সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবসের আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক

উৎপাদনশীলতা না বাড়ালে দেশ এগিয়ে যেতে পারবে না
  • আপলোড তারিখঃ ০৫-১০-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবসের আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক

‘উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও দক্ষতা সমন্বয়’- এই প্রতিপাদ্যে চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা বলেন, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা না গেলে কাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।


গতকাল রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতা হলো নির্দিষ্ট পরিমাণ শ্রম, সম্পদ ও অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে সর্বোত্তম পণ্য ও সেবা উৎপাদন করা। উৎপাদনশীলতার বিষয়টি আমাদের সবার সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, দক্ষ মানবশক্তি এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ের মাধ্যমেই মূলত উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।


তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। জার্মানিতে একজন মানুষ বছরে গড়ে ১ হাজার ৩৪১ ঘণ্টা কাজ করেন এবং ঘণ্টাপ্রতি উৎপাদনশীলতা ৭৪ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে এ হার ৮৪ ডলার এবং নরওয়েতে ১০০ ডলার। বিপরীতে বাংলাদেশে একজন মানুষের ঘণ্টাপ্রতি উৎপাদনশীলতা মাত্র ৮ দশমিক ৭ ডলার। এই অবস্থান থেকে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।


জেলা প্রশাসক বলেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের মাধ্যমে আমরা কৃষিপণ্য, মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমসহ বিভিন্ন পণ্য পাচ্ছি। একইভাবে সরকারি দপ্তরগুলো জনগণকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিচ্ছে। এসব পণ্য ও সেবা কতটা দক্ষতা ও টেকসইভাবে দেওয়া হচ্ছে, সেটিও উৎপাদনশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত।


তিনি আরও বলেন, আমরা যে যেখানে কাজ করি, সেখানেই নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেদিকেও নজর দিতে হবে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবসের প্রচার ও আয়োজন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক বলেন, অন্যান্য দিবসের তুলনায় উৎপাদনশীলতা দিবসের প্রচার-প্রচারণা কম দেখা যায়। এমনকি দিবসটি কীভাবে পালন করা হবে, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত নির্দেশনাও পাওয়া যায় না। মাত্র ৩ হাজার ২০০ টাকা বাজেটে এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিবস পালন করা হচ্ছে। অথচ দেশের উন্নয়নের জন্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে আনা প্রয়োজন। প্রতিটি ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা না গেলে দেশ এগিয়ে যেতে পারবে না।


তিনি বলেন, বর্তমানে যারা কর্মক্ষেত্রে মাঝারি বা নিম্ন পর্যায়ে রয়েছেন, তাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিতে হবে। কীভাবে তাদের দক্ষতা বাড়ানো যায়, তাদের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা যায় এবং সেই উৎপাদনশীলতা কীভাবে টেকসই করা যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমের মূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি প্রত্যেককে নিজস্ব দক্ষতা চর্চা করতে হবে।


লুৎফুন নাহার বলেন, সার্বিক ব্যবস্থাপনাও উন্নত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করতে হবে। দেশের সীমিত সম্পদকে সর্বোচ্চ কাজে লাগিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে উৎপাদনশীলতা সর্বক্ষেত্রে বৃদ্ধি করতে হবে। এ জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজেদের কাজ ও দায়িত্বের দিকে নজর দিতে হবে।


অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম. তারিক-উজ-জামানের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মুছাব্বেরুজ্জামান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফরহাদুর রেজা ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দিন।


সভায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, চুয়াডাঙ্গা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) কামরুজ্জামান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তাজুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন, চুয়াডাঙ্গা বিআরডিবির উপ-পরিচালক জাকিরুল ইসলাম, জেলা সমবায় অফিসার সাহারুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার ওহিদুল ইসলাম, গ্রাম আদালত প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার আছাদুজ্জামান, বিসিকের প্রমোশন কর্মকর্তা রাসেল আহমেদ, বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক নাহিদ হাসান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ^াস, জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) নজরুল ইসলাম, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা সেলিম রেজা, জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন এবং কৃষি বিপণন কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



কমেন্ট বক্স