সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় ডিসি লুৎফুন নাহার

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা
  • আপলোড তারিখঃ ১৯-১০-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় ডিসি লুৎফুন নাহার

চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জেলার সড়কে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণ, রেলওয়ে আন্ডারপাসে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রবিহীন ক্লিনিকগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে।


গতকাল রোববার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি. এম. তারিক উজ জামান। সভার কার্যবিবরণী পাঠ করেন সহকারী কমিশনার ফাহাদ চৌধুরী।


সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের চলমান কার্যক্রম, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং নাগরিক সেবার মান বাড়াতে করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এসময় জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, সড়ক নিরাপত্তা, পানি নিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিদ্যমান সমস্যা তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


সভায় জানানো হয়, জেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো শনাক্ত করে কর্তন ও দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব গাছের কারণে সড়কে চলাচলকারী মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে আন্ডারপাসে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। আন্ডারপাসে পানি জমে থাকলে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


ক্লিনিকগুলোর পরিবেশগত ছাড়পত্রের বিষয়ে সভায় জানানো হয়, জেলায় থাকা ১৮৪টি ক্লিনিকের মধ্যে ১৪০টির পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। এর মধ্যে ৫৬টি প্রতিষ্ঠান ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছে এবং ৪৪টি প্রতিষ্ঠান অনুমোদন পেয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশগত ছাড়পত্র নিশ্চিত করা এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদারকির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


এছাড়া জেলার বিভিন্ন খালে জমে থাকা কচুরিপানা অপসারণের পাশাপাশি তা কাজে লাগিয়ে জৈব সার উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। কচুরিপানাকে বর্জ্য হিসেবে ফেলে না রেখে জৈব সার তৈরির মাধ্যমে কৃষিকাজে ব্যবহার উপযোগী করে তোলার জন্য উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে একদিকে খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করবে, অন্যদিকে কৃষিতে জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে সভায় আলোচনা করা হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, জেলায় বর্তমানে ডেঙ্গুর উপদ্রব বেড়েছে। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ড্রেনগুলো পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি দূর করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত মশক নিধন কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে।


তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। নির্মাণাধীন ভবন, ফুলের টব ও ডাবের খোসাসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকে, সেসব স্থান থেকে দ্রুত পানি অপসারণ করতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মশার বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।


স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলার স্বাস্থ্যসেবার মান দ্রুত উন্নত করতে হবে। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি। হাসপাতালে প্রচুর ময়লা-আবর্জনা দেখা যায়, যা দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা নিতে হবে।


সভায় জানানো হয়, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে বর্তমানে একজন সরকারি পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও বেসরকারিভাবে চারজন কর্মী পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে নতুন করে ৫৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। হাসপাতালের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত তদারকির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভা শেষে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন সমস্যা, নাগরিক সেবা এবং চলমান কার্যক্রম নিয়ে মুক্ত আলোচনা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানানো হয়।


সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দিন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ্বাসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।



কমেন্ট বক্স
notebook

দামুড়হুার কুতুবপুরে আগুনে পুড়ে ছাই কৃষকের বসতবাড়ি