাঁদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন বলে দাবি করেন সবুজ।


তাঁর অভিযোগ, সম্পর্ক চলাকালে রজনী বিভিন্ন সময়ে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নানা সমস্যার কথা জানিয়ে টাকা চাইতেন। কখনো ছোট অপারেশনের কথা বলে, আবার কখনো পরিবারের প্রয়োজনের কথা জানিয়ে বিকাশসহ বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা নিতেন। এভাবে প্রায় চার বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন রজনী। বাবার তিন শতাংশ জমি বিক্রি করে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।


সবুজের ভাষ্য, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে রজনীর কাছে ৫০ হাজার টাকা ফেরত চাইলে তিনি টাকা দিতে পারবেন না বলে জানান। পরে টাকা নেওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ করেন সবুজ। একপর্যায়ে রজনী তাঁকে নিজ বাড়িতে ডেকে নিলেও সেখানে তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।


এ ঘটনায় প্রতারণার অভিযোগে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলা করেছেন রেজাউল করিম সবুজ। মামলাটি কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি করেন সবুজ।


তবে রজনী খাতুন টাকা নেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, সবুজের সঙ্গে তাঁর ভালো বন্ধুত্ব ছিল। ওই সময়ে বিভিন্ন সময় বিকাশের মাধ্যমে কিছু টাকা পাঠাতেন তিনি। তবে টাকার পরিমাণ খুবই অল্প ছিল বলে দাবি করেন রজনী।


রজনীর মা শাহানাজ খাতুন বলেন, তাঁর মেয়ের সঙ্গে কুমিল্লার রেজাউল করিম সবুজের মুঠোফোনে ভুল নম্বরে পরিচয় হয়। এরপর দুজনের কথা হতো। মেয়ের হাতখরচের জন্য সবুজ কিছু কিছু টাকা দিতেন বলে শুনেছেন। তবে কত টাকা দিয়েছেন, তা তিনি জানেন না।


দামুড়হুদা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামসুর রহমান বলেন, শাহানাজ খাতুন কয়েকটি মুঠোফোন নম্বর উল্লেখ করে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত তরুণীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রজনী বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ওই ছেলের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত প্রমাণ ছেলেটির কাছে রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। ছেলেটিও আদালতে মামলা করেছেন।



কমেন্ট বক্স
notebook

কালীগঞ্জের ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে ‘সিট শেয়ারিং’!