মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় বাড়ছে হামের সংক্রমণ, চাপে সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড

২২ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি ৩৫-৪০ শিশু
  • আপলোড তারিখঃ ২০-১০-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় বাড়ছে হামের সংক্রমণ, চাপে সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড

নাজমুল ইসলাম সামি:
চুয়াডাঙ্গায় শিশুদের মধ্যে বাড়ছে জ্বর, সর্দি-কাঁশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও হামের সংক্রমণ। প্রতিদিন অসুস্থ শিশুদের নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ছুটছেন অভিভাবকেরা। এতে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বাড়ছে রোগীর চাপ। ২২ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন নতুন করে ভর্তি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ জন পর্যন্ত শিশু। শয্যা সংকটে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা।


হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সাত দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ২৭ শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে জ্বর, সর্দি-কাঁশিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু ওয়ার্ডে নতুন ভর্তি হয়েছে ২৪১ জন শিশু। এছাড়া বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার ৭৯২ শিশু। সব মিলিয়ে শিশু রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।


চিকিৎসকদের মতে, ঋতু পরিবর্তনের এ সময়ে শিশুদের সর্দি-কাঁশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও হামের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এর মধ্যে হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছ। সদর হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৩ অক্টোবর হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশু ভর্তি হয়, ১৪ তারিখ ভর্তি হয় ৫ জন, ১৫ তারিখ ৪ জন, ১৬ তারিখ ৪ জন, ১৭ তারিখ ৫ জন, ১৮ অক্টোবর ২ জন এবং ১৯ অক্টোবর ৪ শিশুকে ভর্তি করা হয়। অর্থাৎ সাত দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭।


অন্যদিকে, একই সময়ে জ্বর, সর্দি-কাঁশি ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু ওয়ার্ডে নতুন ভর্তি হয়েছে ১৩ অক্টোবর ৩৫ জন, ১৪ অক্টোবর ৩৫ জন, ১৫ অক্টোবর ২৯ জন, ১৬ অক্টোবর ৪৬ জন, ১৭ অক্টোবর ৪২ জন, ১৮ অক্টোবর ৩৪ জন এবং ১৯ অক্টোবর ২০ জন। সাত দিনে মোট নতুন ভর্তি শিশুর সংখ্যা ২৪১। গতকাল সোমবার অবধি সদর হাসপাতালে ২২ শয্যার বিপরীতে হাম ও অন্যান্য রোগে মোট ভর্তি ১৪৫ জন শিশু।


এদিকে, শিশুদের বহির্বিভাগেও রোগীর চাপ লক্ষণীয়। ১৩ অক্টোবর বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ২১২ জন, ১৪ অক্টোবর ২৬৮ জন, ১৫ অক্টোবর ২৮৮ জন, ১৬ অক্টোবর ১৬০ জন, ১৭ অক্টোবর ২৮৮ জন, ১৮ অক্টোবর ৩০৪ জন এবং ১৯ অক্টোবর ২৭২ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। সাত দিনে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেওয়া শিশুর সংখ্যা ১ হাজার ৭৯২।


মাত্র ২২ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। শয্যা খালি না থাকায় অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে আসা অভিভাবকদেরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। শিশুদের পাশাপাশি তাদের সঙ্গে থাকা স্বজনদের ভিড়ে ওয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ।


চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু কনসালট্যান্ট আসাদুর রহমান মালিক খোকন বলেন, ‘এখন আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিশুরাও অসুস্থ হচ্ছে। এ সময়ে শিশুদের ঠান্ডা-কাঁশি, নিউমোনিয়া, হাম ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে বর্তমানে প্রায় ২০ জনের অধিক হামের রোগী ভর্তি রয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় এখনো হামের প্রকোপ বেশ ভালোই রয়েছে।’


হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক শিশুর প্রথমে জ্বর, সর্দি-কাঁশি দেখা দিচ্ছে। পরে শরীরে গুটি বা ফুঁসকুড়ি, মুখে ঘা এবং খাবার খেতে না পারার মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। এসব লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা শিশুদের হাসপাতালে নিয়ে আসছেন।


আড়াই বছর বয়সী শিশু সারার মা রুকাইয়া বলেন, ‘প্রায় চার দিন ধরে মেয়েকে নিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি আছি। আমার মেয়ের হাম হয়েছে। তবে এখন সে আপাতত সুস্থ আছে। আজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’ শিশু সাদিকের দাদি মনোয়ারা খাতুন বলেন, ‘প্রথমে আমার নাতির ঠান্ডা লেগেছিল। পরে বমি করছিল। পরে শরীরে ছোট ছোট গুটি দেখা দেই। পরে  রাত্তিরের ভিতর ওতা সারা গায়ে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর নাতিকে হাসপাতালে ভর্তি করি। খোকন ডাক্তার পরীক্ষা করে জানায়, নাতির হাম হয়েছে।’


আরেক শিশু রাফসানের মা আফিয়া বলেন, ‘প্রথমে ছেলের জ্বর আসে। পরে সে ঠিকমতো তাকাতে পারছিল না, মুখেও ঘা হয়েছিল। কিছু খেতে পারছিল না। এরপর খোকন ডাক্তারকে দেখালে তিনি হাম হয়েছে বলে জানান। পরে রাফসানকে হাসপাতালে ভর্তি করি।’


চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, ‘সারা দেশের মতো চুয়াডাঙ্গাতেও হামের রোগী বেড়েছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি, যাতে আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া যায় এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। বর্তমানে আমাদের পর্যাপ্ত ওষুধের সরবরাহ রয়েছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লোকবল অনেক কম। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাবও রয়েছে। হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ। তাই আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে।’ হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে আরএমও বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে, মাঝখানে টিকাদান কার্যক্রমে বিরতি থাকায় টিকাদানের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।’



কমেন্ট বক্স
notebook

দামুড়হুদায় গাঁজাসহ আটক যুবকের ২ মাসের কারাদণ্ড