জীবননগর উপজেলার সীমান্তবর্তী মাধবখালী গ্রামের ছটাঙ্গা পাড়ার মাঠে জমি দখলচেষ্টার পাশাপাশি মাল্টাগাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজন ও মুক্তার নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে জমিতে থাকা তিনটি মাল্টাগাছ কেটে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জমির মালিক দাবিদার কৃষক আব্দুল খালেক। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজন।
ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল খালেক ও তাঁর ছেলে হাফিজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ১৮ বছর আগে মাধবখালী গ্রামের ফজলুর রহমানের কাছ থেকে আব্দুল খালেক তাঁর স্ত্রীর নামে ১৮ শতক জমি কেনেন। এরপর থেকে ওই জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করে আসছেন তাঁরা। তবে প্রায় এক বছর ধরে রাজন ও মুক্তার ওই জমির মালিকানা দাবি করে জমি দখলের চেষ্টা করছেন। এসময় তাঁরা বিভিন্নভাবে জমির ফসলের ক্ষতি করছেন বলেও অভিযোগ তাঁদের। এ নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে।
আব্দুল খালেক ও তাঁর ছেলে আরও অভিযোগ করেন, গত শনিবার দিবাগত রাতে তাঁদের জমিতে থাকা তিনটি মাল্টাগাছ কেটে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জমি ছেড়ে না দিলে সব ফসল নষ্ট করে দেওয়া এবং মারধরের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বিভিন্নজনের মাধ্যমে। এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে তদন্ত করে সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে রাজন বলেন, আব্দুল খালেক তাঁর বড় চাচার কাছ থেকে ১৮ শতক জমি কিনেছেন, এটি সত্য। তবে জমিটি আটটি দাগে কেনা হয়েছে। ওই জমিতে তাঁর বাবা, চাচা ও ফুফুরাও অংশীদার। আগে জমির শরিকদের মধ্যে বণ্টন না থাকলেও বর্তমানে জমি বণ্টন হয়েছে।
রাজনের দাবি, আব্দুল খালেক আটটি দাগের জমি না নিয়ে একটি দাগের জমি দখল করে চাষাবাদ করছেন। তাঁর বড় চাচার অংশ বাদ দিয়ে অন্য শরিকদের জমি ছেড়ে দিতে বলা হলেও আব্দুল খালেকরা তা মানছেন না। নিজেদের মাল্টাগাছ ও ফসলের ক্ষতি করে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। রাজন আরও বলেন, জমির কাগজপত্র তাঁদের নামে খারিজ করা রয়েছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।
জীবননগর অফিস